ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ। দুই দেশের মধ্যে বর্তমানে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য রয়েছে। বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন সম্ভাবনা খোঁজার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভারত বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। দুই দেশের বাণিজ্য বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার। গত বছর এর পরিমাণ প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি ছিল। এর মধ্যে ভারতের রপ্তানি প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার এবং বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানি পৌনে এক বিলিয়ন ডলারের মতো।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুই দেশের আন্তঃবাণিজ্যে বিভিন্ন বিধিনিষেধ এলেও গত বছর বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার ছিল। এতে বোঝা যায়, অনেক সময় অর্থনৈতিক বিবেচনা অন্য অনেক বিষয়কে ছাড়িয়ে যায়।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি একটি ভারতীয় বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে বৈঠক করেছে। পরে তারা ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) সঙ্গেও বৈঠক করে। ওই প্রতিনিধিদল দুই দেশের ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে দুটি টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। এর একটি বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ এবং অন্যটি ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করবে।
তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে গতি আনা, নতুন বিনিয়োগের সুযোগ ও ক্ষেত্র খুঁজে বের করা এবং সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
বৈঠকে দুই দেশের স্থলবন্দরগুলো পুরোপুরি কার্যকর করা, সীমান্ত হাটগুলো পুনরায় চালু এবং স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে তা পুনরায় চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এছাড়া সাবরুমসহ কয়েকটি সড়ক যোগাযোগ এবং গত বছর চালু হওয়া ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা নিয়েও আলোচনা হয়।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক ইস্যু রয়েছে, আবার উন্নয়নেরও অনেক সুযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে সময় সময় আলোচনা প্রয়োজন।
ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর উদ্যোগে ও তার দায়িত্বকালীন সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি। এটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিষয়।
বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
-টিএস