ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
হিযবুত তাওহীদ নিষিদ্ধ-কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণার দাবি
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১২ পিএম
সংগৃহীত ছবি
X

সংগৃহীত ছবি

ঈমান বিধ্বংসী ও সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে হিযবুত তাওহীদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং কাদিয়ানীদের অমুসলিম হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী। একই সঙ্গে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকিদা-বিশ্বাস সংরক্ষণে জনসচেতনতা তৈরি, লিঙ্গপরিচয় ও ট্রান্সজেন্ডার সংক্রান্ত আইন ও নীতিমালা দেশের ধর্মীয় মূল্যবোধ, সামাজিক বাস্তবতা ও জনমতের আলোকে পর্যালোচনাসহ মওদূদীবাদের মতাদর্শ নিয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ‘ঈমান-আকিদা সংরক্ষণ কমিটি’ আয়োজিত  জাতীয় উলামা-মাশায়েখ কনভেনশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হতে না পারায় তার বক্তব্য পাঠ করে শোনানো হয়।

‘ঈমান-আকিদা সংরক্ষণ কমিটি’ আয়োজিত এ কনভেনশনে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকিদা ও ইসলামের মৌলিক আদর্শ সংরক্ষণের লক্ষ্যে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়। সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে আমন্ত্রিত বক্তাদের অধিকাংশই হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে যুক্ত। এতে বিশেষভাবে ট্রান্সজেন্ডারবান্ধব শ্রম আইন বাতিলের দাবি জানানো হয়।

মহিবুল্লাহ বাবুনগরী লিখিত বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সময়ে ঈমান-আকিদা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এ অবস্থায় কোরআন-সুন্নাহর আলোকে সঠিক আকিদা সংরক্ষণ, বিভ্রান্তিকর মতাদর্শ সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা এবং দেশের সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ রক্ষায় ওলামায়ে কেরামের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কাদিয়ানীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইসলামের সর্বসম্মত আকিদা হলো হজরত মুহাম্মদ (সা.) মহান আল্লাহর সর্বশেষ নবী ও রাসুল। তার পরে আর কোনো নবী আসবেন না। কাদিয়ানী সম্প্রদায় মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীকে নবী দাবি করে খতমে নবুয়তের মৌলিক আকিদাকে অস্বীকার করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, ‘এটি কোরআন, সুন্নাহ এবং উম্মতের ইজমার সরাসরি পরিপন্থি। সুতরাং কাদিয়ানীদের অমুসলিম হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘোষণা করা এবং সাধারণ মুসলমানদের তাদের ঈমান বিধ্বংসী প্রচারণা থেকে রক্ষা করা সময়ের দাবি।’

মওদূদীবাদের মতাদর্শ নিয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান হেফাজতের আমির। তিনি বলেন, ইসলামের সঠিক ভাবমূর্তি ও সালাফে সালেহীনের পথ অক্ষুণ্ণ রাখতে মওদূদীবাদের মতাদর্শিক ভুল ও বিভ্রান্তি সম্পর্কে উম্মাহকে সতর্ক থাকতে হবে। আম্বিয়ায়ে কেরামের নিষ্পাপতা, সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদা এবং ইসলামের পরিভাষাগুলোর বিকৃত ব্যাখ্যার বিষয়ে আকাবিরে উম্মত যে দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছেন, তা অনুসরণ করা জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আইন প্রণয়নে দেশের সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে হেফাজতের আমির বলেন, বাংলাদেশের সমাজ, সংস্কৃতি, পরিবারব্যবস্থা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের আইন প্রণয়ন করা জরুরি। শ্রম আইনসহ যেকোনো আইনে এমন কোনো বিধান থাকা উচিত নয়, যা সংবিধানসম্মত অধিকার, সামাজিক বাস্তবতা, পারিবারিক মূল্যবোধ কিংবা ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে গুরুতর সংঘাত সৃষ্টি করে।

তিনি আরও বলেন, ইসলামি সমাজ বিনির্মাণ হতে হবে কোরআন-সুন্নাহ ও আসলাফের মানহাজ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বিশেষের রাজনৈতিক মনগড়া ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে নয়।

হিযবুত তাওহীদের বিষয়ে মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, সংগঠনটির বিভিন্ন বক্তব্য, প্রচার ও ধর্মীয় ব্যাখ্যা নিয়ে দেশের আলেমসমাজের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই গভীর উদ্বেগ রয়েছে। তাদের এমন কিছু মতাদর্শ ও প্রচারণা রয়েছে, যা প্রচলিত ইসলামী আকিদা ও মূলধারার ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং সাধারণ মুসলমানদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে বলে তিনি দাবি করেন।

দেশের ধর্মীয় শান্তি, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং আকিদাগত নিরাপত্তার স্বার্থে সরকারের কাছে তাদের কার্যক্রম ও প্রচারণার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার জন্য জোর দাবি জানান তিনি।

কনভেনশনে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান বলেন, হেযবুত তওহীদ পাশের কোনো দেশের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। এই সংগঠনকে অতি দ্রুত নিষিদ্ধ করতে হবে। ট্রান্সজেন্ডার আইন বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ার উচ্চারণ করেন তিনি।

ভ্রান্ত মতাদর্শের বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে উল্লেখ করে সাজিদুর রহমান বলেন, সরকার যেন কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন পাস না করে। সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমদের পরামর্শ নিয়ে যেন ধর্মীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়।

কনভেনশনে হেফাজতে ইসলাম ও দেওবন্দ ঘরানার বিভিন্ন আলেম বক্তব্য দেন। তাঁদের কয়েকজন কওমি অঙ্গনে জামায়াতের ‘অনুপ্রবেশ’ ঘটছে বলে অভিযোগ করেন। বক্তারা বলেন, কওমি অঙ্গনে জামায়াতের অনুপ্রবেশের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। জামায়াতের নেতৃত্বে ইসলামপন্থী দলগুলোর কোনো ঐক্যও হতে পারবে না। 

হেফাজতে ইসলামের নায়েবের আমির মাওলানা আবদুল আউয়ালের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন হেফাজতে ইসলামের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব জুনায়েদ আল হাবিব, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি বশির উল্লাহ, হবিগঞ্জের মাদ্রাসায়ে নূরে মদিনার অধ্যক্ষ আল্লামা নূরুল ইসলাম ওলীপুরী, আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়তের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দিন রব্বানী, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুল কাইয়ুম সুবহানী।

কনভেনশনে ইনডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের অধ্যাপক মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন, ফরায়েজী আন্দোলনের সভাপতি আবদুল্লাহ মোহাম্মদ হাসান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহসভাপতি আবদুর রব ইউসুফী, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব সাখাওয়াত হোসেন রাজি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান হামিদী, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুফতি রেজাউল করীম আবরার বক্তব্য দেন।

এফএস
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝