
সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশের বিদ্যালয়গুলোতে গত এক দশকে নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন (সাবান-পানিসহ হাত ধোয়ার ব্যবস্থা) সুবিধায় বড় অগ্রগতি হয়েছে। তবে হাইজিনে শহর-গ্রামের ব্যবধান এবং গ্রামীণ বিদ্যালয়ে পানি সেবার নিম্নমুখী প্রবণতা নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও ইউনিসেফের যৌথ পর্যবেক্ষণ কর্মসূচি (জেএমপি) প্রকাশিত ‘প্রোগ্রেস অন ড্রিংকিং ওয়াটার, স্যানিটেশন অ্যান্ড হাইজিন ইন স্কুলস ২০১৫-২০২৫’ প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। ইউনিসেফ সম্প্রতি এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৫ সালে বাংলাদেশের ৫৯ শতাংশ বিদ্যালয়ে মৌলিক স্যানিটেশন সুবিধা ছিল। ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৯৪ শতাংশ। একই সময়ে মৌলিক পানি সেবা ৭৫ থেকে ৯৪ শতাংশ এবং সাবান-পানিসহ মৌলিক হাইজিন সুবিধা ৩৭ থেকে বেড়ে ৮৩ শতাংশ হয়েছে।
শহর-গ্রামের ব্যবধান
স্যানিটেশনে শহর-গ্রামের ব্যবধান অনেকটাই কমেছে। ২০১৫ সালে শহরের ৩৬ শতাংশ ও গ্রামের ৩৮ শতাংশ বিদ্যালয়ে মৌলিক স্যানিটেশন ছিল। ২০২৫ সালে তা শহরে ৯২ এবং গ্রামে ৮৯ শতাংশ হয়েছে। পানিসেবায় অবশ্য ভিন্ন চিত্র। শহরের বিদ্যালয়ে এ হার ৮৩ থেকে বেড়ে ৮৯ শতাংশ হলেও গ্রামে ৯১ থেকে কমে ৮৫ শতাংশ হয়েছে।
হাইজিনে শহর-গ্রামের ব্যবধান আরও স্পষ্ট। ২০২৫ সালে শহরের ৬৩ শতাংশ বিদ্যালয়ে মৌলিক হাত ধোয়ার সুবিধা থাকলেও গ্রামে এ হার ৫১ শতাংশ।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হাইজিন বেশি
প্রতিবেদনে বিদ্যালয়ের স্তরভেদেও ব্যতিক্রমী চিত্র পাওয়া গেছে। ২০১৫ সালে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২৯ শতাংশে মৌলিক হাইজিন সুবিধা ছিল, ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৭৫ শতাংশ হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই হার ৩৭ থেকে বেড়ে হয়েছে ৯২ শতাংশ। অর্থাৎ মাধ্যমিকের তুলনায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হাইজিন সুবিধার আওতা ১৭ শতাংশ পয়েন্ট বেশি।
দক্ষিণ এশিয়ার চিত্র
বাংলাদেশসহ মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় বিদ্যালয়ে মৌলিক পানি সেবার আওতা ২০১৫ সালের ৫৬ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে ৮৬ শতাংশ হয়েছে। বৈশ্বিক গড় ৭৮ শতাংশ। স্যানিটেশন সেবাও ৫৭ থেকে বেড়ে ৭৫ শতাংশ হয়েছে। তবে ভারতের সাম্প্রতিক তথ্যের ঘাটতির কারণে এ অঞ্চলের হাইজিন সেবার ২০২৫ সালের প্রবণতা নির্ণয় করা যায়নি।
অঞ্চলটির মধ্যে আফগানিস্তানে মাত্র ৮ শতাংশ বিদ্যালয়ে মৌলিক হাইজিন সুবিধা রয়েছে। পাকিস্তানে স্যানিটেশনে শহর-গ্রামের ব্যবধান ৪৯ শতাংশ পয়েন্ট। অন্যদিকে মালদ্বীপ ও তুর্কমেনিস্তানে স্যানিটেশন সুবিধার আওতা শতভাগ।
বিশ্ব পরিস্থিতি
বিশ্বে ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিদ্যালয়ে মৌলিক পানি সেবা ৬৭ থেকে ৭৮ শতাংশ, স্যানিটেশন ৬৭ থেকে ৭৭ শতাংশ এবং হাইজিন ৫৯ থেকে ৭২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। তারপরও প্রায় ২৪ কোটি ৪০ লাখ শিশু বিদ্যালয়ে মৌলিক স্যানিটেশন সুবিধা থেকে এবং ৩৬ কোটি ২০ লাখ শিশু হাত ধোয়ার ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত।
জেএমপির হিসাবে, বর্তমান গতিতে অগ্রগতি চললে ২০৩০ সালেও বিশ্বে স্যানিটেশন সেবার আওতা প্রায় ৮১ শতাংশে সীমাবদ্ধ থাকবে। তখন প্রায় ৩২ কোটি ৮০ লাখ শিশু বিদ্যালয়ে মৌলিক স্যানিটেশন সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকতে পারে।
বাংলাদেশে গত এক দশকের অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য হলেও গ্রামীণ বিদ্যালয়ে পানি সেবার পতন এবং হাইজিনে শহর-গ্রামের ব্যবধান কমানো আগামী দিনের গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
টিআইএস