দিনাজপুর জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ বাদশাকে আটকের প্রতিবাদে কোতোয়ালী থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করছেন শ্রমিকরা। একই সঙ্গে জেলার বিভিন্ন সড়কে বাস-ট্রাক রেখে ব্যারিকেড দেওয়ায় দিনাজপুরের সঙ্গে আন্তঃজেলা ও ঢাকাগামী বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
বুধবার রাত ৯টার দিকে নিজ বাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) শেখ বাদশাকে আটক করে বলে শ্রমিকরা জানান। এর পরপরই শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে থানা ঘেরাও করেন। কোতোয়ালী থানার প্রধান ফটকের সামনে বাস দিয়ে ব্যারিকেড দেওয়ায় পুলিশ সদস্যদের থানায় প্রবেশ ও বের হতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
শ্রমিকরা দিনাজপুরের দশমাইল মোড়, মির্জাপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, বটতলী ট্রাক টার্মিনাল, সাধনার মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে সড়কের ওপর বাস আড়াআড়ি করে রেখে বিক্ষোভ করছেন। দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় আঞ্চলিক মহাসড়কের দশমাইল, রানীরবন্দরসহ কয়েকটি স্থানেও ব্যারিকেড দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে কোতোয়ালী থানার গেটের সামনে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১০ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চারজনকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যনির্বাহী কমিটির দ্বিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। শেখ বাদশা সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করতে চাওয়ায় তাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আটক করা হয়েছে বলে দাবি শ্রমিকদের।
দিনাজপুর মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ শওকত আলী তোতা বলেন, বুধবার রাত ১১টা থেকে বৃহস্পতিবার দিনাজপুর জেলা থেকে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চলছে, তবে এখনো কোনো সমাধান হয়নি।
দিনাজপুর ট্রাক, ট্রাংলরি ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাদাকাতুল বারী সাদা শেখ বাদশার মুক্তির দাবি জানিয়ে শ্রমিকদের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন।
এদিকে শেখ বাদশাকে কী অভিযোগে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, রাজনৈতিক মামলায় তাকে আটক করা হয়েছে।
সংঘর্ষের সময় বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন ব্যক্তি তাদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এএইচ/আরএন