দরিদ্র বা সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় বসবাসের সঙ্গে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের অবনতির সম্পর্ক রয়েছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব এলাকার বাসিন্দাদের মস্তিষ্কের বয়স তুলনামূলক বেশি। একই সঙ্গে তাদের মোট মস্তিষ্কের আয়তন কম এবং মস্তিষ্কের রক্তনালিতে ক্ষতির চিহ্ন বেশি।
‘রেডিওলজি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণাটি করেছেন একদল গবেষক। তারা ১৮ থেকে ৯৬ বছর বয়সী প্রায় ৩ হাজার মানুষের মস্তিষ্কের এমআরআই স্ক্যান বিশ্লেষণ করেন।
গবেষণায় বসবাসের এলাকার আর্থসামাজিক অবস্থার সঙ্গে মস্তিষ্কের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের তুলনা করা হয়। এ ক্ষেত্রে ‘এরিয়া ডিপ্রাইভেশন ইনডেক্স’ বা এডিআই ব্যবহার করা হয়েছে। আয়, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও আবাসনসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে একটি এলাকার সুবিধাবঞ্চিত অবস্থার মাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এই সূচক কোনো ব্যক্তির নয়, বরং তিনি যে এলাকায় বসবাস করেন, সেই এলাকার পরিস্থিতি বোঝায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় বসবাসকারীদের মস্তিষ্কের বয়স তুলনামূলক বেশি। তাদের মোট মস্তিষ্কের আয়তনও কম।
গবেষক জন-পল জে. ইউ বলেন, মানুষ কোথায় বসবাস করে, তা তার মস্তিষ্কে পরিমাপযোগ্য প্রভাব ফেলে। বসবাসের পরিবেশ মস্তিষ্কের বয়স ও স্বাস্থ্যের ওপর স্পষ্ট প্রভাব তৈরি করতে পারে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, সুবিধাবঞ্চিত এলাকার বাসিন্দাদের মস্তিষ্কে ‘হোয়াইট ম্যাটার হাইপারইনটেনসিটি’ বেশি। এমআরআই স্ক্যানে দেখা যাওয়া এসব উজ্জ্বল দাগ মস্তিষ্কের ক্ষুদ্র রক্তনালিতে ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত।
জন-পল জে. ইউ বলেন, মস্তিষ্কে এসব দাগ মূলত হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালির ক্ষতির চিহ্ন। উচ্চ রক্তচাপ, ঘুমের সমস্যা ও দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপের কারণে সময়ের সঙ্গে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
গবেষকদের মতে, মস্তিষ্কে এ ধরনের দাগ বেশি থাকলে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, চিন্তাশক্তির সমস্যা এবং ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
গবেষক ইউ বলেন, স্বাস্থ্যসেবা পরিকল্পনা ও সরকারি নীতি তৈরির সময় এলাকার আর্থসামাজিক অবস্থাকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কারণ সুবিধাবঞ্চিত এলাকার মানুষ শুধু ব্যক্তিগত অভ্যাসের কারণে নয়, দীর্ঘদিনের সামাজিক ও কাঠামোগত বৈষম্যের কারণেও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
সূত্র: ইউরোনিউজ
এসএ