একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ১৭ কোটি মানুষের নির্বাচিত নেতা হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার স্থানীয় সময় জাতিসংঘ সদর দপ্তরে দেওয়া ভাষণে তিনি একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়বিচারভিত্তিক, গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধ ও কল্যাণমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
মাতৃভাষা বাংলায় দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে তরুণরা নির্ভয়ে, নির্বিঘ্নে তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ খুঁজে পাবে, নারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন পরিচালনা করতে পারবে, প্রতিটি শিশু তাদের সকল সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ নিয়ে বেড়ে উঠবে। সর্বোপরি জনগণ পাবে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জীবনের নিশ্চয়তা।”
তিনি বলেন, “এজন্যই আমরা বলি—‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’।”
ভাষণের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যুদয়, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ পাঁচ দশকের ত্যাগ-তিতিক্ষা ও আন্দোলন-সংগ্রাম এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, “শুরুতেই আমি বাংলাদেশের সকল শহীদ মুক্তিযোদ্ধার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। স্বাধীনতার পর থেকে দেশে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাঁদের অবদানকে বিনম্রচিত্তে স্মরণ করছি।”
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি।
‘জনগণই আমাদের ক্ষমতার উৎস’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময়ের আন্দোলন-সংগ্রামের পথ ধরে বাংলাদেশ বর্তমানে ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে জনগণ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।
তিনি বলেন, “আমি দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণকে অভিনন্দন জানাই। আমরা বিশ্বাস করি, জনগণই আমাদের সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস।”
‘সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই’
রাষ্ট্রের নাগরিকদের ক্ষমতায়ন ছাড়া কোনো রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “জনগণের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা এমন একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, কল্যাণমূলক, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই, যে রাষ্ট্রে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই নিশ্চিন্তে, নিরাপদে সমান অধিকার, সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে সক্ষম হবে।”
তিনি বলেন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সুশাসন, জবাবদিহিতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগ পরিবেশ—সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে। ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব, নিরাপদ ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
‘থ্রি-আর’ কৌশলে বাংলাদেশ পুনর্গঠন
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের শাসন-শোষণের অবসানের পর বাংলাদেশ পুনরায় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। গুম-খুন, অপহরণ, দুর্নীতি, লুটপাট ও অর্থ পাচারের মতো সমস্যার অবসান ঘটিয়ে দেশকে পুনর্গঠনের লক্ষ্যে সরকার Recovery, Restoration ও Reconstruction—এই ‘থ্রি-আর’ কৌশল অনুসরণ করছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সামনে এখন অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুযোগ কাজে লাগিয়ে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরে সরকার ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক ও উদ্ভাবকদের জন্য স্টার্টআপ উদ্যোগ বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরে ৪ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
নারী ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী। তাই দেশের আর্থসামাজিক রূপান্তরে নারীদের সরকারের সব পরিকল্পনার অগ্রভাগে রাখা হয়েছে।
নারী শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য নগদ অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারিত করা হয়েছে। স্নাতক শ্রেণি পর্যন্ত নারীদের বিনা বেতনে শিক্ষার সুযোগ উন্মুক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার শুধু ভোটের গণতন্ত্র নয়, অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নও নিশ্চিত করতে চায়, যাতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির সুফল প্রতিটি পরিবার ও নাগরিকের কাছে পৌঁছে।
এ লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, স্পোর্টস কার্ড ও ই-হেলথ কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালুর কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন কার্ডকে সমন্বয় করে ভবিষ্যতে একটি ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
‘৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলেছে সরকার।
তিনি বলেন, জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)-এর ‘Leave No One Behind’ নীতির সঙ্গে সরকারের ৩১ দফা কর্মসূচির ৭৩ শতাংশ কার্যক্রমের সরাসরি এবং ২৭ শতাংশ কার্যক্রমের পরোক্ষ মিল রয়েছে।
এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে শহর ও গ্রামের উন্নয়ন বৈষম্য দূর করার পাশাপাশি ২০৩০ এজেন্ডার আওতায় জবাবদিহিতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও খেলাধুলায় গুরুত্ব
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও খেলাধুলাকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। দেশের ইতিহাসে এ খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
নৈতিক মানসম্পন্ন কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করতে কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ব্যাগ, স্কুল ইউনিফর্ম ও বিনামূল্যে দুপুরের খাবার দেওয়ার কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শিক্ষা সিলেবাসে ‘স্পোর্টস’ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
গত জুনে সারাদেশে স্কুল শিক্ষার্থীদের নিয়ে মাসব্যাপী ফুটবল টুর্নামেন্টে ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিই আগামী বিশ্বের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। বিশ্ব আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই), বায়োটেকনোলজি ও বিজ্ঞানের নতুন যুগে প্রবেশ করছে। তবে প্রযুক্তির সুযোগ এখনো সবার জন্য সমান নয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী ও ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল সক্ষমতা নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। উন্নত প্রযুক্তি, জ্ঞান ও গবেষণার সুযোগ সবার নাগালের মধ্যে আনা প্রয়োজন।
“আমরা চাই না, আজকের ডিজিটাল বিভাজন আগামী দিনের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের বিভাজনে পরিণত হোক”—বলেন প্রধানমন্ত্রী।
উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে সাশ্রয়ী প্রবেশাধিকার নিশ্চিতের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এআই ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিকাশের সুফল যাতে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগানো যায়, সে জন্য জাতিসংঘের কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন।
জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের ভূমিকা সামান্য হলেও এর বিরূপ প্রভাব বাংলাদেশকে বহন করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, জলবায়ু ন্যায়বিচার, জলবায়ু অর্থায়ন ও অভিযোজন সহায়তার ক্ষেত্রে COP-31 থেকে আরও জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপ আশা করে বাংলাদেশ।
পরিবেশ সুরক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি, ক্লিন ও সোলার এনার্জির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বন্যা-খরা মোকাবিলায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন তিনি।
সুন্দরবনে মিঠা পানির প্রবাহ বৃদ্ধি ও বৃহৎ জলাধারের মাধ্যমে পানি সংরক্ষণের লক্ষ্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্প বাস্তবায়নের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।
‘পারস্পরিক সহযোগিতার বিকল্প নেই’
বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় কোনো দেশই একা নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আঞ্চলিক বাণিজ্য, কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অর্থবহ সহযোগিতার মাধ্যমে দেশগুলো পরস্পরের সমৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
কোভিড-১৯ মহামারির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্ব সমাজকে টিকে থাকতে হলে একে অপরের প্রতি সহায়তা, সহমর্মিতা ও সহযোগিতা অপরিহার্য।
‘জাতিসংঘকে সমঝোতার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখতে চাই’
বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, “আমাদের প্রত্যাশা একটি শান্তিময় বিশ্ব, এমন একটি মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয় বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”
স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধাশীল একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘকে কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখতে চায় বাংলাদেশ।
বিশ্বশান্তি ও ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বাজেট সামরিক খাতে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির জন্য অন্তরায় হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।
ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবির প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের ভূমিকা
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে বাংলাদেশ বহুপাক্ষিকতার নীতিতে অটল।
পিসবিল্ডিং কমিশনের ভাইস-চেয়ার হিসেবে বাংলাদেশ টেকসই শান্তি, সংঘাত প্রতিরোধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি নারীদের সাহসী অংশগ্রহণের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের অঙ্গীকারের কথা জানিয়ে অভিবাসীদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে আরও জোরালো বৈশ্বিক সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।
রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান মিয়ানমারেই
রোহিঙ্গা সংকটকে বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি চাপ হিসেবে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নয় বছরেরও বেশি সময় ধরে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়ে আসছে। এতে দেশের সম্পদ, পরিবেশ, নিরাপত্তা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎস ও উৎপত্তি মিয়ানমারে। তাই এর সমাধানও সেখানেই নিহিত। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদে নিজ ভূমি মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়াই এই সংকটের একমাত্র সমাধান।
জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি দৃঢ় ও কার্যকর সমর্থনের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত তাদের জীবন রক্ষাকারী মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ব্যর্থ হলে অদূর ভবিষ্যতে এটি আরও বড় মানবিক সংকটে রূপ নিতে পারে।
বাবা-মায়ের স্মৃতিচারণ
জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণ করেন।
তিনি বলেন, “জাতিসংঘের এই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে, এই মুহূর্তে, আজ আমি কিছুটা স্মৃতিকাতর। এই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়েই আমার পিতা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং আমার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়া দেশ ও জনগণের পক্ষে ভাষণ দিয়েছিলেন। একইভাবে, আজ আমিও আমার দেশ ও জনগণের স্বার্থের পক্ষে এবং একটি শান্তিময় বিশ্ব সমাজের প্রত্যাশায় এখানে দাঁড়িয়েছি।”
অতীতের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রধানমন্ত্রী বাংলায় ভাষণ দেন। এ সময় তার পরনে ছিল নীল রঙের স্যুট ও লাল স্ট্রাইপের টাই।
ভাষণ দেওয়ার সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, শামা ওবায়েদ, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এসএ