বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, রাষ্ট্র ও ক্ষমতাবানকে প্রশ্ন করা এবং তাদের জবাবদিহিতার মধ্যে রাখা সাংবাদিকতার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এটি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, জনগণের অধিকার রক্ষা করে এবং সমাজে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
রোববার দুপুরে গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ আয়োজিত সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গাজীপুর জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামাল উদ্দিন সবুজ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলামসহ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা বক্তব্য দেন।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, “সত্য বলার সাহসিকতাই সাংবাদিকতার মূলমন্ত্র। গণমাধ্যমের জন্য প্রয়োজন সৎ, সত্যনিষ্ঠ ও পক্ষপাতমুক্ত সাংবাদিকতা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, দেশে এ ধরনের সাংবাদিকতার ঘাটতি স্পষ্ট।”
তিনি বলেন, দলবাজি, অপসাংবাদিকতা, হলুদ সাংবাদিকতা ও তথ্যসন্ত্রাস সাংবাদিকতার মর্যাদা ক্ষুণ্ন করছে। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার প্রশ্নে কোনো আপস করা যাবে না। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, অনেক ক্ষেত্রে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার জায়গা দখল করে নিয়েছে স্বার্থনির্ভর সাংবাদিকতা।
বিএফইউজের মহাসচিব আরও বলেন, “একটি আদর্শ গণমাধ্যম কোনো দল, গোষ্ঠী, সরকার, বিদেশি রাষ্ট্র বা কোনো সংস্থার কাছে দায়বদ্ধ নয়; এর দায়বদ্ধতা কেবল দেশের জনগণের কাছে। বস্তুনিষ্ঠ, সৎ ও নির্ভীক সাংবাদিকতা দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনে।”
তিনি বলেন, “গণমাধ্যমের পরাজয় মানে জনগণের পরাজয়, আর জনগণের পরাজয় মানে রাষ্ট্রের পরাজয়। তাই গণমাধ্যমকে কখনো পরাজিত হতে দেওয়া যাবে না।”
গণমাধ্যমের বর্তমান সংকট প্রসঙ্গে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, “বাংলাদেশের গণমাধ্যম নানা সংকটে আবর্তিত হচ্ছে, যার ভিত্তি তৈরি হয়েছে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে। গণমাধ্যমের সব সময় জনগণের পক্ষে থাকার কথা থাকলেও জনগণের সঙ্গে একটি দূরত্ব তৈরি হয়েছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, “সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনাকে গুম-খুনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রশ্ন না করে অনেক সাংবাদিক তোষামোদ করেছেন। ফলে সংবাদ সম্মেলন অনেক সময় প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনা সভায় পরিণত হতো। এর মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে স্বৈরাচার থেকে মহাস্বৈরাচার এবং ফ্যাসিস্ট থেকে মহাফ্যাসিস্টে পরিণত করার ক্ষেত্রে দালাল সাংবাদিকদেরও ভূমিকা ছিল। এই সত্য আমাদের স্বীকার করতে হবে।”
জেবি/এসএ