
সংগৃহীত ছবি
রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইউক্রেনের দুর্ভোগ ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইউক্রেনের কোনো একটি অঞ্চল দখল করেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন থেমে যাবেন। এমনটা মনে করার কারণ নেই।
জেলেনস্কির দাবি, দোনেৎস্ক দখল করলেও পুতিনের লক্ষ্য সেখানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। তিনি ইউক্রেনের অন্যান্য শহরের দিকেও অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করবেন।
জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে রুশ হামলার ব্যাপকতার কথা তুলে ধরে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ২ হাজার ১০০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে ৯৫০টির বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
রাশিয়ার শাহেদ ড্রোন হামলার প্রসঙ্গে জেলেনস্কি বলেন, এসব আকাশযান প্রায় প্রতি ঘণ্টায় ইউক্রেনের দিকে পাঠানো হচ্ছে এবং ইউক্রেনকে ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে সাত দিন এসব হামলা মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, এসব হামলার লক্ষ্য শুধু সামরিক স্থাপনা নয়; ইউক্রেনের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত করাও এর উদ্দেশ্য। হামলার কারণে শিশুদের স্কুলজীবনও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর উদ্দেশে জেলেনস্কি প্রশ্ন রাখেন, “আপনাদের দেশ কি এমন পরিস্থিতির মধ্যে টিকে থাকতে পারত?”
তিনি আরও বলেন, “ইউক্রেন এই যুদ্ধ বেছে নেয়নি।”
ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর জাতিসংঘে জেলেনস্কি
জেলেনস্কির জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যের আগে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়।
ট্রাম্প এর আগে জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে বলেছিলেন, তিনি রাশিয়া ও ইউক্রেন। দুই পক্ষের সঙ্গেই যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে কাজ করছেন। যুদ্ধের অবসান প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত হতে পারে বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।
তবে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র মস্কোর সঙ্গে পৃথক আলোচনাও চালিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে ওয়াশিংটন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে চলতি বছরের শেষ দিকে মিয়ামিতে অনুষ্ঠেয় জি-২০ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানোর কথা জানিয়েছে।
ফলে জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
এফএস