ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তিতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ অন্তর্ভুক্তির জোরালো প্রস্তাব থাকবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী
✎ অবজারভার প্রতিবেদক
⏲ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

আগামী ১২ই ডিসেম্বর গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে নতুন চুক্তিতে বাংলাদেশের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ বা নিশ্চয়তা ধারা অন্তর্ভুক্তির জোরালো প্রস্তাব রাখা হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর তেজগাঁও গুলশান লিংক রোডে আলোকি ভবনে আয়োজিত ‘হাই লেভেল ইভেন্ট ইন বাংলাদেশ রিভার্স পলিউশন কন্ট্রোল কনসারভেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অফ দ্য রিভার্স সারাউন্ডিং ক্যাপিটাল ঢাকা’ শীর্ষক অনুষ্ঠান শেষে তিনি এ কথা জানান৷

গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ১৯৭৭ সালে প্রথম গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। পরবর্তীতে চার থেকে পাঁচ বছর পর পর চুক্তিটি উইথড্র করার পর একটি গ্যারান্টি ক্লজ যুক্ত ছিল, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ কীভাবে পানি পাবে তা সুনির্দিষ্ট ছিল। বাংলাদেশের প্রয়োজনের ক্ষেত্রে দুটি সেট রয়েছে এবং অলমোস্ট সেখানে সবকিছুই আলোচনার সাপেক্ষে সম্পন্ন হয়েছিল।

এরপর ১৯৯৬ সালে ৩০ বছরের জন্য আরেকটি চুক্তি সম্পাদিত হলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেখানে কোনো গ্যারান্টি ক্লজ ইনক্লুডেড ছিল না। তবে দেশের স্বার্থে এবং ফ্রেন্ডশিপ রক্ষার্থে তৎকালীন ও পরবর্তী সরকারগুলো তা কন্টিনিউ করে গেছে, কারণ এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।

চলতি বছরের ১২ই ডিসেম্বর বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের সেন্টিমেন্ট, দেশের স্বার্থ এবং নিজেদের রাইট রক্ষা করে দুই দেশের মধ্যকার চমৎকার ফ্রেন্ডশিপের মাধ্যমে এই চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে সরকার আশাবাদী। যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) ইতিমধ্যে এ নিয়ে কাজ শুরু করেছে। বাংলাদেশ চাচ্ছে দুই দেশের গভীর বন্ধুত্বের ভিত্তিতে দেশের স্বার্থ রক্ষা করে একটি নতুন চুক্তি সম্পাদিত হোক।

গ্যারান্টি ক্লজের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী এ্যানি বলেন, বাংলাদেশ একটি ভাটির দেশ এবং এখানে নদীর ঢাল বেশি হওয়ায় পানি স্বাভাবিকভাবেই উজান থেকে প্রবাহিত হয়। উজান থেকে আসা পানি শীতকালে বা শুষ্ক মৌসুমে কেমন হবে এবং বর্ষা মৌসুমে কেমন হবে, তার একটি সঠিক হিসাব রয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে পানি না পেলে এবং চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ ইনক্লুডেড না থাকলে বাংলাদেশকে মারাত্মক সাফার করতে হবে। পানি না পেলে দেশ মরুভূমিতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে, যার ফলে এগ্রিকালচারাল কার্যক্রম ও মাছের উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং অর্থনৈতিক রূপান্তর থেকে দেশ বিচ্ছিন্ন হয়ে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্ষায় উজানে পানির ঢল নামলে সব গেট একসঙ্গে ছেড়ে দেওয়া হয়। এতে নিম্নাঞ্চল সয়লাব হয়ে বন্যা, অতি প্লাবণ ও ঢলের পানি চলে আসে। ফলে নদী ও খালের পার ভেঙে নদীপাড়ের মানুষের বসতি ও বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ওভারফ্লোতে পড়ে মানুষ চরম বিপদে পড়ে। তাই একটি গ্যারান্টি ক্লজ থাকলে কোন টাইমে কোন ধরনের কত ক্যুসেক পানি প্রবাহিত হবে তা নির্ধারিত থাকবে এবং বাংলাদেশ তার রাইট অনুযায়ী চাহিদা মোতাবেক পানি পাবে।

তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে পানি সম্পদ মন্ত্রী জানান, সরকার ইতিমধ্যে দেশি-বিদেশি একাধিক ফিজিবিলিটি স্টাডি হাতে নিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স নেওয়া হচ্ছে। দ্রুততম সময়ে ফিজিবিলিটি স্টাডি কমপ্লিট করে দৃশ্যমান কাজ শুরু করার দিকে নজর দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের কমিটমেন্ট অনুযায়ী এই কাজ দ্রুত শুরু করতে সরকার কাজ করছে।

প্রকল্পের অর্থায়ন ও বিদেশি আগ্রহের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এখন পর্যন্ত সরকার এই প্রজেক্টটি জিওবি অর্থাৎ নিজস্ব অর্থায়নে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি পরবর্তীতে ইন্টারন্যাশনাল টেন্ডার বা জিটুজি পদ্ধতিতে হতে পারে, যা পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে। বর্তমানে মূল লক্ষ্য হচ্ছে টোটাল ফিজিবিলিটি স্টাডি ও টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স নিশ্চিত করা।


এসএ
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement