ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
পোর্ট-অ-প্রিন্সে রাতভর হামলায় আহত ২২, নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষোভ
হাইতিতে সশস্ত্র গ্যাংয়ের হামলায় নিহত ৪৭
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩৩ এএম
X

ক্যারিবীয় দেশ হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সে সশস্ত্র গ্যাংয়ের রাতভর হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছেন।  এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২২ জন। প্রাণঘাতী হামলার পরও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না পাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (২৪ আগস্ট) রাতে রাজধানীর কাছে কেন্সকফ এলাকায় এ হামলা চালানো হয়। জাতিসংঘের হাইটি ইন্টিগ্রেটেড অফিস জানিয়েছে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

পোর্ট-অ-প্রিন্সে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ পথের কাছে পাহাড়ি এলাকা কেন্সকফে গত বছর থেকে সশস্ত্র গ্যাং প্রায় এক ডজন হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একটি পুলিশ স্টেশন থেকে মাত্র কয়েক মিনিটের দূরত্বে হামলা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের সুরক্ষা দিতে পারেনি। হামলার পর তারা এলাকার পুলিশপ্রধানের পদত্যাগ দাবি করেছেন।

হাইতির মানবাধিকার সংগঠন আরএনডিডিএইচ জানিয়েছে, রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শুরু হওয়া হামলায় ৩০ থেকে ৪০ জন নিহত এবং ১৫ থেকে ২০ জন আহত হয়েছেন। তবে হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা কঠিন বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

হাইতি সরকার হামলাটিকে ‘জঘন্য’ বলে নিন্দা জানিয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, কেন্সকফকে পরিত্যক্ত অবস্থায় রাখা হবে না এবং কোনো দুর্বলতা বা বিলম্ব ছাড়াই সরকারের কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে।

আগের হামলায় নিহত শতাধিক

এর আগে ২০২৫ সালের শুরুর দিকে প্রায় দুই মাস ধরে কেন্সকফে চালানো হামলায় ২৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ২০০টি বাড়ি ধ্বংস বা পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ওই সময় প্রায় ৩ হাজার মানুষ এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হন।

এরপরও এলাকাটিতে প্রায় এক ডজন হামলা হয়েছে। এসব ঘটনায় ধর্ষণ, অপহরণ, অগ্নিসংযোগ ও গবাদিপশু চুরির মতো ঘটনাও ঘটেছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সর্বশেষ হামলার সময় বেশ কয়েকটি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ জ্যঁ উইলিয়াম পাপের বাড়িও রয়েছে।

দিনের বেলায় কেন্সকফ পরিদর্শনে গিয়ে দেশটির জাতীয় পুলিশপ্রধান ভ্লাদিমির প্যারাজন সাংবাদিকদের বলেন, ‘পুলিশ কখনও হাল ছেড়ে দেয়নি।’

নির্বাচন নিয়েও উদ্বেগ

নতুন করে সহিংসতা আগামী ডিসেম্বরে হাইতিতে নির্বাচন আয়োজনের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এক দশকের মধ্যে এবারই দেশটিতে প্রথম নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সশস্ত্র গ্যাংগুলোর প্রভাব বাড়তে থাকায় এর আগে একাধিক সরকার নির্বাচন পিছিয়ে দিয়েছে।

জাতিসংঘের সমর্থনে গঠিত গ্যাং দমন বাহিনীকে হাইতি পুলিশকে গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। চলতি বছর এই বাহিনীর সদস্যসংখ্যা ৫ হাজার ৫০০-এর বেশি করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে কেন্সকফের নিরাপত্তা জোরদারে ওই বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হচ্ছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংসতা ও দুর্বল শাসনব্যবস্থায় জর্জরিত হাইতিতে শক্তিশালী সশস্ত্র গ্যাংগুলো রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বিস্তৃত করেছে। দুর্বল পুলিশ বাহিনীকে শক্তিশালী করতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।

সূত্র: রয়টার্স

-টিএস
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝