ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
ভর্তুকি ছাড়াতে পারে ৬০ হাজার কোটি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসে পাওনা ৪৭ হাজার কোটি টাকা
জ্বলছে দেশের অর্থনীতি
✎ তরিকুল ইসলাম সুমন
⏲ প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৪:১৭ পিএম
এ আই
X
Advertisement

এ আই

বাংলাদেশের অর্থনীতি জ্বালানি নির্ভর। এ জ্বালানি কেবল বিদ্যুৎ ও শিল্পের জ্বালানি নয়, এটি জাতীয় উন্নয়নের প্রাণশক্তি। দীর্ঘদিন আওয়ামী সরকারর শাসন, রাজনতিক অস্থিরতা এবং  বৈশ্বিক যুদ্ধাবস্থায় দেশের অর্থনীতি প্রায় নিমজ্জিত। নতুন বিনিয়োগ না থাকা। বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের মধ্যে বিভিন্ন সেক্টরে সরকারের ভর্তুকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিমাসে এখাতে ব্যয় করতে হচ্ছে ৮ হাজার কোটি টাকা। ফলে জ্বালানিতে টান পড়ছ। ব্যবসা-বাণিজ্যেও চলছে একরকম স্থবিরতা। ভোগ্যপণ্যের বাজারেও নেই স্বস্তি। ফলে বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয়। 

বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম সমন্বয় করছে সরকার। কোনো মাসে বাড়ছে আবার কোনো মাসে কমছে। তিন্তু তার পরেও সংকট থেকেই যাচ্ছে। জ্বালানি সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একের পর এক শিল্প প্রতিষ্ঠান, দীর্ঘদিন ধরেবন্ধ দেশের ৬ টি সার কারখান। কৃষি কাজ সারের যোগ দিতে সরকারকে হিমসীম থখেতে হচ্ছে। দীর্ঘ দিন ধরে চলছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি)র । এক্ষেত্রেও অতিরিক্ত দামে কেনা হচ্ছে এলএনজি।  যার প্রভাব দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর। কারণ বাজারে সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে পরিবহন খরচ বাড়বে। আর পরিবহন খরচ বাড়লে চাল, ডাল, তেল, সবজি, মাছ-মাংস সবকিছুর দাম বাড়ে। এটিকে বলে ‘কস্ট-পুশ ইনফ্লেশন’। দূর থেকে আসা পণ্য যেমন- পেঁয়াজ, আলুসহ সব ধরনের সবজি জাতীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎপাদনকৃত পণ্য বা আমদানিকৃত পণ্য সবকিছুর দাম বাড়তে শুরু করেছে। ফলে মধ্যবিত্তের মাসিক বাজেটে টান পড়বে, জীবন হয়ে পড়বে ঋণনির্ভর।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি বা বাপেক্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের মোট প্রমাণিত গ্যাস মজুদ প্রায় ২৮ ট্রিলিয়ন ঘনফুট থেকে ইতোমধ্যে ২০ ট্রিলিয়নের বেশি উত্তোলন করা হয়েছে। বাকি মজুদ থেকে গ্যাস আহরণের হার ও নতুন অনুসন্ধান কার্যক্রমের ধীরগতির কারণে আগামী এক দশকের মধ্যেই দেশ মারাত্মক গ্যাসসঙ্কটে পড়তে পারে।

সম্প্রতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, দেশে অবশিষ্ট মজুত গ্যাসের পরিমাণ ৭ দশমিক ৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। যা তা ১২ বছর সরবরাহ করা সম্ভব হবে। বর্তমানে দেশে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুত ২৯ দশমিক ৭৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ২২ দশমিক ১১ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে।  পেট্রোবাংলা কর্তৃক ৫০ থেকে ১০০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মপরিকল্পনার আওতায় ২৬টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট কূপগুলো খনন এবং ওয়ার্কওভারের লক্ষ্যে কার্যক্রম বিভিন্ন পর্যায়ে চলমান। সবচেয়ে বড় ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে বিবিয়ানা, তিতাস, জালালাবাদ, হবিগঞ্জ ও রশিদপুর। বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র (চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে) এককভাবে দেশের মোট গ্যাস উৎপাদনের প্রায় ৪৫ শতাংশ জোগান দেয়। কিন্তু এই ক্ষেত্রটিতেও রিজার্ভ দ্রুত কমছে। তিতাস ক্ষেত্রের প্রাথমিক রিজার্ভ ছিল ৬ দশমিক ৩৬ টিসিএফ, যা এখন নেমে এসেছে প্রায় ১ দশমিক ১ টিসিএফে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়,  বর্তমানে দেশে মোট গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪০০ কোটি ঘনফুট,  দৈনিক ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০০ কোটি ঘনফুট। দেশে উৎপাদিত গ্যাসের বড় অংশ আসে তিনটি প্রধান কোম্পানির মাধ্যমে। এর মধ্যে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি (বিজিএফসিএল), সিলেট গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (এসজিএফএল) ও বাপেক্স। বর্তমানে দেশের মোট উৎপাদনের ৮০ শতাংশের বেশি আসে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে, যেমন- শেভরন, টাল্লো ও গ্যাজপ্রম।

গ্যাস অনুসন্ধান ও নতুন কূপ খননে নেই অগ্রগতি 

বাংলাদেশে সর্বশেষ বড় গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয় ২০০০ সালের শুরুর দিকে। এরপর ছোট ছোট কয়েকটি ক্ষেত্র (যেমন শ্রীপুর, ভোলায়) আবিষ্কার হলেও সেগুলোর উৎপাদনক্ষমতা সীমিত। সরকার চলতি বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের মধ্যে নতুন ৫০টি কূপে ওয়ার্কওভার ও খননকার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দিয়েছে, যার লক্ষ্য দৈনিক উৎপাদন ৬৪ কোটি ৮০ লাখ ঘনফুট পর্যন্ত বাড়ানো। এ ছাড়া ২০২৮ সালের মধ্যে আরো ১০০টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০১৪ সালে মিয়ানমারের সাথে সামুদ্রিক সীমা নির্ধারণের পর বাংলাদেশে প্রায় ২৬টি ক্লক পাওয়া গেছে, এর মধ্যে মাত্র তিনটি ব্লকে আংশিক জরিপ হয়েছে। ভারত ও মিয়ানমার তাদের অফশোর অংশে ইতোমধ্যেই গ্যাস উত্তোলন শুরু করেছে, অথচ বাংলাদেশ এখনো বাণিজ্যিক অনুসন্ধান পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি।

নির্ভরশীলতা বাড়ছে আমদানিতে 

নিজস্ব উৎপাদন হ্রাস ও চাহিদা বাড়ায় দেশ এখন ক্রমেই নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে আমদানি করা এলএনজির (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) ওপর। ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো এলএনজি আমদানি শুরু হয়, বর্তমানে দৈনিক সরবরাহের প্রায় ২৫ শতাংশই আসে আমদানিকৃত গ্যাস থেকে। রূপান্তরযোগ্য টার্মিনালের মাধ্যমে কাতার ও ওমান থেকে আমদানি করা এই এলএনজি আবার জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হয়। কিন্তু বৈশ্বিক বাজারে গ্যাসের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এই আমদানিনির্ভরতা দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। 

চাপ বাড়ছে দেশের অর্থনীতিতে 

গ্যাসসঙ্কট এখন শুধু জ্বালানি সমস্যা নয়, বরং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় হুমকি। শিল্প কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় রফতানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে গার্মেন্ট, সিমেন্ট, কাচ, সিরামিক ও সার কারখানাগুলো গ্যাসের ঘাটতির কারণে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় লোডশেডিং বেড়েছে, যা গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক খাত উভয়েই ভোগ করছে। এ ছাড়া গ্যাস আমদানিতে ডলারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও চাপ বাড়ছে। এর সাথে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উচ্চ উৎপাদন খরচের কারণে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর চাপ তৈরি হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তার ওপর পড়ছে।

এলএনজি পরিস্থিতি

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) সূত্র বলছে, এলএনজি থেকে দিনে সর্বোচ্চ ১১০ কোটি ঘনফুট সরবরাহের অবকাঠামো আছে। এর জন্য মাসে ১১টি এলএনজি কার্গো (জাহাজ) আনতে হয়। এ মাসে আনা হচ্ছে ৯টি কার্গো। এর মধ্যে খোলাবাজার থেকে ৮ কার্গো এলএনজি কেনা হয়েছে। আর কাতারের সঙ্গে দ্বিতীয় চুক্তির অধীন অ্যাঙ্গোলা থেকে একটি কার্গো আসার কথা রয়েছে। বিদ্যুৎ, বাড়ছে ভর্তুকির চাপ
দেশে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদ্যুৎ ও গ্যাসে ভর্তুকি রাখা হয়েছে মোট ৪৩ হাজার কোটি টাকা। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে বাড়তি দামে জ্বালানি আমদানি ও বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত আরো ৩৪ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ। এর মধ্যে বিদ্যুৎ খাতে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত অতিরিক্ত ২০ হাজার কোটি ও গ্যাস খাতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিতে জুন পর্যন্ত লাগবে বাড়তি ১৪ হাজার কোটি টাকা। সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে অতিরিক্ত আরো ৩৪ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির প্রয়োজন হবে। চলতি অর্থবছরে মূল বাজেটে বিদ্যুৎ খাতের জন্য ভর্তুকি বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৭ হাজার কোটি টাকা। গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ২৬ হাজার কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। প্রতি মাসে অর্থ বিভাগ ভর্তুকি বাবদ ৩ হাজার ২৫০ কোটি টাকার কিছু বেশি অর্থ ছাড় করছে। এ অর্থের সঙ্গে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত অতিরিক্ত আরো ২ হাজার কোটি টাকা করে ভর্তুকি চাওয়া হয়েছে। সেই হিসেবে (মার্চ-ডিসেম্বর) মোট ১০ মাসে ২০ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রয়োজন বিদ্যুৎ বিভাগের।

পেট্রো-বাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, দৈনিক সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ কোনোভাবেই ৩ হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি বাড়ানো যাচ্ছে না। কিছু কিছু কূপ সংস্কার করে উৎপাদন কিছুটা বাড়ানো যাচ্ছে। কিন্তু অন্যদিকে সচল কূপগুলোর উৎপাদন কমছে। ফলে ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে আমদানির দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে।

সমুদ্রে নেই অনুসন্ধান

তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় সাগরের গভীর অংশ ১৫টি এবং অগভীর অংশ ১১টি ব্লকে ভাগ করা হয়েছে। ১৯৯৮ সালে বঙ্গোপসাগরের সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলন শুরু হলেও কয়েক বছরের মধ্যে তা জটিলতায় পড়ে। ২০১৩ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে সাগরের আর কোনো গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়নি। সর্বশেষ ২০২৪ সালের শুরুতে আন্তর্জাতিক টেন্ডারে সাতটি কোম্পানি আগ্রহ দেখালেও শেষ পর্যন্ত কেউ দরপত্র জমা দেয়নি।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলন, বাংলাদেশকে জ্বালানি আমদানি বাজারে পরিণত করার অব্যাহত প্রচেষ্টার ফলেই আজকের এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।  এখন মানুষও ভোগান্তির মধ্যে পড়ছে। বর্তমান সরকারও আগের সরকারের নীতিতে রয়েছে। গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের অর্থও খরচ করা হচ্ছে না। বিদেশিরা এসে আমাদের দেশে গ্যাস উত্তোলন করতে পারছে। কিন্তু আমরা পারছি না কেন? এসবের মধ্যে ভয়ংকর দুরভিসন্ধি রয়েছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, শিল্প ও কৃষি উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয়, সেটি সরকারের অগ্রাধিকার বিবেচনায় আছে। তাই সেভাবেই জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ খাতে বাড়াতে গিয়ে শিল্পে গ্যাস সরবরাহ কমানো যাবে না। চাহিদামতো গ্যাস সরবরাহ ধরে রাখতে এলএনজি আমদানি বাড়ানো হচ্ছে।

টিএস

Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement