জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছেন বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে সংসদে দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী আইন প্রণয়নের কার্যাবলি শুরু হলে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি চান।
এ সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের অনুমতি নিয়ে বক্তব্য শুরু করেন ডা. শফিকুর রহমান। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি সংসদে চলমান কার্যক্রম নিয়ে বিরোধীদলের আপত্তির বিষয়গুলো তুলে ধরেন। বিশেষ করে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন, জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংস্কারের যে মূল দাবি, সেটিকে কোনোভাবেই চাপা দেওয়া যাবে না। বিরোধীদল সংস্কারের মূল দাবির পক্ষে জোরালো ও স্পষ্ট অবস্থানে রয়েছে এবং তারা সেই অবস্থান থেকে সরে যায়নি।
তিনি বলেন, সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্নভাবে তাদের সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়েই তাদের আপত্তি রয়েছে।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংবিধান সংশোধন কমিটি নামে যে কমিটি সংসদে পাস করা হয়েছে, সেটির প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। পরবর্তীতে কমিটির নামের আগে একটি বিশেষ শব্দ যুক্ত করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সংসদে কোনো বিষয় বা প্রস্তাব পাস করার ক্ষেত্রে প্রতিটি শব্দ ও অক্ষর যথাযথভাবে অনুমোদিত হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিরোধীদলের আপত্তি শুধু কমিটিতে অংশ নেওয়া বা না নেওয়ার বিষয় নয়, বরং সংসদীয় প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সেটিই তাদের বড় প্রশ্ন।
তিনি আরও বলেন, বৃহত্তর স্বার্থে তারা পুরো সংস্কার চান এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন চান। খণ্ডিত কোনো সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হতে তারা রাজি নন।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গণভোটের বাস্তবায়ন চাই। এইভাবে খণ্ডিত কোনো প্রসেসের অংশ হতে চাই না।”
এরপর বিরোধীদলীয় নেতা ঘোষণা দেন, এই পর্বের আলোচনায় তারা আর অংশগ্রহণ করবেন না। তিনি বলেন, তারা এই মুহূর্তে সংসদ থেকে বিদায় নিচ্ছেন এবং উপযুক্ত সময়ে আবার সংসদে ফিরে এসে জনগণের পক্ষে কথা বলবেন।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ডা. শফিকুর রহমান সংসদে দেওয়া চারটি নোটিশের বিষয়ও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জনস্বার্থ ও জনদুর্ভোগ নিরসনের জন্য বিরোধীদল চারটি নোটিশ জমা দিয়েছে। এসব নোটিশ নিয়ে সংসদে আলোচনার সুযোগ পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, জনগণের পক্ষে কথা বলার সুযোগ এবং জনদুর্ভোগের বিষয়গুলো সংসদে তুলে ধরাই তাদের উদ্দেশ্য। তাই জমা দেওয়া নোটিশগুলো যেন সংসদে আলোচনার সুযোগ পায়, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
সবশেষে ডেপুটি স্পিকারকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান বিরোধীদলীয় নেতা। এরপর ডেপুটি স্পিকারকে সালাম দিয়ে “আসসালামু আলাইকুম” বলে ওয়াকআউটের ঘোষণা দেন ডা. শফিকুর রহমান। তার সঙ্গে বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরাও সংসদ থেকে বেরিয়ে যান।
উল্লেখ্য, সংবিধান সংস্কার ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদলের আপত্তি আগেও দেখা গেছে। এর আগে গত ১৩ জুলাইও তারা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছিল।
এফএস