পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারী মি. সিমের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদল। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল ৫টায় তাঁরা পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরে প্রতিনিধিদলটি দেবীগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করে সম্ভাব্য বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, “উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ী নেতাদের দেবীগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনে আনা হচ্ছে। মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীরাও এ অঞ্চলে সম্ভাবনা দেখেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “আমি চাই, এই অর্থনৈতিক অঞ্চলকে কেন্দ্র করে শিল্পকারখানা গড়ে উঠুক। এতে এলাকার বেকার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটবে। মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীরা এখানে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।”
মালয়েশিয়ান বিনিয়োগকারী মি. সিম বলেন, “দেবীগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। প্রাথমিকভাবে আমরা এখানে ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের সম্ভাবনা যাচাই করছি। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য জ্বালানি যুক্ত হবে। পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনেরও সুযোগ রয়েছে বলে আমরা মনে করছি।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, উন্নত সড়ক যোগাযোগ, কৃষিভিত্তিক কাঁচামালের সহজলভ্যতা এবং তুলনামূলক কম উৎপাদন ব্যয়ের কারণে দেবীগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল শিল্প বিনিয়োগের জন্য সম্ভাবনাময়। বিশেষ করে কৃষিভিত্তিক শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং রপ্তানিমুখী শিল্প স্থাপনের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে দেবীগঞ্জসহ পঞ্চগড় জেলার হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলে শিল্পায়নের গতি বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ২৪ আগস্ট পঞ্চগড়ে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)-এর মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। শুরুতে ৬০২ দশমিক ৪২ একর জমিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা থাকলেও পরে তা সংশোধন করে ২৫০ দশমিক ৮৫ একরে নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ২৪০ একরে অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং ১০ দশমিক ৮৫ একরে সংযোগ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে ১৮৫ দশমিক ৮৬ একর জমি বেজার অনুকূলে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট জমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এইচআর/আরএন