রাজধানীর গুলিস্তানের জিপিও মোড়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রধান কার্যালয় থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। সেখানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ‘গোপন বৈঠক’ করছিলেন বলে সন্দেহ করছে পুলিশ।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে তাদের আটক করা হয়। একই স্থান থেকে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশের সাবেক সভাপতি আবু জাফর সূর্যকেও আটক করা হয়েছে। পরে আটক ব্যক্তিদের পল্টন থানায় নেওয়া হয়।
এর আগে জাসদ কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়েছেন- এমন অভিযোগে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়ন এবং পল্টন থানা যুবদলের নেতাকর্মীরা কার্যালয়টি ঘিরে রাখেন।
আটকের সময় ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রবিউল ইসলাম নয়ন। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগীরা যাতে ঢাকার কোথাও মিছিল-মিটিং করতে না পারে, সে বিষয়ে ঢাকা মহানগর যুবদলের প্রতিটি ইউনিটকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নয়ন আরও দাবি করেন, সকালে তাদের ‘নেটওয়ার্ক জালে’ আওয়ামী লীগের স্লোগান দিয়ে মিছিল করার বিষয়টি ধরা পড়ে। এরপর তারা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন। পরে জানতে পারেন, জাসদ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সেখানে একত্র হয়ে সভা করছেন।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আটক ব্যক্তিদের থানায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তারা সহযোগিতা করছেন, যাতে ঘটনাস্থলে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি না হয়।
এদিকে জাসদ কার্যালয় ঘিরে রাখার পর সেখানে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের ডিসি হারুন অর রশীদসহ বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য উপস্থিত হন। বিকেল ৪টার দিকে জাসদ কার্যালয় থেকে একে একে অনেককে হাতকড়া পরিয়ে বের করে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন বলেন, জাসদের প্রধান কার্যালয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হয়েছিল এবং সেখানে বহিরাগত অনেকে অবস্থান করছিলেন। সেখানে বৈঠক চলছিল বলেও সন্দেহ করা হয়। এ কারণে ক্রাইম ও গোয়েন্দা পুলিশের যৌথ অভিযান চলছে।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে হেফাজতে নিয়ে পল্টন থানায় নেওয়া হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। অভিযান এখনও চলমান রয়েছে। তথ্য বিশ্লেষণ ও জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
-টিএস