খুলনায় গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবসের কর্মসূচিতে বক্তারা বলেছেন, গুমের শিকার হয়ে যারা এখনো ফিরে আসেননি, অবিলম্বে তাদের স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। একই সঙ্গে গুম থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ এবং তাদের পরিবারকে পুনর্বাসনের দাবি জানান তারা।
বক্তারা বলেন, গুমের শিকার কোনো ব্যক্তি জীবিত না থাকলে রাষ্ট্রকে অবশ্যই বিষয়টি তার পরিবারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে হবে। রাষ্ট্র এসব বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে দেশে আবারও ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি গুমের সংস্কৃতি ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ছাড়া প্রস্তাবিত গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৫-এর ১৪(৩) ও ২১ ধারা সংশোধন করে বিতর্কমুক্ত ও কার্যকর আইন প্রণয়ন এবং তা জাতীয় সংসদে পাস করার দাবি জানান বক্তারা।
গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে রোববার (৩০ আগস্ট) মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর খুলনা ইউনিট মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। বেলা ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবের সামনে সড়কে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ‘অধিকার’ খুলনা ইউনিটের ফোকালপারসন ও সাংবাদিক মুহাম্মদ নূরুজ্জামান। তিনি ‘অধিকার’ কর্তৃক প্রস্তুত করা দিবসের বিবৃতি পাঠ করে শোনান।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, মোংলায় কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে মিরাজ শেখ নামে এক জেলে ও মোটরসাইকেলচালককে গুমের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে মিরাজ শেখকে দ্রুত তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তারা।
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সহকারী মহাসচিব ও আমার দেশ-এর খুলনা ব্যুরো প্রধান এহতেশামুল হক শাওন, বিএফইউজের সাবেক সহসভাপতি, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার সভাপতি ও মানবজমিনের ব্যুরো প্রধান মো. রাশিদুল ইসলাম, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) খুলনা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক এসকে তাসাদুজ্জামান, গণসংহতি আন্দোলনের খুলনা জেলা শাখার যুগ্ম সদস্যসচিব আল-আমিন এবং খুলনা থানায় পুলিশের নির্যাতনের শিকার এসএম মাহমুদুল হক টিটোসহ অনেকে।
-টিএস/এসএম