দেশের বাজারে কাঁচা মরিচের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। এর আওতায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের ১১ জন আমদানিকারক প্রায় ৩ হাজার ৪০০ টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি পেয়েছেন। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে সোমবার বিকেল থেকেই হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এতে বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে এবং কাঁচা মরিচের দাম আরও কমবে।
জানা গেছে, আমদানির অনুমতি পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকরা এলসি খোলাসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করছেন। সব প্রক্রিয়া শেষ হলে সোমবার বিকেল থেকেই ভারত থেকে কাঁচা মরিচবাহী ট্রাক হিলি স্থলবন্দরে প্রবেশ করবে।
হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক শাহাবুল ইসলাম জানান, টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মরিচের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন কমেছে। এর ফলে বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়ে কাঁচা মরিচের দাম কেজিপ্রতি ৩০০ টাকারও বেশি হয়ে যায়। তিনি বলেন, ভারতের বাজারে কাঁচা মরিচের দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই আমদানির অনুমতির দাবি জানিয়ে আসছিলেন আমদানিকারকরা। সরকারের অনুমতি পাওয়ার পর দ্রুত এলসি খুলে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, সোমবার বিকেল থেকেই ভারতীয় কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হবে।
হিলি স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক আনোয়ার হোসেন বলেন, দেশের বাজারে কাঁচা মরিচের মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার আমদানির অনুমতি দিয়েছে। অনুমতি পাওয়া আমদানিকারকরা এখন ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি করতে পারবেন। তিনি আরও জানান, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে সর্বশেষ গত বছরের ২০ নভেম্বর ভারতীয় কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও এ বন্দর দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হচ্ছে।
এদিকে আমদানির খবরে বাজারে ইতোমধ্যেই ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, মাত্র এক দিনের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ৯০ টাকা কমেছে। বর্তমানে বাজারে আগের তুলনায় কম দামে কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে। আমদানি নিয়মিত হলে সরবরাহ আরও বাড়বে এবং দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে চলে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জিএম/আরএন