সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ঘিরে স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে ‘সরকারি মাল, দরিয়ায় ঢাল’ হিসেবে দেখার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দিনাজপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় প্রধান শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষকরা অনেক সময় দল করে, মব করে আন্দোলনের মতো একটা অবস্থা তৈরি করেন। এটা আপনাদের সম্মানের সঙ্গে যায় না। তিনি বলেন, এলাকাবাসীদের স্কুলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সঙ্গে তেমন সম্পৃক্ত নন। অথচ পাশের বেসরকারি স্কুলটি দরিদ্র হলেও এলাকাবাসী সেই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকেন এবং স্কুলের খোঁজখবর রাখেন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এমন সম্পৃক্ততা দেখা যায় না।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি মাল দরিয়ায় ঢাল—এই জিনিসটা আমরা আর দেখতে চাই না।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষকদের যথাযথ মূল্যায়ন করবে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের পুরোনো শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনগণকে স্কুলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ববি হাজ্জাজ জানান, ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। স্কুল ফিডিংয়ের মাধ্যমে কোনো শিশু যেন বিদ্যালয়ের বাইরে না থাকে এবং ঝরে পড়ার হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হবে।
ম্যানেজিং কমিটি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ম্যানেজিং কমিটি কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়। স্কুল এলাকার মানুষের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে এই কমিটি গঠন করা হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো এলাকাবাসীকে বিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা। এলাকাবাসী স্কুলের সঙ্গে যুক্ত থাকলে বিদ্যালয়টি আরও ভালোভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
ফিডিং কর্মসূচিতে নিম্নমানের খাবারের অভিযোগ
মতবিনিময় সভায় উন্মুক্ত আলোচনার সুযোগ দেওয়া হলে কয়েকজন প্রধান শিক্ষক স্কুল ফিডিং কর্মসূচি নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন।
তারা বলেন, ফিডিং কর্মসূচির সঙ্গে প্রধান শিক্ষকদের তেমন সম্পৃক্ততা নেই। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ঠিকাদার শিশুদের নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করছেন। কলা ছোট ও কাঁচা দেওয়া, ডিমের আকারে তারতম্য এবং ডিম ঠিকমতো সিদ্ধ না হওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের কথাও জানান শিক্ষকরা।
শিক্ষকদের অভিযোগ, ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে এসব বিষয়ে কথা বলতে গেলে তারা রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব দেখান এবং শিক্ষকদের অভিযোগকে গুরুত্ব দেন না।
শিক্ষকদের এসব অভিযোগ শোনার পর প্রতিমন্ত্রী বিষয়গুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ কামরুল হাসান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচি প্রকল্প পরিচালক মো. আবুল আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (বাজেট ও অডিট) মিজ ইসরাত জাহান এবং দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা।
এএইচ/আরএন