ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের পানিতে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি কক্সবাজারে এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। বৃষ্টিপাত কিছুটা কমায় কোথাও কোথাও পানি কমতে শুরু করলেও জেলার ৪০টি ইউনিয়নের প্রায় ৪ লাখ মানুষ এখনো পানিবন্দী অবস্থায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ শুরু হলেও অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সহায়তা পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। পানিবন্দী মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার, শিশুখাদ্য ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে বন্যাদুর্গত পেকুয়া ও চকরিয়া উপজেলা পরিদর্শন এবং ত্রাণ বিতরণকালে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, বন্যাকবলিত মানুষের সহায়তায় সরকার কক্সবাজারে ৩০ লাখ টাকা নগদ অর্থ এবং ৪৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে জেলার দুই থেকে আড়াই লাখ মানুষের কাছে ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। দুর্গত মানুষের পাশে প্রশাসন কাজ করছে।
এর আগে জেলা প্রশাসক পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাংলাপাড়া গ্রাম পরিদর্শন করেন। সেখানে পানিবন্দী মানুষের মধ্যে ত্রাণ, ওষুধ, মোমবাতি ও নিরাপদ পানি বিতরণ করা হয়। এ সময় পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
পরে জেলা প্রশাসক চকরিয়া উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলার বেতুয়া বাজার স্টেশন এলাকা এবং কোনাখালী ইউনিয়নের মরংগুনা এলাকা পরিদর্শন করেন। সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে ত্রাণসামগ্রী, ওষুধ, মোমবাতি ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চকরিয়া ও পেকুয়াসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবন এখনো পানির নিচে রয়েছে। অধিকাংশ নলকূপ ডুবে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক বাড়িতে বুক থেকে কোমরসমান পানি থাকায় রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, অপরিকল্পিত অবকাঠামো ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় অনেক এলাকায় পানি দ্রুত নামছে না।
চকরিয়ার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের কয়েকজন বন্যাদুর্গত বাসিন্দা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তারা পানিবন্দী থাকলেও অনেক এলাকায় এখনো পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তা পৌঁছায়নি।
চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, “বাড়িতে কোমরসমান পানি। রান্না করার কোনো সুযোগ নেই। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির জন্য সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে।”
চকরিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মঈন উদ্দিন বলেন, “তিন দিন ধরে পানিবন্দী আছি। শিশুদের খাবারও পাওয়া যাচ্ছে না। যে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় কম।”
প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দুর্গত এলাকায় ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এসআর