ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
বিএনপির পরবর্তী মহাসচিবের হাল ধরবেন কে?
✎ জাহিদ বিপ্লব
⏲ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৯:২৮ পিএম আপডেট: ০৮.০৮.২০২৬ ১১:৪২ পিএম
সংগৃহীত ছবি
X

সংগৃহীত ছবি

আগামী বছরের শুরুতেই অনুষ্ঠিত হতে পারে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল। আর সেই কাউন্সিলেই দলের বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মহাসচিব পদে থাকছেন না-এমন ইঙ্গিত তিনি নিজেই গণমাধ্যমকে দিয়েছেন। ফলে নতুন মহাসচিব কে হচ্ছেন, তা নিয়ে বিএনপির অভ্যন্তরে আলোচনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। মেলতে শুরু করেছে ডাল পালা।

এরই মধ্যে আগামী ২২ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি পদে আসতে পারেন বলেও গুঞ্জনও রয়েছে। যদিও বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিক পর্যায়েই রয়েছে। সরকার বা দলীয় কোনো সূত্রই এটি নিশ্চিত কিরতে পারেনি।

জানাগেছে, ২০১১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ২০১৬ সালে তিনি ভারমুক্ত হয়ে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিবের দায়িত্ব নেন। আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে ছয়বার কারাবরণ করেন বিএনপির এই প্রবীণ নেতা। প্রায় দেড় দশক মহাসচিবের দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন সময়ে তাকে পরিবর্তনের গুঞ্জন উঠলেও সজ্জন ব্যক্তি ও ক্লিন ইমেজের কারণে পরিবর্ততানের গুঞ্জন গুঞ্জনই থেকে গেছে।

বিএনপির অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বিভিন্ন সময়ে দলের প্রথম যুগ্ম মহাসচিবকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়ার পর পরবর্তী সময়ে তাকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব করা হয়েছে। তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মির্জা ফখরুল ইসলাম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে কাউন্সিলের আগে বা পরে কাউকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে নতুন মহাসচিব নির্বাচনের আগে দলের স্থায়ী কমিটির শূন্যপদও পূরণ করা হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।

আলোচনার শীর্ষে রিজভীর নাম

নতুন মহাসচিব হিসেবে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। দলটির নেতাকর্মীদের একটি অংশের মতে, সারাদেশের জেলা, উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা সম্পর্কে রিজভীর ধারণা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি সরকারবিরোধী আন্দোলনে তার ভূমিকা দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।

সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তিনি সক্রিয় ছিলেন। বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, বর্তমান চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় বিভিন্ন সময় দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি।

সালাউদ্দিন আহমেদের নামও আলোচনায়

পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের নামও আলোচনায় রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুমের শিকার হওয়ার পর দীর্ঘ সময় ভারতের অবস্থান করেও তিনি সরকারবিরোধী আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবেও পরিচিত সালাউদ্দিন আহমেদ। বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে সংসদে তার ভূমিকা এবং বিরোধী দলের বিভিন্ন সমালোচনার জবাবে কৌশলী বক্তব্যও আলোচনায় এসেছে।

তবে দীর্ঘদিন দেশের বাইরে অবস্থান করার কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার প্রত্যক্ষ যোগাযোগ তুলনামূলক কম-এ বিষয়টিকে মহাসচিব হওয়ার ক্ষেত্রে একটি সম্ভাব্য বাধা হিসেবে দেখছেন দলের কেউ কেউ।

আলোচনায় রয়েছেন এ জেড এম জাহিদ হোসেনও

বিএনপির একটি সূত্র দাবি করেছে, পরবর্তী মহাসচিবের দৌড়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জিয়া পরিবারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনও পিছিয়ে নেই।

আলোচনায় আরও যারা আছেন

এছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদ মন্ত্রী শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মাহবুব উদ্দিন খোকনের নামও আলোচনায় রয়েছে।

দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতা ডেইলি অবজারভারকে বলেন, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে প্রায়ই তৃণমূলের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দূরত্ব তৈরি হয়। তাই সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে হলে তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে-এমন পরীক্ষিত নেতাকেই মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া উচিত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, “আমাদের চেয়ারম্যান যেহেতু রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী, তাই মহাসচিবই দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন। সে ক্ষেত্রে তৃণমূলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নেই-এমন কাউকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হলে তা সংগঠনের জন্য বুমেরাং হতে পারে।”

তৃণমূল চায় কর্মীবান্ধব নেতৃত্ব

বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা দলের সঙ্গে দীর্ঘদিন সম্পৃক্ত, তৃণমূলের কাছে গ্রহণযোগ্য এবং কর্মীবান্ধব কাউকে মহাসচিব হিসেবে দেখতে চান। তাদের মতে, নতুন মহাসচিবকে সারাদেশের নেতাকর্মীদের সম্পর্কে ধারণা রাখার পাশাপাশি সাংগঠনিক সক্ষমতাও থাকতে হবে।

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোদাররেস আলী ইসা ডেইলি অবজারভারকে বলেন, “পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মতো ডাইনামিক নেতৃত্ব আমরা প্রত্যাশা করি। আগামী কাউন্সিলে যদি সরাসরি ভোটের মাধ্যমে মহাসচিব নির্বাচিত হয়, তাহলে আমরা অবশ্যই কর্মীবান্ধব ও যোগ্য ব্যক্তিকে নির্বাচিত করব। আর চেয়ারম্যানকে যদি এ বিষয়ে একক ক্ষমতা দেওয়া হয়, তাহলে তিনিই দল ও সংগঠনের স্বার্থে যোগ্য নেতৃত্ব বেছে নিতে পারবেন।”

বিএনপির সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছ এমপি ডেইলি অবজারভারকে বলেন, “ভোটের মাধ্যমে জনগণ প্রমাণ করেছে বিএনপি দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল। তাই এ দলের মহাসচিব একজন অভিজ্ঞ ও দক্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হবেন-এটাই প্রত্যাশা করি। 

পাশাপাশি যারা দলের দুর্দিনে কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং সাহস জুগিয়েছেন, এমন ব্যক্তিত্বই প্রাধান্য পাবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।”

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ডেইলি অবজারভারকে বলেন, “বিষয়টি আপেক্ষিক। স্বাভাবিকভাবে দল ও দেশের জন্য যেটি ভালো হবে, সেটিই করা হবে। তবে মহাসচিব নির্বাচনের ক্ষেত্রে ত্যাগী, বিচক্ষণ ও অভিজ্ঞ কাউকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে।”

তিনি বলেন, “আমরাও শুনেছি মির্জা ফখরুল সাহেব আর মহাসচিব পদে থাকতে চান না।”

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু ডেইলি অবজারভারকে বলেন, “আমাদের চেয়ারম্যানের (তারেক রহমান) পছন্দ এবং তার সঙ্গে অ্যাডজাস্ট হতে পারে এবং দল ও দেশের জন্য কার্যকর এমন কাউকেই মহাসচিব করা হবে। তুলনামূলক তরুণ কেউ এ পদে আসারও সম্ভাবনা রয়েছে। কর্মীবান্ধব নেতাকেই এ পদের জন্য বেশি প্রাধান্য দেওয়া হবে।”

সব মিলিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উত্তরসূরি হিসেবে রুহুল কবির রিজভী, সালাউদ্দিন আহমেদ ও এ জেড এম জাহিদ হোসেনের নাম আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত কে দলের মহাসচিবের দায়িত্ব নেবেন, তা নির্ভর করছে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল এবং দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর।

টিআইএস


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝