মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে বিএনপির একটি ওয়ার্ড কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতির ছেলে মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জুলাই দিবাগত রাতে উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চান্দেরচর লেকু মার্কেট এলাকায় বিএনপির কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে কার্যালয়ের আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পাঁচ দিন পর, ২২ জুলাই যুবদল কর্মী আব্দুস সালাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সিরাজদিখান থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের অংশ হিসেবে ২২ জুলাই নাহিদ হাসান (২৩) ও ওসমান গনি (২৪) নামে দুজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিএনপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি শহিদুল ইসলামের ছেলে মনির হোসেনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে আসে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মনির হোসেনকে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার উদ্দেশ্যে বিএনপির ওই কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়েছিল বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন মনির। তবে এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
বালুচর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব আবুল হোসেন বলেন, কারও ইন্ধনে হয়তো এমন কাজ করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। রাজনৈতিক কার্যালয় কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ মেটানোর জায়গা নয়। ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক বিরোধ থাকলে তা আইনগতভাবে সমাধান করা উচিত।
বালুচর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল লতিফ বলেন, ঘটনার বিষয়টি তিনি অবগত আছেন। বিএনপি নেতার ছেলে হোক বা অন্য কেউ হোক, এ ন্যক্কারজনক ঘটনার জন্য অপরাধীর শাস্তি হওয়া উচিত।
সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, বিএনপি কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আসামি মনির হোসেন আদালতে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
এনইউ/আরএন