খুলনার দিঘলিয়ায় নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধ এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে দিঘলিয়া উপজেলা মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্যোগে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনার জেলা প্রশাসক মিজ্ হুরে জান্নাত। সভাপতিত্ব করেন দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন দাস গুপ্ত।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মিজ্ হুরে জান্নাত বলেন, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা এবং বাল্যবিবাহ সমাজের জন্য বড় ধরনের সমস্যা। এসব প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, কোথাও বাল্যবিবাহ বা নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার ঘটনা ঘটলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। এসব অপরাধ প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন দাস গুপ্ত বলেন, বাল্যবিবাহ বন্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণকে আরও সচেতন হতে হবে। নারী ও শিশুর জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। বাল্যবিবাহ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নবনীতা দত্ত। তিনি নারী ও শিশুর অধিকার, বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক এবং সহিংসতা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার মেহেদি হাসান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মাহবুবুল আলম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাহমুদা সুলতানা, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা স্নিগ্ধা খাঁ বাবলী, উপজেলা প্রকৌশলী আবু তারেক সাইফুল কামাল, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা খন্দকার জহিরুল ইসলাম, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মোনায়েম খান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. জামাল হুসাইন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সোহাগ হোসেন এবং উপজেলা তথ্য ও যোগাযোগ কর্মকর্তা পুষ্পেন্দু দাসসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে প্রিন্ট ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ বন্ধ, নারী ও শিশুর অধিকার সুরক্ষা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
-টিএস/ওয়াইএম