কিশোরগঞ্জের ভৈরবে একটি বাজারের নামকরণকে কেন্দ্র করে মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার দুপুরে কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আকবরনগর ও মিরারচর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় কয়েকটি দোকানপাট ও বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের পাশে কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নে অবস্থিত একটি বাজারের নামকরণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। কয়েক বছর আগে স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে বাজারটির নাম ‘আকবরনগর-মিরারচর’ রাখা হয়।
সম্প্রতি আকবরনগর গ্রামের বাসিন্দারা বাজারটির নাম শুধু নিজেদের গ্রামের নামে করার দাবি তোলেন। অন্যদিকে মিরারচর গ্রামের বাসিন্দারা ‘মিরারচর-আকবরনগর’ নামের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এ নিয়ে কয়েকদিন ধরে দুই গ্রামের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।
এর আগে গত ২৭ জুলাই একই বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দিনভর সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় মিরারচর গ্রামের মাসুদ মিয়া (৩৫) ও হিরণ মিয়া (৩০) নিহত হন। পরদিন মিরারচর গ্রামের বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে আকবরনগর গ্রামের শতাধিক বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভৈরব থানায় দুটি হত্যা মামলা করা হয় এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, আগের ঘটনার পর কিছুদিন পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও দুই গ্রামের মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি কাটেনি। রোববার দুপুর ১টার দিকে মাইকে ঘোষণা দেওয়ার পর দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে সংঘর্ষ। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। এ সময় কয়েকটি দোকান ও বাড়িঘরে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করা হয়।
কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. লিটন বলেন, বাজারের নাম নিয়ে এর আগেও দুই গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষে দুজনের প্রাণ গেছে। আবারও একই বিষয়কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও প্রশাসনের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, বাজারের নামকরণ নিয়ে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।
এফএস