খুলনায় একই এলাকায় অল্প সময়ের ব্যবধানে দুর্বৃত্তদের গুলিতে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় মহানগরীর লবণচরা থানাধীন আশিবিঘা কালভার্টসংলগ্ন এলাকায় এ দুটি হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহতরা হলেন-মঞ্জুরুল ইসলাম (২২) ও নাজমুল (১৮)। এ নিয়ে গত এক মাসে খুলনায় পাঁচটি হত্যার ঘটনা ঘটল। এর মধ্যে তিনজনকে গুলি করে ও দুজনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে আশিবিঘা কালভার্টের কাছে অবস্থানকালে মঞ্জুরুল ইসলামকে লক্ষ্য করে ৮ থেকে ১০ জন দুর্বৃত্ত কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে তার শরীরে দুটি গুলি লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মঞ্জুরুল ইসলাম আশিবিঘা এলাকার খোকন সানার ছেলে। তিনি বাবার সঙ্গে গৃহনির্মাণের কাজ করতেন। পরিবারের আর্থিক অনটনের কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি। স্বজনদের দাবি, এলাকায় ভালো ছেলে হিসাবেই পরিচিত মঞ্জুরুলের সঙ্গে কারও কোনো পূর্বশত্রুতা ছিল না। বুধবার তিনি কাজে যাননি।
মঞ্জুরুলের মৃত্যুর খবর পেয়ে তার বাবা খোকন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে আসেন। সেখানে ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতাল এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর একই এলাকায় ১৮ বছর বয়সি নাজমুলকেও গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নাজমুলের বাবার নাম মনির শেখ। অল্প সময়ের ব্যবধানে একই এলাকায় পরপর দুই যুবক গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশাররফ হোসেন বলেন, আশিবিঘা এলাকার একটি ফাঁকা মাঠে ফুটবল খেলা হয়। ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মঞ্জুরুলকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে দ্বিতীয় হত্যাকাণ্ডসহ পুরো ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।
এসএ