২০২৪ সালের ৩ আগস্ট—জুলাই অভ্যুত্থানের ইতিহাসের এক ঐতিহাসিক ও চূড়ান্ত অধ্যায়। এদিনই শেখ হাসিনা সরকারের পতনের লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে 'এক দফা' দাবি ঘোষণা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা। পাশাপাশি এদিনই সেনাসদরে সেনা কর্মকর্তাদের বৈঠক শেষে সেনাপ্রধান জনগণের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন, যা আন্দোলনের গতিপথ পুরোপুরি বদলে দেয়।
অন্যদিকে, পরিস্থিতি সংকটজনক অনুধাবন করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানান এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনে আটক সাধারণ শিক্ষার্থীদের মুক্তির নির্দেশ দেন।
সেদিন ‘প্রভাত প্রেরণা’ কর্মসূচির পর রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও চট্টগ্রামের নিউমার্কেট এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে বিশাল গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শহীদ মিনারে লাখো ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষের উত্তাল উপস্থিতিতে এক দফা দাবি উত্থাপন করেন আন্দোলনের শীর্ষ সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম। শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগ ও এক দফার পাশাপাশি তিনি একটি অন্তর্বর্তীকালীন জাতীয় সরকার গঠনের রূপরেখা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে পরদিন ৪ আগস্ট থেকে দেশব্যাপী সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়।
ছাত্র-জনতার এই এক দফার দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে অবিলম্বে সরকারকে পদত্যাগের আহ্বান জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। অপরদিকে আন্দোলনকারীদের এক দফা ঘোষণার বিপরীতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পরদিন দেশের প্রতিটি জেলা ও মহানগরীতে নিজেদের পাল্টা জমায়েত ও রাজনৈতিক কর্মসূচির ঘোষণা দেয় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।
তবে দিনটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া বার্তাটি আসে সেনাসদর থেকে। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বিভিন্ন স্তরের সেনাসদস্যদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে স্পষ্ট জানান যে, সেনাবাহিনী সব সময় জনগণের পাশে থাকবে। সেনাবাহিনীর এই ঐতিহাসিক অবস্থান এবং গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল তরঙ্গের সামনেই নির্ধারিত হয়ে যায় তৎকালীন সরকারের পতনের চূড়ান্ত পরিণতি।
এসএ