ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
কারখানা চালুর আগেই প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার লোকসান
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৫:০৪ পিএম আপডেট: ২৫.০৮.২০২৬ ৫:২৩ পিএম
X

ব্যক্তি স্বার্থের চেয়ে দেশের স্বার্থ অনেক বড়। দায়িত্বে থাকা কিছু ব্যক্তির হিংসা ও লোভের কারণে দেশ ও জনগণের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। এমনই এক পরিস্থিতির শিকার হয়েছে একটি স্টিল মিল।

খবরে জানা গেছে, নানা জটিলতার কারণে উৎপাদনে যাওয়ার আগেই একটি স্টিল মিল প্রায় ২ হাজার ৯৫৮ কোটি টাকা আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলতে বিনিয়োগ হয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা। বন্দরে এসেছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার আমদানি করা যন্ত্রপাতি। ২৭৫টি কনটেইনারে থাকা এসব যন্ত্রপাতি কারখানায় পৌঁছানোর আগেই দীর্ঘ সময় আটকে থাকে। এতে বন্দর ও শিপিং ড্যামেজ, ব্যাংকঋণের সুদ, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি এবং প্রকল্প ব্যয় বেড়েছে।

এটি মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে নির্মাণাধীন বসুন্ধরা মাল্টি স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের (বিএমএসআইএল) মেগা স্টিল প্রকল্প। বছরে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টন স্টিল উৎপাদনের সক্ষমতা নিয়ে গড়ে ওঠার কথা কারখানাটির। প্রকল্পটি চালু হলে সরাসরি প্রায় সাত হাজার এবং পরোক্ষভাবে প্রায় এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হওয়ার কথা। একই সঙ্গে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো রিবার কয়েল ও ওয়্যার রড উৎপাদনের মাধ্যমে আমদানিনির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনাও ছিল।

কিন্তু নির্ধারিত সময় ২০২৪ সালে কমিশনিং তো দূরের কথা, ২০২৬ সালের আগস্টও প্রায় শেষ। এখন আশা করা হচ্ছে, সব জটিলতা কাটিয়ে কাজ এগোলে ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ কারখানাটি উৎপাদনে যেতে পারে।

প্রকল্পের শুরু

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে মিরসরাই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় ৭০ একর জমির ওপর বিএমএসআইএলকে স্টিল কারখানা নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়। উন্নত প্রযুক্তি ও তুলনামূলক কম পরিচালন ব্যয়কে সামনে রেখে প্রকল্পটির নকশা করা হয়। লক্ষ্য ছিল উচ্চমানের স্টিল উৎপাদনের পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণও কমানো।

ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানির জন্য ওই সময় কয়েকটি ব্যাংকের সিন্ডিকেটেড টার্ম লোনের মাধ্যমে প্রায় ৫৫০ কোটি টাকার এলসি খোলা হয়। পরবর্তী সময়ে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ২৭৫টি কনটেইনারে করে দেশে আসে।

কিন্তু যন্ত্রপাতি আসার পরই তৈরি হয় নতুন জটিলতা। বিএমএসআইএল সূত্রের দাবি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি নির্দেশনার কারণে বসুন্ধরা নামধারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে একই ঋণগ্রহীতা হিসেবে বিবেচনা করে এলসির ডকুমেন্ট আটকে দেওয়া হয়। ফলে বন্দরে পড়ে থাকে একের পর এক কনটেইনার।

কনটেইনারগুলো পড়ে থাকার কারণে বন্দর ও শিপিং-সংক্রান্ত ড্যামেজসহ অন্যান্য ব্যয় বাড়তে বাড়তে প্রায় ৯৫০ কোটি টাকায় পৌঁছায় বলে প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের দাবি। অর্থাৎ যন্ত্রপাতির আমদানি মূল্য যেখানে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা, সেখানে পরবর্তী সময়ে শুধু ড্যামেজ ও সংশ্লিষ্ট ব্যয়ই তার চেয়ে অনেক বেশি হয়ে যায়।

ডলারের মূল্যবৃদ্ধিতেও বাড়ে চাপ

প্রকল্পটির আর্থিক সংকটের শুরু অবশ্য আরও আগে। ২০২২ সালে যখন এলসিগুলো খোলা হয়, তখন ডলারের দাম ছিল প্রায় ৮৪ থেকে ৮৬ টাকা। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাবে পরবর্তী সময়ে ডলারের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায় এবং টাকার প্রায় ৪০ শতাংশ অবমূল্যায়ন ঘটে।

ব্যাংকগুলো ২০২২-২৩ সালের মধ্যেই বিদেশি সরবরাহকারীদের পাওনা পরিশোধ করে। তবে ৩৬০ দিনের পেমেন্ট সুবিধা থাকায় তখন বিএমএসআইএলের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়নি। ২০২৪ সালের শুরুতে এসে ব্যাংকগুলো বিএমএসআইএলের কাছে এককালীন প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা দাবি করে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের হিসাবে, প্রায় ৫০০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতির বিপরীতে মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও মূল্যস্ফীতির কারণে অতিরিক্ত প্রায় ৮৫০ কোটি টাকার দায় তৈরি হয়। বিএমএসআইএল এই অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করলেও ডকুমেন্ট হস্তান্তরের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো পরে আপত্তি জানায় বলে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের দাবি।

তাঁদের বক্তব্য, ওই সময় ডকুমেন্ট হস্তান্তর করা হলে কনটেইনারগুলো কাস্টমস থেকে ছাড়িয়ে যন্ত্রপাতি কারখানায় নেওয়া সম্ভব হতো। কিন্তু তা না হওয়ায় প্রকল্পটি আরও পিছিয়ে যায়।

বিএমএসআইএলের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এলসিগুলো কাঁচামালের জন্য নয়, ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানির জন্য খোলা হয়েছিল। তাঁর মতে, কাঁচামাল আমদানি করে কয়েক মাসের মধ্যে উৎপাদন ও বিক্রির মাধ্যমে দায় পরিশোধ করা সম্ভব হলেও একটি রোলিং মিলের ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

তিনি বলেন, এটি ছিল একটি প্রি-রেভিনিউ প্রকল্প। তাই এ ধরনের চার্জ আরোপ প্রচলিত প্রকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। তাঁর দাবি, পরবর্তী ১৩ মাসে যে ড্যামেজ জমেছে, তা মুদ্রার অবমূল্যায়ন বা বিএমএসআইএলের কোনো কর্মকাণ্ডের কারণে হয়নি।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, ব্যাংকের দাবি করা অর্থের ব্যবস্থা করার পরও ডকুমেন্ট না পাওয়ায় কনটেইনারগুলো ছাড়ানো সম্ভব হয়নি। এর মধ্যেই বন্দর ও শিপিং ড্যামেজ প্রায় ৪০০ কোটি টাকায় পৌঁছে যায়। একই সঙ্গে ঋণের সুদও বাড়তে থাকে।

২০২৬ সালের এপ্রিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশে অগ্রণী ব্যাংককে বিএমএসআইএলকে ওই নির্দেশনা থেকে পৃথকভাবে বিবেচনার কথা জানানো হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। তবে তত দিনে প্রকল্পটির ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়ে গেছে।

২ হাজার ৩৫০ কোটি টাকার ঋণ, ছাড় হয়েছে ৫৭৬ কোটি

প্রকল্পটির অর্থায়নে অগ্রণী ব্যাংকের নেতৃত্বে আটটি ব্যাংকের একটি কনসোর্টিয়াম গঠন করা হয়। এতে অগ্রণী ব্যাংকের সঙ্গে সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া ও এসবিএসি রয়েছে।

এই কনসোর্টিয়াম মোট ২ হাজার ৩৫০ কোটি টাকার সিন্ডিকেটেড টার্ম লোন অনুমোদন করে। এর মধ্যে ছাড় হয়েছে মাত্র ৫৭৬ কোটি টাকা, যা অনুমোদিত ঋণের ২৪ দশমিক ৫১ শতাংশ। বাকি ১ হাজার ৭৭৪ কোটি টাকা এখনো ব্যাংকগুলোর কাছেই রয়েছে।

৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত প্রকল্পটির সুদ ও আবগারি শুল্ক দাঁড়িয়েছে ৮৫৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে সিন্ডিকেটেড ঋণের বিতরণকৃত অংশের ওপর ২৪৬ কোটি এবং ‘ফোর্সড লোনের’ ওপর ৬১১ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এ ব্যয় এখনো বাড়ছে।

বিএমএসআইএল এ পর্যন্ত ৪১১ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে বলে জানা গেছে। প্রতিষ্ঠানটির স্পন্সর ইকুইটি ও অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এই অর্থ দেওয়া হয়েছে।

৪ হাজার ১৬০ কোটি থেকে ব্যয় বেড়ে ৭ হাজার ১১৮ কোটি

প্রকল্পটি যখন হাতে নেওয়া হয়, তখন মোট বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় ৪ হাজার ১৬০ কোটি টাকা। কিন্তু ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, ঋণের সুদ, বিলম্ব এবং অন্যান্য আর্থিক চাপের কারণে এখন সেই ব্যয় বেড়ে প্রায় ৭ হাজার ১১৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

অর্থাৎ উৎপাদন শুরুর আগেই প্রকল্পটির ব্যয় প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা বেড়ে গেছে।

বিএমএসআইএল কর্তৃপক্ষের হিসাবে, প্রকল্পটির ওপর তৈরি হওয়া প্রায় ২ হাজার ৯৫৮ কোটি টাকার আর্থিক চাপের প্রধান খাতগুলো হলো—নিষ্পত্তিকৃত এলসির বিপরীতে মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও মূল্যস্ফীতিজনিত প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা, বন্দর ড্যামেজ ও কনটেইনার ডিটেনশনসহ অন্যান্য ব্যয় প্রায় ৯৫০ কোটি টাকা, ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত ব্যাংকের সুদ ও আবগারি শুল্ক ৮৫৮ কোটি টাকা এবং ইউটিলিটি অবকাঠামো দ্রুত বাস্তবায়নে অতিরিক্ত ৩০০ কোটি টাকা।

ইউটিলিটি অবকাঠামোতেও অতিরিক্ত ব্যয়

প্রকল্পটির আরেকটি বড় সমস্যা ছিল গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ। অর্থনৈতিক অঞ্চলের অভ্যন্তরে এসব ইউটিলিটি অবকাঠামো স্থাপনের দায়িত্ব সরকার ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) হলেও বিএমএসআইএলকে এ খাতেও বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটির দাবি।

প্রথম পর্যায়ে ৫০ বছরের জন্য গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগের উদ্দেশ্যে বসুন্ধরা প্রায় ২৯০ কোটি টাকা অগ্রিম পরিশোধ করে। পরে ইউটিলিটি সংযোগ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বেজা পর্যাপ্ত অর্থ ও নির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে না পারায় বিএমএসআইএল নিজস্ব অর্থে অবকাঠামো নির্মাণে আরও প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় করে।

এর মধ্যে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে প্রায় ২৫০ কোটি, গ্যাস সংযোগে ৪০ কোটি এবং পানির লাইনে ১০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি দৈনিক ৩ মিলিয়ন স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক ফুট গ্যাস সরবরাহের অনুমোদন দেয়। বেজা ও বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডও পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ অনুমোদন করে। তবে সরবরাহ বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামো বিএমএসআইএলকেই নিজস্ব অর্থে নির্মাণ করতে হয়েছে বলে প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানান।

এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা দুবার টাকা দিয়েছি। একবার মেয়াদের জন্য, আরেকবার দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য। তারপরও এমন কারণে আমরা পিছিয়েছি, যা সম্পূর্ণভাবে আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল।’

শিল্প খাতে প্রভাব

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএম) প্রেসিডেন্ট শওকত আজিজ রাসেল বলেন, একজন ব্যবসায়ীকে এককভাবে দায়ী করার সুযোগ তিনি দেখছেন না। তাঁর মতে, ডলারের দরের কারণে শিল্প খাতে বড় ধরনের লোকসান হয়েছে এবং ঋণ পরিশোধের সময়ও বাড়তি দরে ডলার কিনতে হচ্ছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নীতি প্রণয়নে ঘাটতি ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ওই সময়ে অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য কার্যকর নীতি গ্রহণ করা হয়নি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রভাবেও দেশীয় ব্যবসায়ীরা চাপে পড়েছেন।

তাঁর ভাষায়, অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা এখন অনেক বেশি সংকটে রয়েছেন। তিনি মনে করেন, একটি প্রাণবন্ত অর্থনীতির জন্য বাজারে অর্থের স্বাভাবিক সঞ্চালন জরুরি।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, বিএমএসআইএল চালু হলে দেশের স্টিল খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে রিবার কয়েল ও ওয়্যার রড দেশে উৎপাদিত হলে এসব পণ্যের আমদানিনির্ভরতা কমবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি দেশীয় শিল্পের সরবরাহব্যবস্থাও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

প্রকল্পটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতি টন রড উৎপাদনে প্রায় ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে। উন্নত প্রযুক্তির কারণে তুলনামূলক কম পরিচালন ব্যয়ে উৎপাদন করা সম্ভব হবে বলেও সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, সরবরাহ শৃঙ্খলার সীমাবদ্ধতা, বন্দর জট এবং কাঁচামালের দামের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ করা গেলে দশকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের স্টিল শিল্প বছরে ১১ থেকে ১৫ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে।

তাঁদের মতে, বড় শিল্প প্রকল্প বাস্তবায়নে দেশীয় উদ্যোক্তারা যদি নীতিগত জটিলতা বা অনিশ্চয়তার কারণে বড় ধরনের লোকসানে পড়েন, তাহলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছেও তা নেতিবাচক বার্তা দেবে। এতে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

২০২৭ সালের শেষে উৎপাদনের লক্ষ্য

সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবাল-এসবিজির চিফ অপারেটিং অফিসার শাহেদ জাহিদ বলেন, উন্নত ও নিম্ন-নিঃসরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশে রিবার কয়েল ও ওয়্যার রড উৎপাদনের লক্ষ্যেই প্রকল্পটিতে বিনিয়োগ করা হয়েছে। প্রচলিত উৎপাদন পদ্ধতির তুলনায় কম ব্যয়ে উচ্চমানের স্টিল উৎপাদনের পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যও রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রকল্পটি প্রকৌশল গ্র্যাজুয়েট ও দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে। কিন্তু প্রকল্পের ব্যয় ৪ হাজার ১৬০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৭ হাজার ১১৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে কমিশনিংয়ের সময়ও ২০২৪ সালের শেষ থেকে পিছিয়ে ২০২৭ সালের শেষে নেওয়া হয়েছে।

শাহেদ জাহিদের ভাষায়, হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের পরও গ্রুপটি এখন অত্যন্ত অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি। প্রতিটি অতিরিক্ত বিলম্ব প্রকল্পের ব্যয় বাড়াচ্ছে, আর্থিক সক্ষমতা দুর্বল করছে এবং একই সঙ্গে বিনিয়োগকারী ও ঋণদাতা—দুই পক্ষের ওপরই চাপ বাড়াচ্ছে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিনিয়োগের পরিমাণ, কর্মসংস্থান এবং উৎপাদন সক্ষমতার বিচারে বিএমএসআইএল শুধু একটি স্টিল কারখানা নয়; এটি দেশের শিল্পায়নের বড় একটি উদ্যোগ। কিন্তু নীতিগত সিদ্ধান্ত, ব্যাংকিং জটিলতা, এলসি-সংক্রান্ত সমস্যা, বন্দর ড্যামেজ এবং ইউটিলিটি অবকাঠামোর বিলম্বের কারণে প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের তুলনায় অন্তত তিন বছর পিছিয়ে গেছে।

এদিকে বর্তমান সরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির কথা বলছে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগ নিচ্ছে। শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, এখন বড় প্রয়োজন বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর জটিলতা দূর করা, ব্যাংকিং ও এলসি ব্যবস্থাকে সহজ করা এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য নীতিপরিবেশ নিশ্চিত করা। কারণ একটি বড় শিল্প প্রকল্পের বিলম্ব শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে কর্মসংস্থান, রাজস্ব, উৎপাদন, আমদানি ব্যয় এবং সামগ্রিক অর্থনীতির সম্ভাবনা।
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝