ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট নয়, উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা চায় এবি পার্টি
✎ নিজস্ব প্রতিবেদক
⏲ প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৬ পিএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি জনশক্তি রপ্তানিতে কথিত সিন্ডিকেট ব্যবস্থা বাতিল করে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে সব বৈধ ও লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্সিকে কাজের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।

একই সঙ্গে সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয়ের বাইরে শ্রমিকদের কাছ থেকে কোনো অর্থ না নেওয়া এবং বিদেশ যেতে অভিবাসন ব্যয় কমানোর দাবি জানিয়েছে দলটি। তাদের অভিযোগ, ‘সিন্ডিকেট বদলেছে, কিন্তু কাঠামো বদলায়নি।’

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবীর মিলনায়তনে ‘মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি: সিন্ডিকেট, সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। সঞ্চালনা করেন দলের ছায়া সরকার বিষয়ক সমন্বয়ক ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান।

সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন, ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবু আহমেদ, পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব নুরুল আমিন ও ফখরুল ইসলাম এবং সাংবাদিক রাজীব আহমেদ বক্তব্য দেন।

সভাপতির বক্তব্যে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, একটি রিক্রুটিং এজেন্সিকে লাইসেন্স দেওয়ার আগে সরকার নানা ধরনের যাচাই-বাছাই ও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। এরপর লাইসেন্স দেওয়ার পরও যদি এজেন্সিগুলো কাজের সুযোগ না পায়, তাহলে লাইসেন্স দেওয়ার অর্থ কী?

তিনি বলেন, ‘স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে সব লাইসেন্সধারী এজেন্সিকে কাজের সুযোগ দিতে হবে। সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয়ের বাইরে কোনো টাকা নেওয়া যাবে না।’

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে সিন্ডিকেটের অভিযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থে সিন্ডিকেটনির্ভর ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। বিদেশ যাওয়ার আগে শ্রমিকদের যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই ও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ৫ আগস্টের আন্দোলনে প্রবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তারা আন্দোলনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি রেমিট্যান্স পাঠানো বন্ধ রেখে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন।

তিনি বলেন, শ্রমিকরা বিদেশে গিয়ে কঠোর পরিশ্রম করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে দেশে পাঠান। অথচ ধনীদের সন্তানরা বিদেশে পড়তে গিয়ে দেশের অর্থ বাইরে নিয়ে যান। শ্রমিকদের কষ্টার্জিত অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহারের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে তাদের স্বার্থ ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আইসিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবু আহমেদ বলেন, নির্দিষ্ট ২৫টি কোম্পানির মধ্যে জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ সীমাবদ্ধ না রেখে সব বৈধ এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত করা হলে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং শ্রমিকদের বিদেশ যাওয়ার খরচ কমবে। শ্রমিকরা যাতে সহজ, স্বচ্ছ ও কম খরচে বিদেশ যেতে পারেন, সে ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, প্রবাসী শ্রমিকরা সামান্য আয়ের জন্য অসহনীয় কষ্ট করেন। অথচ অনেক ক্ষেত্রে তাদের প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ন্যূনতম মানবিকতাও দেখা যায় না।

তিনি বলেন, প্রবাসী শ্রমিকদের মানুষ হিসেবে না দেখে অনেক ক্ষেত্রে পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। শুধু ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ বলে গর্ব করলেই হবে না, তাদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।

দাতু আমিনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের খবরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করে ফুয়াদ বলেন, প্রবাসীদের নিয়ে কোনো ধরনের ছিনিমিনি খেলা মেনে নেওয়া হবে না। ২৫ কোম্পানির সিন্ডিকেট অবিলম্বে বাতিল করে কম খরচে, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।

পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন অভিযোগ করেন, মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোকে কেন্দ্র করে আবারও পুরোনো সিন্ডিকেট সক্রিয় করা হয়েছে। কোনো অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে ১৭টি কোম্পানিকে অন্তর্ভুক্ত করা হলো, তার জবাব দিতে হবে।

তিনি বলেন, জনগণের সরকার হলে কেন সিন্ডিকেটের কাছে মাথানত করতে হবে? নেপাল ও ফিলিপাইন নিজেদের অবস্থান থেকে শক্তভাবে দাঁড়াতে পারলে বাংলাদেশ কেন পারবে না—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।

বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলাম বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামী লীগ আমলে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট এখনো বহাল থাকা দুঃখজনক। বর্তমান নীতিমালায় সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অপর সাবেক যুগ্ম মহাসচিব নুরুল আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শহীদ জিয়াউর রহমানের সন্তান হিসেবে তিনি আশা করেন, প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেটের বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবেন এবং অতীতের সিন্ডিকেট ভেঙে দেবেন।

সাংবাদিক রাজীব আহমেদ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার, গণমাধ্যমে সিন্ডিকেটের কার্যক্রম এবং প্রবাসী শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় গণমাধ্যমের ভূমিকা তুলে ধরেন।

স্বাগত বক্তব্যে এবি পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আব্দুল ওয়াহাব মিনার বলেন, জীবিকার তাগিদে মানুষ এক দেশ থেকে অন্য দেশে যায়। মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়ার সুযোগ তৈরি করলেও পুরোনো সিন্ডিকেট আবার সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শ্রমিকদের স্বার্থে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও মানবিক অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সভায় এবি পার্টির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।  

Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement