ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
বিশ্ব বাঘ দিবস: নানা হুমকির মধ্যেও বাড়ছে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা
✎ অবজারভার সংবাদদাতা
⏲ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৬:২০ পিএম
X
Advertisement

পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। আর এই বনের রাজা রয়েল বেঙ্গল টাইগার। নানা ঝুঁকি ও হুমকি মোকাবিলা করেও সাম্প্রতিক জরিপে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে।

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সুরক্ষা প্রাচীর সুন্দরবনের প্রধান প্রহরী আমাদের জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগার। জলবায়ু পরিবর্তন ও মানবসৃষ্ট নানা হুমকির কারণে একসময় আশঙ্কাজনক হারে কমছিল সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা। তবে সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগের সুফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সুসংবাদ মিলেছে—গত সাত বছরে দেশে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে ১১টি।

বুধবার (২৯ জুলাই) বিশ্ব বাঘ দিবস। দিবসটিতে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির এই তথ্য প্রকৃতিপ্রেমী ও বনজীবীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

সুন্দরবন রক্ষায় নিয়োজিত সমন্বয়কারী মো. নুর আলম শেখ জানান, বিভিন্ন সময়ে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাংলাদেশকে ঢালের মতো রক্ষা করে আসছে সুন্দরবন। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব এবং বিভিন্ন মানবসৃষ্ট কারণে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৯১টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে একসময় আশঙ্কাজনক হারে কমতে শুরু করেছিল বাঘের সংখ্যা।

বাঘের সংখ্যা হ্রাস পাওয়ায় নড়েচড়ে বসে বন বিভাগ। গ্রহণ করা হয় বাঘের নিরাপত্তা ও বংশবৃদ্ধির জন্য বিশেষ পরিকল্পনা। এর সুফলে সম্প্রতি পরিচালিত দুটি পৃথক জরিপে সুন্দরবনে বাঘ বৃদ্ধির ইতিবাচক তথ্য উঠে এসেছে। তবে গবেষকরা বলছেন, বাঘের সংখ্যা বাড়লেও প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট হুমকি পুরোপুরি দূর হয়নি। বাঘের নিরাপদ আবাসস্থল, পর্যাপ্ত খাদ্য এবং নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী বলেন, পশুদের আবাসস্থলে যদি মানুষের অবাধ চলাচল থাকে, তবে তাদের প্রজননেও বড় ধরনের সমস্যা হতে পারে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গবেষক সামিউল হক বলেন, সর্বশেষ জরিপে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে—এটি আমাদের জন্য ভালো সংবাদ। তবে বাঘের বৃদ্ধি ও স্বাভাবিক প্রজনন বজায় রাখতে কিছু জরুরি উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। বাঘের আবাসস্থল সুরক্ষা করতে হবে। কঠোরভাবে বাঘ শিকার প্রতিরোধ করতে হবে। বাঘ-মানুষের দ্বন্দ্ব কমানোর জন্য কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। চোরাকারবারিদের নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ধ্বংস করতে হবে। ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ের মাধ্যমে বাঘের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। তবেই বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। অন্যথায় নানা সংকটে আবারও বাঘের সংখ্যা কমে যেতে পারে।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও, বাগেরহাট) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, সুন্দরবনের বাঘের প্রধান খাদ্য হরিণ। তাই বাঘের খাদ্য ও আবাসস্থল নিরাপদ রাখতে হরিণ শিকারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বন বিভাগ। এরই মধ্যে হরিণ শিকারি ও পাচারকারীদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি বলেন, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বাঘ সংরক্ষণে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ফলেই সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বর্তমানে সুন্দরবনে বাঘ তুলনামূলকভাবে নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, বাঘ ও মানুষের মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিরসন এবং লোকালয়ে বাঘের অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে সরকার যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। বনের সীমান্তসংলগ্ন ৭৪ কিলোমিটার এলাকায় তৈরি করা হচ্ছে বিশেষ পরিবেশবান্ধব সুতলির বেড়া, যাতে বাঘ কোনোভাবেই লোকালয়ে প্রবেশ করতে না পারে।

নয়নাভিরাম সুন্দরবনে এখন আগের তুলনায় বাঘের দেখা মিলছে বেশি। তবে জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগারের স্থায়ী নিরাপত্তা এবং সংখ্যা বৃদ্ধির এই ধারা বজায় রাখতে বন বিভাগের পাশাপাশি স্থানীয় সচেতন বাসিন্দাদেরও একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে বন বিভাগ।


জেইউ/আরএন
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement