ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
মিয়ানমারের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের দাবি রোহিঙ্গাদের
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৫৫ এএম
X

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয়ের স্বীকৃতি, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন এবং অতীতে সংঘটিত নৃশংসতার জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা (ইউসিআর)।

রোববার কক্সবাজার থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিবৃতিতে নিজেদের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন হিসেবে পরিচয় দিয়ে এসব দাবি জানায় ইউসিআর। সংগঠনটি মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১৫ আগস্টের বিবৃতিকে ‘বিভ্রান্তিকর’ এবং ইতিহাস পুনর্লিখনের ‘পরিকল্পিত প্রচেষ্টা’ বলে অভিহিত করেছে।

ইউসিআরের ভাষ্য, মিয়ানমার সরকার রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সংঘটিত অপরাধ আড়াল করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জবাবদিহির আহ্বান এড়িয়ে যেতে চাইছে। ‘বাঙালি’ শব্দটি রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয় মুছে ফেলার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও দাবি করেছে সংগঠনটি।

বিবৃতিতে বলা হয়, রোহিঙ্গারা রাখাইন রাজ্যের আদিবাসী জনগোষ্ঠী এবং তাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বহু শতাব্দী ধরে বিস্তৃত। মিয়ানমার সরকারও অতীতে রোহিঙ্গাদের দেশটির আদিবাসী জাতিগত সংখ্যালঘু হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল বলে দাবি করেছে ইউসিআর।

২০১৬ ও ২০১৭ সালের সামরিক অভিযান প্রসঙ্গে ইউসিআর বলেছে, রোহিঙ্গাদের দুর্দশার জন্য আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মিকে (আরসা) দায়ী করে মিয়ানমার সরকার প্রকৃত ঘটনা আড়াল করছে। সংগঠনটির দাবি, তাতমাদাওয়ের ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ ছিল গণহত্যা ও জাতিগত নির্মূলের একটি পদ্ধতিগত অভিযান। এ সময় ব্যাপক ধর্ষণ, ৩০০টির বেশি গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়া এবং পরিবারের সদস্যদের হত্যার ঘটনা ঘটেছে। জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন এসব ঘটনা নথিবদ্ধ করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

ইউসিআরের দাবি, মিয়ানমারের হিসাবে ৫ লাখ ৪০ হাজার ‘বাঙালি’ বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে বলা হলেও ২০১৭ সালের সামরিক অভিযানের সময় কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এর সঙ্গে ১৯৯১-৯২ সালের নিপীড়নের সময় পালিয়ে আসা আরও ২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা যুক্ত হয়।

রাখাইন রাজ্যে বর্তমানে ২ লাখের বেশি মানুষ বসবাস করছে—মিয়ানমারের এমন দাবিকেও বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করেছে ইউসিআর। তাদের ভাষ্য, রাখাইনে থাকা এসব মানুষের বড় অংশ কার্যত শিবিরে আটক অবস্থায় রয়েছে এবং চলাচলের স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের পরিচালিত যাচাই প্রক্রিয়াকে ‘প্রহসন’ আখ্যা দিয়ে ইউসিআর বলেছে, রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে নিবন্ধনের শর্ত দিয়ে তাদের জাতিগত পরিচয় ও ঐতিহ্য অস্বীকার করতে বাধ্য করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের দেওয়া ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের তালিকার মধ্যে মিয়ানমার ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০০-এর বেশি নাম ‘যাচাইযোগ্য নয়’ বলে চিহ্নিত করেছে বলে দাবি করেছে ইউসিআর। সংগঠনটির মতে, রোহিঙ্গাদের গ্রহণ এবং তাদের জাতিগত পরিচয় স্বীকার করতে মিয়ানমারের অনীহার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া ৪ হাজার ২৪১ জনকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করার বিষয়টিও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

রোহিঙ্গাদের পরিচয় ও প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত যাচাই প্রক্রিয়া জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের নেতৃত্বে স্বাধীনভাবে পরিচালনার দাবি জানিয়েছে ইউসিআর।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে শুধু বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের দ্বিপক্ষীয় বিষয় হিসেবে দেখানোরও বিরোধিতা করেছে সংগঠনটি। ইউসিআরের ভাষ্য, রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন কোনো কূটনৈতিক বিরোধ নয়; এটি মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিষয়। এ অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মামলা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

মিয়ানমার জানিয়েছে, রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হলে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের গ্রহণ করা হবে। তবে ইউসিআরের দাবি, তাতমাদাও যতদিন রাখাইনে ‘দখলদার শক্তি’ হিসেবে থাকবে, ততদিন সেখানে স্থিতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি তৈরি হবে না।

সংগঠনটির মতে, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীই রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের মূল অভিযুক্ত। যে বাহিনী রোহিঙ্গাদের পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করেছে, তাদের উপস্থিতিতে রোহিঙ্গারা রাখাইনে ফিরে যেতে নিরাপদ বোধ করবে না।

টিএস
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝