দিনাজপুর সদর ও কাহারোল উপজেলায় অভিযান চালিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে মজুদ করা ৬৬৯ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। এ সময় অবৈধভাবে সার মজুদের অভিযোগে দুই সার ব্যবসায়ীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে সদর ও কাহারোল উপজেলায় পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব সার জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা সার প্রকৃত কৃষকদের মধ্যে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—দিনাজপুর সদর উপজেলার রামসাগর এলাকার খুচরা সার ব্যবসায়ী ও মেসার্স সোনালী ট্রেডার্সের মালিক মনোহর আলম (৫৬) এবং কাহারোল উপজেলার অরিন ট্রেডার্সের মালিক ওলিউডর রহমানের ছোট ভাই মো. খাইরুল ইসলাম।
মনোহর আলমকে দেড় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। অপরদিকে খাইরুল ইসলামকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার দুপুর ১২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দিনাজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন শরীফের নেতৃত্বে শহরের পুলহাট বিসিক এলাকার মেসার্স ফুয়াদ ইন্ডাস্ট্রিজ রাইস মিলের গুদামে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ধানের গোডাউন থেকে পাচারের উদ্দেশ্যে ট্রাক্টরে তোলার সময় ২১৭ বস্তা সার জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ১৭০ বস্তা ইউরিয়া ও ৪৭ বস্তা ডিএপি সার রয়েছে। জব্দ করা সারের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ লাখ ২৯ হাজার ৫০০ টাকা।
পরে জব্দ করা সার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার জিম্মায় দেওয়া হয়। কৃত্রিম সংকট তৈরি ও অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের অভিযোগে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬ অনুযায়ী মনোহর আলমকে দেড় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। জরিমানা অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
অপরদিকে, একই দিন দুপুরে কাহারোল বাজারের অরিন ট্রেডার্সের গোডাউনে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেখানে কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে মজুদ করা ৪৫২ বস্তা, প্রায় ৩৭ মেট্রিক টন, সার জব্দ করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির বৈধ লাইসেন্স থাকলেও ক্যাশ মেমো ও মজুদ রেজিস্টার না থাকায় সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের মালিক ওলিউডর রহমানের পরিবর্তে ঘটনাস্থলে উপস্থিত তাঁর ছোট ভাই মো. খাইরুল ইসলামকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (এনডিসি) আবু সিহাব মোহাম্মদ ইমতিয়াজ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোকলেদা খাতুন মীম।
সদর উপজেলায় জব্দ করা সার সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। এসব সার সরকারি নির্ধারিত মূল্যে প্রকৃত কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হবে। অপরদিকে, কাহারোল উপজেলায় জব্দ করা সার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কৃষি কার্ডধারী কৃষকদের মধ্যে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা হয়েছে।
দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরনবী এবং কাহারোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সেলিমুর রহমান সেলিম জানান, সাজাপ্রাপ্তদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।