ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
রয়ালিটি, যন্ত্রপাতির জন্য অনেক খরচ করতে হচ্ছে: ড. ফা হ আনসারী
দুধ ও মাংসের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সেক্স সিমেন ব্যবহারে উদ্যোগী সরকার
✎ তরিবুল ইসলাম সুমন
⏲ প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৪ পিএম
এ আই
X
Advertisement

এ আই

সুষম খাদ্য হিসেবে মাংস, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের উৎপাদন এখনো বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পারেনি। তবে সেই দিকেই অগ্রসর হচ্ছে সরকার। এ অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপর্ণূ অবদান রাখছে কৃত্রিম প্রজনন। কিন্তু সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে এ কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে সেক্স সিমেনের(গাভী/ষাঁড় চিহ্নিতকরণ) বিকল্প নেই। প্রাণিসম্পদের উন্নয়নে সরকার এখন ভাবছে সেক্স সিমেন বা লিঙ্গ নির্ধারণকারী সিমেন ব্যবহারে। যার মাধ্যমে গবাদিপশুর ক্ষেত্রে কাক্সিক্ষত লিঙ্গের (গাভী/ষাঁড়) বাচ্চা পাওয়ার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ বৃদ্ধি করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের সিমেন ব্যবহার করে বাচ্চা উৎপাদনে সাফল্য পাওয়ার হার সব সময় এক নাও হতে পারে এবং এর থেকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যাও দেখা যেতে পারে। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশে গবাদিপশুর প্রজননে পরীক্ষামূলকভাবে সেক্স সিমেন ব্যবহারের কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ পদ্ধতিতে গাভীর প্রজননকালে স্ত্রী-অংশ (এক্স ক্রোমোজোম) সমৃদ্ধ সিমেন ব্যবহার করে শুধু মেয়ে বাছুর পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। ফলে, দুগ্ধ খামারগুলোতে অধিক দুধ উৎপাদনকারী গাভীর সংখ্যা বৃদ্ধি করা সম্ভব। এই প্রযুক্তি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে এবং মাঠ পর্যায়ে এর ব্যবহার সীমিত। বিভিন্ন গবেষণা ও পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে দেখা গেছে, সেক্স সিমেন ব্যবহারের ফলে গাভীর গর্ভধারণের হার কিছুটা কম হতে পারে, তবে এটি নির্ভর করে সিমেনের গুণগতমান এবং প্রজনন ব্যবস্থাপনার ওপর। বাংলাদেশে কৃত্রিম প্রজনন একটি জনপ্রিয় পদ্ধতি এবং সেক্স সিমেন এই পদ্ধতির একটি উন্নত সংস্করণ। এটি মূলত উন্নত জাতের ষাঁড়ের সিমেন গাভীর প্রজনন অঙ্গে স্থাপন করে বাছুর উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। এই পদ্ধতিতে ভালো ফলাফলের জন্য, সিমেনের গুণগতমান, প্রজননক্ষম গাভী এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ খুবই জরুরি। যদি এই প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে সফলভাবে ব্যবহার করা যায়, তবে এটি দেশের গবাদিপশু পালন এবং দুগ্ধ শিল্পে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান বলেন, দেশে প্রাণিসম্পদের উন্নয়নে বেশ আগে থেকেই কৃত্রিম প্রজননের কাজ করছে সরকার। তবে এখনো আমরা দুধ ও মাংস উৎপাদনে কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জন করতে পারিনি। তবে এ জন্য আমাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বিশ্বে অনেক দেশেই সেক্স সিমেন বা বা লিঙ্গ নির্ধারণকারী সিমেন (পুরুষ বা মহিলা) বাচ্চা সংগ্রহের বিষয়টি ব্যাপক অগ্রসর হলেও আমাদের দেশে ততটা হয়নি। সরকারিভাবে সেক্স সিমেন নিয়ে আমাদের সিলেটের সরকারি খামারে কাজ হয়েছে। সেটা যে খুব একটা সফল হয়েছে সেটা নয়। সেখান থেকে আমরা বেশ কিছু বাচ্চা পেয়েছি। তবে এ জন্য যেসব প্রযুিক্ত প্রয়োজন তা বেশ ব্যয়বহুল। সম্প্রতি এবিষয়টি নিয়ে আমাদের সঙ্গে বেসরকারি উদোক্তা ও ব্যবসায়ীদের বৈঠক হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষে থেকে এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে দুধ ও মাংস উৎপাদনে কাক্সিক্ষত অর্জনে সেক্স সিমেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার রাখতে পারে। তবে কৃত্রিম প্রজননের বিষয়টিকে আরো গুরুত্ব দিয়ে আমরা কাজ করছি। তবে আমরা আমাদের বাজেটে সেক্স সিমেন বিষয়ে বরাদ্দের জন্য মন্ত্রণালয়ের কাছে আহ্বান জানান।
তিনি আরো বলেন, সরকারেও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তার পরেও আমরা চাই এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতে  এক্ষেত্রে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান এই মহাপরিচালক।

ডেইরি অ্যান্ড ফ্যাটেনিং ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি ইকবাল হোসেন বলেন, দেশ তথা দুধ ও মাংসের স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য কৃত্রিম প্রজননের গুরুত্ব অপরিসীম। আর এ জন্য সেক্স সিমেন নিয়ে আসতে পারে বিপুল সম্ভাবনা। ফলে দেশের খামারিরা লাভবানে হওয়ার পাশাপাশি দেশ হবে দুধ ও মাংসে স্বয়ংসম্পূর্ণ। তবেই আমরা নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানির সুযোগ তৈরি করতে পারবে। সম্প্রতি এ বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টার সঙ্গে কথা হয়েছে তিনি এ বিষয়ে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।

তিনি আরো বলেন, সেক্স সিমেন ব্যবহারে বিশ্বের অনেক দেশ দুধ ও মাংস উৎপাদন করে নিজেদের অতিরিক্ত রফতানি করছে। শুধু গরু নয়, অনেক দেশ মহিষের ক্ষেত্রেও সেক্স সিমেন ব্যবহার করে অনেক ভালো করছে। আমাদের দেশেও এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। 

ডেইরি অ্যান্ড ফ্যাটেনিং ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা এখনও দুধ ও মাংসের চাহিদার বিবেচনায় অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছি। সরকারে পক্ষ থেকে কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম পরিচালনা করলেও প্রান্তিক পর্যায়ে এখনও কাক্সিক্ষত উৎপাদন নিশ্চিত হয়নি। এ কারণে সরকারিভাবে সেক্স সিমেন প্রযুক্তির ব্যবহার করতে হবে। আমাদের আশপাশের সব দেশে এ প্রযুক্তি ব্যবহারে অনেকটা অগ্রসর হলেও আমাদের দেশে প্রচলন নেই বললেই চলে। দু-একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এই সিমেন আমদানি করলেও খামারি পর্যায়ে অনেক বেশি দাম দিতে হচ্ছে। ফলে আমাদের প্রান্তিক খামারিরা প্রাণিসম্পদের উন্নয়নে পিছিয়ে পড়ছে। ফলে পুষ্টি গ্রহণে দেশের মানুষকে অতিরিক্ত অর্থ ও শ্রম দিতে হচ্ছে।  

বেসরকারি পর্যায়ে কৃত্রিম প্রজননে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এসিআই এগ্রিবিজনেসেসের প্রেসিডেন্ট ড. ফা হ আনসারী বলেন, দেশে প্রাণিসম্পদের উন্নয়নে কৃত্রিম প্রজনন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি সেরকাকরি প্রতিষ্ঠানও কাজ করছে। এক্ষত্রে এসিআইও কৃত্রিম প্রজনন নিয়ে কাজ করছে। এসিআই উন্নত মানের প্রুভেন বুল ব্যবহার করছে। আমাদের ফার্টিলিটি ৭০-৭২ শতাংশ। এসিআই যুক্তরাষ্ট্র থেকে সেক্স সিমেন বা লিঙ্গ নির্ধারণকারী সিমেন আমদানি করছে। তবে এক্ষেত্রে যে প্রতিষ্ঠান থেকে এগুলো আমদানি করতে হয় সে প্রতিষ্ঠান থেকে ন্যূনতম ২ লাখ (মাত্রা) সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এছাড়াও রয়ালিটি, যন্ত্রপাতির জন্য অনেক খরচ করতে হচ্ছে। তবে এই সিমেন ব্যবহারে একজন খামারি নিশ্চিত হতে পারে তার খামারে আসা বাচ্চাটি (গাভী/ষাঁড় ) হবে। তবে খরচ বেশি হলেও সরকারে উচিত এর ব্যবহার বৃদ্ধি করা। সরকার এক্ষেত্রে এগিয়ে এলে খরচও অনেকটা কমে যাবে।

টিএস
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement