রাজশাহীর বাঘা উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ফাতেমা খাতুন লতাকে চেক জালিয়াতির মামলায় ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) রাজশাহীর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মামুনুর রশিদ এ রায় ঘোষণা করেন।
ফাতেমা খাতুন লতা উপজেলা পরিষদের সাবেক নারী ভাইস চেয়ারম্যান এবং বাঘা পৌরসভার নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা। কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ফাতেমা খাতুন লতা রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি ফাতেমা খাতুন লতা তাঁর নিকটাত্মীয় বাঘা উপজেলার আমোদপুর গ্রামের নুরুজ্জামানের কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা ধার নেন। এর বিপরীতে তিনি একটি চেক দেন। নির্ধারিত সময়ে চেকের টাকা পরিশোধ না হওয়ায় নুরুজ্জামান বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ২১৩০/২০২৪।
প্রায় আড়াই বছর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সোমবার মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে ফাতেমা খাতুন লতাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং ২৫ লাখ টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট মমিনুল ইসলাম বলেন, মামলা বিচারাধীন থাকাকালে ফাতেমা খাতুন লতা নিয়মিত আদালতে হাজির হননি। তাঁর বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি থাকার পরও তিনি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। পরপর ছয়টি ধার্য তারিখে তিনি আদালতে হাজির হননি। পরে মামলার শুনানি ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত তাঁকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেন।
ফাতেমা খাতুন লতার বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে আরও দুটি চেক প্রতারণার মামলা রয়েছে। ২০২৫ সালের ১০ মার্চ নিলুফা ইয়াসমিনের দায়ের করা মামলায় রাজশাহী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম ফাতেমা খাতুন লতাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে ১০ দিন হাজতবাসের পর আপিলের মাধ্যমে তিনি জামিনে মুক্ত হন।
নিলুফা ইয়াসমিনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাম্মি হোসেন বলেন, ফাতেমা খাতুন লতার বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ নেওয়া ও চেক সংক্রান্ত একটি মামলা উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ওই মামলায় ২০ লাখ টাকা পাওনার দাবি করা হয়েছে। একই ঘটনায় নিম্ন আদালতে ১৫ লাখ টাকার আরও একটি মামলা রয়েছে বলে এই মামলার বাদী মামুন হোসেন জানান।
রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন মিস অরিন এবং বাদীপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মমিনুল ইসলাম।
এএইচ/আরএন