মোংলা বন্দর ব্যবহার করে গাড়ির যন্ত্রাংশের মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে খণ্ডে খণ্ডে আমদানি করা চারটি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। জব্দ হওয়া গাড়িগুলোর মধ্যে রয়েছে বিএমডব্লিউ, লেক্সাস, রেঞ্জ রোভার ও টয়োটা।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এনবিআর। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকার ক্রাউন অটোমোবাইল সার্ভিসেস নামের একটি প্রতিষ্ঠান গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানির মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে খণ্ড খণ্ড করে বিলাসবহুল চারটি গাড়ি মোংলা বন্দরে আনে। পরে যন্ত্রাংশ হিসেবে সেগুলো ছাড় করানোর চেষ্টা করা হয়।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এনবিআর ও মোংলা কাস্টমস হাউজ কর্তৃপক্ষ চালানটি শনাক্ত করে। এ সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার এবং বিআরটিএ ও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) বিশেষজ্ঞ কারিগরি দলের সহায়তায় গাড়িগুলো জব্দ করা হয়।
মোংলা কাস্টমস হাউজ সূত্রে জানা যায়, জাপানের ‘মাহি কার পোর্ট’ থেকে চালানটি মোংলা বন্দরে আসে। সি-৬৯০৪ নম্বর বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে গেন্ডারিয়ার ‘ক্রাউন অটোমোবাইল সার্ভিসেস’ চালানটি আমদানি করে। খুলনার ‘এসটি ইন্টারন্যাশনাল’ ছিল এর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট।
চালানটিতে ১৪টি ক্যাটাগরির মোট ১৬৪টি প্যাকেজ ছিল। ব্যবহৃত দরজা, ইঞ্জিন, বাম্পার, স্টিয়ারিং ও হেডলাইট হিসেবে পণ্যগুলোর ঘোষণা দিয়ে ইনভয়েস মূল্য দেখানো হয় ৭ হাজার ৯৩৫ মার্কিন ডলার। এ হিসাবে শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ৯ লাখ ৯৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করে শুল্ক-কর বাবদ প্রায় ৬ লাখ ১০ হাজার টাকা জমা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
তবে কাস্টমসের হিসাবে চালানের ভেতরে থাকা চারটি গাড়ির আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা বা তারও বেশি।
জব্দ হওয়া গাড়িগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০১৬ মডেলের লেক্সাস এলএক্স৫৭০, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি থেকে ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা; ২০১৭ মডেলের রেঞ্জ রোভার ভোগ, যার মূল্য প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ থেকে ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা; ২০১০ মডেলের বিএমডব্লিউ ৬৫০আই, যার মূল্য ৬০ থেকে ৯০ লাখ টাকা; এবং টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেট, যার আনুমানিক মূল্য ৩০ থেকে ৪৫ লাখ টাকা।
কাস্টমস সূত্র জানায়, গত ১৯ জুলাই চালানটির শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করা হয়। পরে পণ্যগুলো সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর গাড়িগুলো জব্দের সিদ্ধান্ত নেয় এনবিআর।
কাস্টমস আইন ও জিআরআই বিধি অনুযায়ী, খণ্ডিত অবস্থায় আমদানি করা পণ্যে যদি মূল পণ্যের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য বহাল থাকে, তাহলে সেটিকে পূর্ণাঙ্গ পণ্য হিসেবেই গণ্য করতে হয়।
মোংলা কাস্টমস হাউজের অতিরিক্ত কমিশনার এইচ এম শরিফুল হাসান জানান, গাড়িগুলোর ইঞ্জিন ক্ষমতা, বয়স ও অবচয় বিবেচনায় নিয়ে আমদানিকারকের বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। এরপর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এনবিআর।
জেইউ/আরএন