ভারতের দিল্লির সত্যা নিকেতন এলাকায় একটি ভবন ধসে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রোববার দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে দিল্লি ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন সংস্থা।
দিল্লি ফায়ার সার্ভিস জানায়, দুপুর ১টা ৩৩ মিনিটের দিকে ভবন ধসের খবর পাওয়া যায়। প্রায় ১টা ৫০ মিনিটে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে। সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ, ব্রিদিং অ্যাপারেটাস ও ওয়াটার বাউজার ইউনিটসহ একাধিক দল উদ্ধারকাজে নিয়োজিত রয়েছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত আরকে পুরমের বিজেপি বিধায়ক অনিল কুমার শর্মা জানান, ভবনটিতে শিক্ষার্থীদের পেইং গেস্ট (পিজি) আবাসন ছিল। ধ্বংসস্তূপ থেকে অন্তত দুই শিক্ষার্থীকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ভেতরে আটকা থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে কেউ কেউ ফোনও করছেন বলে জানান তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ভবন ধসের আগে বিকট শব্দ শোনা যায়। এরপর পুরো এলাকায় ধুলা ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শিক্ষার্থীদের কান্না ও সাহায্যের আকুতি শোনা যাচ্ছে বলেও জানান স্থানীয়রা।
এক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, ভবনটিতে বেজমেন্ট নির্মাণের কাজ চলছিল। নিচের অংশের কিছু পিলার দুর্বল হয়ে পড়ায় ভবনটি ধসে পড়ে থাকতে পারে বলে তিনি ধারণা করেন। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ধসে পড়া ভবনটি পাঁচতলা একটি ছেলেদের পিজি, যার নাম ‘হোস্টেল ডেজ’। পাশের আরেকটি ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ভবনের ভেতরে থাকা শিক্ষার্থীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন। ঠিক কতজন আটকা পড়েছেন, তা রেজিস্ট্রেশন তথ্য যাচাইয়ের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত জানিয়েছেন, দিল্লি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (ডিডিএমএ), এনডিআরএফ, দিল্লি ফায়ার সার্ভিস, দিল্লি পুলিশ, এমসিডি, ক্যাটস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা সমন্বিতভাবে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাশের একটি ভবনও খালি করা হয়েছে।
এখনও উদ্ধার অভিযান চলছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা শিক্ষার্থীদের দ্রুত উদ্ধারে কাজ করছেন উদ্ধারকারীরা।
এফএস