রাজধানীর বারিধারায় প্রাইভেটকারের চাপায় ফুটপাতে বসে বিশ্রামরত নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় ওই গাড়িতে থাকা কিশোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে গুলশান জোনের এডিসি আমিনুল হক বাপ্পী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ওই কিশোরের সম্পৃক্ততা পেয়ে আমরা তাকে গুলশান থেকে গ্রেফতার করেছি।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বারিধারা ডিপ্লোমেটিক জোনের ১ নম্বর সড়কে প্রাইভেটকারের চাপায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন মেহেদী হাসান (২৪) নামের ওই নির্মাণশ্রমিক। দুর্ঘটনার পর উপস্থিত জনতা ওই কিশোরকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। যদিও পুলিশ রাতে তাকে ছেড়ে দেয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মেহেদী হাসানের বাড়ি নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার সোনারায় গ্রামে।
সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, কালো রঙের একটি প্রাইভেটকার দ্রুতগতিতে এসে ফুটপাতে বিশ্রামরত মেহেদী হাসানকে চাপা দেয়। পরে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে গাড়ির নিচ থেকে মেহেদীর রক্তাক্ত দেহ বের করেন।
এসময় ক্ষুব্ধ জনতা ওই গাড়িতে থাকা এক কিশোরকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। প্রাইভেটকারটিও জব্দ করা হয়।
ওই কিশোর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন কর্মকর্তার ছেলে জানিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, গাড়িটি ওই কিশোরের পরিবারের। গাড়িটি একজন চালক চালাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, ফুটপাতে বসে থাকা মেহেদী হাসানকে চাপা দেওয়ার পর প্রাইভেটকারটি থেকে দুজন ব্যক্তি নেমে আসেন। গাড়ির ডান পাশ থেকে অর্থাৎ চালকের আসন থেকে নেমে আসে কালো টি-শার্ট পরা এক কিশোর। অন্য পাশ থেকে শার্ট পরা মধ্যবয়সী এক ব্যক্তিকে নেমে আসতে দেখা যায়। আশপাশের লোকজন ছুটে এলে তারা দুজনই প্রাইভেটকারের পাশে যান। পরে ওই কিশোরকে সেখান থেকে একদিকে সরে যেতে দেখা যায়।
এদিকে ঘটনার পর মঙ্গলবার রাতেই নিহত শ্রমিক মেহেদী হাসানের ভাই মোক্তাদির ইসলাম বাদীয় গুলশান থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় ওই কিশোরের নাম উল্লেখ করা না হলেও গাড়িটির চালক হিসেবে আকাশ মারককে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ওই কিশোরের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। পরে গুলশানের বাসা থেকে তাকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ওই কিশোরকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
জানা গেছে, ওই কিশোর গুলশানের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী। তার বাবা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ক্যাপ্টেন। দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেটকারটি তার মায়ের নামে নিবন্ধন করা।
তবে মামলার আসামি আকাশ মারক ঘটনার পর থেকে পলাতক বলে থানা পুলিশ জানিয়েছে।
টিআইএস