রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনালের যানজট কমাতে পূর্বাচলে নির্মিত অস্থায়ী বাস ডিপো চালু করা হলেও প্রত্যাশিত সাড়া মিলছে না। উদ্বোধনের ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ দূরপাল্লার বাস এখনো ডিপো ব্যবহার করছে না। ফলে মহাখালীর যানজট কমানোর উদ্যোগের সুফলও দৃশ্যমান হয়নি।
পূর্বাচলের ২ নম্বর সেক্টরের গুতিয়াব এলাকায় নির্মিত অস্থায়ী বাস ডিপো ঘুরে দেখা যায়, বিশাল ডিপোটি প্রায় ফাঁকা। যেখানে শতাধিক বাসের অবস্থান করার কথা, সেখানে বিভিন্ন পরিবহনের মাত্র ১০ থেকে ১১টি বাস দেখা যায়। পুরো এলাকায় কর্মচাঞ্চল্যের বদলে ছিল নীরব পরিবেশ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মহাখালী বাস টার্মিনালের দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে গত ১৬ জুলাই পূর্বাচল অস্থায়ী বাস ডিপোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দূরপাল্লার বাসগুলো নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগে পূর্বাচলে অবস্থান করবে এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী মহাখালীতে গিয়ে যাত্রী তুলে গন্তব্যে রওনা দেবে। এতে মহাখালী এলাকায় অপ্রয়োজনীয় বাসের অবস্থান কমে যানজটও নিয়ন্ত্রণে আসার কথা।
ডিপোতে গিয়ে দেখা যায়, ইকবাল পরিবহন, সাভার পরিবহন লিমিটেড, দিশারী পরিবহন সার্ভিস, সৌখিন সিটিং সার্ভিস, গ্রীন বাংলা এসি সার্ভিস, হাজী ট্রাভেল ও পিংকি পরিবহনসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের অল্পসংখ্যক বাস সেখানে রাখা হয়েছে।
পরিবহন-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেক কোম্পানি এখনো আগের পদ্ধতিতেই বাস পরিচালনা করছে। ফলে নতুন ব্যবস্থার কার্যকারিতা দৃশ্যমান হচ্ছে না। তাঁদের মতে, উদ্যোগ সফল করতে হলে সংশ্লিষ্ট সব পরিবহনকে বাধ্যতামূলকভাবে এই ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ইয়াছিন মিয়া বলেন, “এত বড় ডিপো নির্মাণ করা হলেও প্রতিদিন খুব কমসংখ্যক বাস দেখা যায়। পরিকল্পনাটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হলে সাধারণ মানুষ এর সুফল পাবে না।”
পিংকি পরিবহনের স্টাফ খলিলুর রহমান মিঠু জানান, প্রত্যন্ত জেলা থেকে সকালে ঢাকায় আসা কিছু বাসই আপাতত ডিপোতে রাখা হচ্ছে।
সুপারভাইজার সুমন মিয়া বলেন, মহাখালী টার্মিনালে সমিতিভুক্ত বাস ছাড়া অন্য বাস দীর্ঘ সময় রাখা কঠিন। অতিরিক্ত ব্যয় এড়াতেই কিছু বাস পূর্বাচলে রাখা হচ্ছে।
ঢাকা জেলা বাস মিনিবাস সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সহসভাপতি ইউসুফ মির্জা বলেন, ডিপোর অবকাঠামোগত কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। সেখানে চালক ও স্টাফদের খাবারের ব্যবস্থা নেই, পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধাও গড়ে ওঠেনি। বর্তমানে ২০ থেকে ৩০টি বাস রাখা সম্ভব হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী এক মাসের মধ্যে কাজ শেষ হলে মেরামতসহ প্রয়োজনীয় সব সেবা চালু হবে এবং আরও বেশি বাস ডিপো ব্যবহার করবে। এতে মহাখালী বাস টার্মিনালের ওপর চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
ডিপোতে দায়িত্বরত গুলশান ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট শফিউল্লাহ জানান, মহাখালী টার্মিনালে দীর্ঘ সময় অলস পড়ে থাকা কিছু বাস এবং সকালে ঢাকায় পৌঁছে রাতে আবার ট্রিপে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা কয়েকটি বাস বর্তমানে ডিপোতে রাখা হচ্ছে। শনিবার বিকেল পর্যন্ত ডাম্পিংয়ে থাকা ২৫টিসহ মোট ৩৬টি বাস ডিপোতে অবস্থান করছিল।
এসআর