শুরুটা ছিল অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে, শেষটাও হতে পারত তাদেরই। কিন্তু মাঝপথে বদলে গেল পুরো ম্যাচের চিত্র। রান তাড়ায় মাত্র ৯.২ ওভারে ৯০ রান তুলে জয়ের পথে এগিয়ে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। এরপরই কেশভ মহারাজের ঘূর্ণিতে শুরু হয় ব্যাটিং ধস। শেষ পর্যন্ত ৪১.২ ওভারে ২৩০ রানে অলআউট হয়ে ৬৭ রানে হেরে গেল সফরকারীরা।
কিংসমিডে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে এই জয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা।
টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। শুরুতেই সেই সিদ্ধান্তের সুফলও পায় তারা। মাত্র ২৯ রানের মধ্যে টনি ডি জর্জি ও কুইন্টন ডি ককের উইকেট তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা।
এরপর দলের হাল ধরেন ম্যাথিউ ব্রেটজকে। টেম্বা বাভুমার সঙ্গে ৫৪ এবং রায়ান রিকেলটনের সঙ্গে ৪২ রানের জুটি গড়ে ইনিংস সামাল দেন তিনি। বাভুমা করেন ৩০ ও রিকেলটন ২৭ রান।
দলীয় ১৬৮ রানে পাঁচ উইকেট হারানোর পর ব্রেটজকের সঙ্গে জুটি বাঁধেন মার্কো ইয়ানসেন। সেখান থেকেই বদলে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের চেহারা। ষষ্ঠ উইকেটে মাত্র ৮৩ বলে দুজন যোগ করেন ১০৭ রান।
ইয়ানসেন ছিলেন বেশ আক্রমণাত্মক। মাত্র ৫৯ বলে ৭৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। সাতটি চার ও চারটি ছক্কায় সাজানো ছিল তাঁর ইনিংস। অন্য প্রান্তে ধৈর্য ধরে ব্যাট করে নিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে নেন ব্রেটজকে।
শেষ পর্যন্ত ১০৬ বলে ১১২ রান করে রানআউট হন তিনি। ব্রেটজকের সেঞ্চুরি ও ইয়ানসেনের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৯৭ রান সংগ্রহ করে দক্ষিণ আফ্রিকা। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে নাথান এলিস তিনটি এবং অ্যাডাম জাম্পা দুটি উইকেট নেন।
২৯৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। অধিনায়ক মিচেল মার্শ ও ট্রাভিস হেডের ব্যাটে মাত্র ৯.২ ওভারে ৯০ রান তুলে ফেলে তারা।
বিশেষ করে মার্শ ছিলেন দুর্দান্ত ছন্দে। মাত্র ৩৬ বলে ৬০ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। ছয়টি ছক্কা ও পাঁচটি চারে সাজানো ছিল তাঁর ইনিংস। হেডও খেলছিলেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে; ৩৭ বলে করেন ৩৬ রান।
অস্ট্রেলিয়ার স্কোর যখন ৯০, তখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই তাদের হাতে বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু এরপরই আসে বড় পরিবর্তন।
অস্ট্রেলিয়ার এই দুর্দান্ত শুরুতে প্রথম আঘাত হানেন কেশভ মহারাজ। ১০ম ওভারে তাঁর বলে কাভারে ম্যাথিউ ব্রেটজকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মার্শ। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়কের বিদায়ের পরই যেন ম্যাচের গতিপথ বদলে যায়।
এরপর মার্কো ইয়ানসেন ফিরিয়ে দেন ট্রাভিস হেডকে। বিয়র্ন ফরচুনের বলে জশ ইংলিসও ফিরে গেলে অস্ট্রেলিয়ার রান তোলার গতি থেমে যায়।
১২৯ রানে দুই উইকেট থেকে অস্ট্রেলিয়া দ্রুত চলে যায় ১৮৮ রানে ছয় উইকেটে। অর্থাৎ মাত্র ৫৯ রানের ব্যবধানে আরও চারটি উইকেট হারায় তারা।
অস্ট্রেলিয়া তখনও পুরোপুরি ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়নি। ম্যাট রেনশ ৪৪ রান করে দলকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু তাঁর লড়াইও থামিয়ে দেন মার্কো ইয়ানসেন।
ডিপে দুর্দান্ত ডাইভ দিয়ে রেনশের ক্যাচ নেন ইয়ানসেন। ২১৫ রানে সপ্তম উইকেট হারানোর পর অস্ট্রেলিয়ার জয়ের সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যায়।
এরপর আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি সফরকারীরা। ৪১.২ ওভারে ২৩০ রানে অলআউট হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। অর্থাৎ শুরুতে দারুণ গতিতে এগিয়েও শেষ পর্যন্ত শেষ ৯ উইকেটে মাত্র ১০১ রান যোগ করতে পেরেছে তারা।
দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ে বল হাতে সবচেয়ে বড় অবদান রাখেন কেশভ মহারাজ। ৯.২ ওভারে মাত্র ২০ রান দিয়ে চারটি উইকেট নেন বাঁহাতি এই স্পিনার।
তাঁর সঙ্গে বিয়র্ন ফরচুনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ৮ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে নেন দুটি উইকেট। দুই স্পিনারের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা আর বড় জুটি গড়তে পারেননি।
ব্যাট হাতে দলের বিপদের সময় হাল ধরে ১১২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন ম্যাথিউ ব্রেটজকে। তাঁর সেঞ্চুরি এবং মার্কো ইয়ানসেনের সঙ্গে ১০৭ রানের জুটিই দক্ষিণ আফ্রিকাকে লড়াইয়ের মতো সংগ্রহ এনে দেয়।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। কিন্তু মার্শ ও হেডের বিদায়ের পর আর সেই গতি ধরে রাখতে পারেনি তারা। দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিন আক্রমণের সামনে একের পর এক উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ৬৭ রানের হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় অস্ট্রেলিয়াকে।
ফলে প্রথম ওয়ানডে জিতে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা।
এফএস