ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
মমতা শিবিরের ‘ফুটবলার’, ঋতব্রতদের ‘খাম’: তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর নতুন নাম-প্রতীক
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫৮ পিএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে প্রতীক ও দলীয় নাম নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীর বিরোধে আপাতত ইতি টানল ভারতের নির্বাচন কমিশন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর নতুন নাম হয়েছে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’, প্রতীক ‘ফুটবল খেলোয়াড়’। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর নাম ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’, প্রতীক ‘খাম’।

আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে দুই গোষ্ঠীর প্রার্থীদের নতুন নাম ও প্রতীকেই লড়তে হবে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিজ্ঞপ্তি জারি করে এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

উপনির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের বিবাদমান দুই গোষ্ঠীকে নতুন দলীয় নাম ও প্রতীকের পছন্দের তালিকা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কমিশনে জমা দিতে বলা হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী তিনটি নাম ও দুটি প্রতীকের বিকল্প দেয়। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীও তিনটি নাম ও তিনটি প্রতীকের বিকল্প জমা দেয়।

মমতা শিবিরের পছন্দের তালিকা

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী নামের ক্ষেত্রে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’, ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস মমতা’ এবং ‘তৃণমূল মমতা কংগ্রেস’- এই তিনটি বিকল্প দিয়েছিল।

প্রতীকের ক্ষেত্রে তাদের পছন্দ ছিল ফুটবল খেলোয়াড় ও ক্রিকেট ব্যাট। শেষ পর্যন্ত কমিশন ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক বরাদ্দ করেছে।

ঋতব্রত শিবির পেল ‘খাম’

অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী নাম হিসেবে ‘ন্যাশনালিস্ট তৃণমূল কংগ্রেস’, ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’- এই তিনটি বিকল্প দিয়েছিল।

প্রতীকের জন্য তাদের পছন্দ ছিল খাম, টর্চ ও ব্ল্যাকবোর্ড। কমিশন শেষ পর্যন্ত ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘খাম’ প্রতীক অনুমোদন করেছে।

কেন নতুন নাম ও প্রতীক?

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। বৃহস্পতিবার রাতে নির্বাচন কমিশন অন্তর্বর্তী নির্দেশে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘জোড়াফুল’ প্রতীক আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।

কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠীই ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম বা ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। এর পরই দুই গোষ্ঠীকে বিকল্প নাম ও প্রতীকের তালিকা জমা দিতে বলা হয়।

দুই শিবিরের ভিন্ন প্রতিক্রিয়া

কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে মমতা শিবিরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এটিকে ‘অসাংবিধানিক’ বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, তাঁদের গোষ্ঠী এই নির্দেশ মেনে নিচ্ছে না। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে সামাজিক মাধ্যমে কমিশনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্ত দেখিয়ে দিয়েছে কোনো রাজনৈতিক দলকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে দেখা যায় না এবং বংশানুক্রমে রাজনৈতিক দলের উত্তরাধিকার নির্ধারণ করা যায় না।

তৃণমূলের রাজনৈতিক যাত্রা

১৯৯৮ সালে কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। দলটির ‘জোড়াফুল’ প্রতীকও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের হাতে আঁকা বলে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত রয়েছে।

২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস। এরপর দীর্ঘ সময় রাজ্যের ক্ষমতায় থাকার পর ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর দলীয় বিরোধের জেরে দলটি দুই গোষ্ঠীতে বিভক্ত হয়ে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

-টিএস
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement