যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বা আশ্রয় চাইছেন—এমন সর্বোচ্চ ২ লাখ বিদেশির ব্যবসা ও পর্যটন ভিসা বাতিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন সরকার। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নথি ও দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।
এপি জানিয়েছে, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক ভিসা বাতিলের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নজিরবিহীন হতে পারে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে পররাষ্ট্র দপ্তর।
পরিকল্পনার আওতায় ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে দেওয়া বি-১ ও বি-২ শ্রেণির ভিসা পড়বে। বি-১ ভিসা সাধারণত ব্যবসায়িক ভ্রমণের জন্য এবং বি-২ ভিসা পর্যটন বা স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের জন্য দেওয়া হয়।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন বিদেশিদের শনাক্ত করছে, যারা স্বল্প সময়ের জন্য দেশটিতে প্রবেশের কথা বলে ব্যবসা বা পর্যটন ভিসা নিয়েছিলেন। পরে তারা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে থাকার উদ্দেশ্যে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন।
তবে ভিসা বাতিলের অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা নয়। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, যাদের আশ্রয়ের আবেদন এখনো নিষ্পত্তি হয়নি, তাদের বেশির ভাগকে অন্য একটি অভিবাসন শ্রেণিতে নেওয়া হতে পারে। ফলে তাদের আগের ব্যবসা বা পর্যটন ভিসার পরিচয় আর থাকবে না। তবে তাদের আশ্রয়ের আবেদন স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় চলবে।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ ধরনের ভিসাধারীদের সমালোচনা করেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ। তিনি অভিযোগ করেন, অনেকে ব্যবসা বা পর্যটন ভিসা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আশ্রয়ের আবেদন করছেন এবং এর মাধ্যমে অভিবাসন আইন এড়ানোর চেষ্টা করছেন।
ল্যান্ডাউ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানুষ ‘ভুয়া আশ্রয়ের আবেদন’ নিয়ে বিরক্ত। আশ্রয়ব্যবস্থাকে অভিবাসন আইন এড়িয়ে যাওয়ার উপায় হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ব্যবস্থায় একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভিসা আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের কর্মকাণ্ডের ইতিহাস সম্পর্কে আরও তথ্য দিতে বলা হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে ভিসা আবেদনের সঙ্গে বড় অঙ্কের জামানত দেওয়ার নিয়মও চালু হয়েছে। পাশাপাশি কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা দেওয়া পুরোপুরি বন্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এপি জানিয়েছে, গত ১৮ মাসে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ভিসা বাতিল করেছে। এসব ভিসা বাতিলের কারণের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের অপরাধও রয়েছে। মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, ধর্ষণ ও ডাকাতির মতো অপরাধে অভিযুক্ত বা দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নীতির প্রকাশ্য সমালোচকদের বিরুদ্ধেও ভিসা বাতিলের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে মার্কিন নীতির সমালোচনা করেছেন—এমন কিছু ব্যক্তির ভিসাও বাতিল করা হয়েছে।