ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
চার আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে উত্তপ্ত বাকৃবি, তদন্ত কমিটি গঠন
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০৭ পিএম
X

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) চারটি আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। পৃথক দুই ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

রোববার (০২ আগস্ট) রাত থেকে সোমবার (০৩ আগস্ট) দিবাগত মধ্যরাত পর্যন্ত হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল, মাওলানা ভাসানী হল, আশরাফুল হক হল এবং শহীদ শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পৃথকভাবে হামলা, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

সোমবার (০৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক বলেন, সংঘর্ষের ঘটনাগুলো তদন্তসাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিগুলো ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা অনুসন্ধান করবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যেই হোন না কেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষয়ক্ষতি, আহতদের বিষয়সহ সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে একটি সভাও সম্পন্ন হয়েছে এবং খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সোহরাওয়ার্দী হল ও আশরাফুল হক হল-সংক্রান্ত ঘটনায় একটি এবং শামসুল হক হল ও আশরাফুল হক হলের মধ্যকার ঘটনায় আরেকটি তদন্ত কমিটি কাজ করবে। এই দুই কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, আজকের মধ্যেই এর দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রথমে রাত সাড়ে ৯টার দিকে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল ও মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে প্রক্টোরিয়াল টিমের উপস্থিতিতে রাত সাড়ে ১১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এর কিছুক্ষণ পর, রাত প্রায় ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফসিল মোড় এলাকায় একটি চায়ের দোকানকে কেন্দ্র করে আশরাফুল হক হল ও শহীদ শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে বক্তব্য দেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানানোয় তাদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে আব্দুল জব্বার মোড় এলাকায় হলটির এক শিক্ষার্থীকে মাওলানা ভাসানী হলের ৮ থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, আমি জব্বার মোড় দিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন আমাকে পেছন থেকে টেনে ধরে। আমি জানতে চাইলে তারা উসকানিমূলক কথা বলতে শুরু করে এবং পরে আমাকে মারধর করে। তারা এমনভাবে মারছিল যে, আমি ভেবেছিলাম হয়তো আর বাঁচব না। কোনোভাবে সেখান থেকে পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পাই। তারা আমার চশমা ভেঙে ফেলে এবং মানিব্যাগ নিয়ে যায়। এর আগে একটি হোটেলে খাবার খেতে গিয়ে হামলাকারীদের কয়েকজনকে আমাকে শনাক্ত করতে দেখেছি।

ঘটনার পরপরই সোহরাওয়ার্দী হলের শিক্ষার্থীরা বিচার দাবিতে একত্রিত হন। হলটির জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী মিজু বলেন, আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। আগের ঘটনার পর কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় আবারও এমন হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসন যদি দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না করে, তাহলে ভবিষ্যতেও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ অস্থিতিশীল থাকবে। আমরা চাই, দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এ বিষয়ে মাওলানা ভাসানী হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ওরা যা করেছে, তা অন্যায়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া। গত রাতের ঘটনায় উভয় পক্ষেরই দায় রয়েছে।

অন্যদিকে, একই রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফসিল মোড় এলাকায় শহীদ শামসুল হক হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী আশরাফুল হক হলের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় একটি চায়ের দোকানে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরে দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, উভয় পক্ষই একে অপরের হলের গেট এবং আশপাশের বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আশরাফুল হক হলের এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, আমরা ব্যাচমেট ও জুনিয়রসহ সাতজন শিক্ষার্থী ফসিল এলাকায় একটি চায়ের দোকানে বসেছিলাম। এ সময় শামসুল হক হলের প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী অতর্কিত হামলা চালিয়ে গ্লাস, কাপ ও বেঞ্চ দিয়ে আমাদের মারধর করে। হামলাকারীরা গালিগালাজ করতে করতে আমাদের শামসুল হক হলের দিকে নিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করে।

অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শহীদ শামসুল হক হলের এক শিক্ষার্থী বলেন, আগের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। ফসিল এলাকায় হাতাহাতির ঘটনার পর ভুল তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে আশরাফুল হক হলের শিক্ষার্থীরা শামসুল হক হলের গেটে গিয়ে ভাঙচুর চালান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম বলেন, আজ মাননীয় উপাচার্যের নেতৃত্বে প্রোভোস্ট কাউন্সিল, প্রক্টোরিয়াল বডি ও অ্যাডভাইজরি বডির সদস্যদের নিয়ে সাম্প্রতিক ধারাবাহিক সংঘর্ষের ঘটনাগুলো পর্যালোচনায় একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন হল থেকে পাওয়া লিখিত অভিযোগ, প্রশাসনের পর্যবেক্ষণ এবং ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে যারা দোষী হিসেবে প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন ও অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুস্পষ্ট অর্ডিন্যান্স রয়েছে এবং সেই বিধান অনুসারেই প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, এক সপ্তাহ আগে প্রথম বর্ষের দুই শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে আশরাফুল হক হল ও শহীদ শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৩ জন শিক্ষার্থী আহত হন। এছাড়া, এর একদিন আগে শনিবার রাতে অনলাইনে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথাকাটাকাটিকে কেন্দ্র করে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল ও মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে, যাতে চারজন শিক্ষার্থী আহত হন। এক সপ্তাহের ব্যবধানে চারটি আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এজে/আরএন


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝