২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করলেও শুরু থেকেই নানা জটিলতার মুখে পড়েছে ইরান। মিসরের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্রয়ের পর আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলেছেন ইরানের প্রধান কোচ আমির ঘালেনি।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ঘালেনি বলেন, “স্বাগতিক দেশ আমাদের সঙ্গে ন্যায়সঙ্গত আচরণ করেনি। আমি ফিফার প্রতি আহ্বান জানাই, ভবিষ্যতে কোনো বিশ্বকাপে যেন কোনো আয়োজক দেশ কোনো দল বা খেলোয়াড়ের সঙ্গে এমন আচরণ করতে না পারে।”
ইরান শিবিরের দাবি, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাব তাদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতেও পড়েছে। নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে দলটির পরিকল্পনায় বারবার পরিবর্তন আনতে হয়েছে। কয়েকজন সাপোর্ট স্টাফ যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা না পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
বিশ্বকাপের আগে ইরানের পরিকল্পনা ছিল অনুশীলন ক্যাম্প মেক্সিকোতে রেখে প্রতিটি ম্যাচের দুই দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া। পরে ফিফা সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন করে ম্যাচের দিন যাতায়াতের সিদ্ধান্ত দেয়। ব্যাপক সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত সংশোধন করা হলেও এরই মধ্যে দলের প্রস্তুতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বলে দাবি করেন ঘালেনি।
ইরান কোচের ভাষ্য, অনিশ্চিত ভ্রমণসূচি খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
তিনি বলেন, “আমাদের যদি দুই সপ্তাহ আগে আয়োজক দেশে গিয়ে প্রস্তুতির সুযোগ দেওয়া হতো, তাহলে আমরা আরও ভালোভাবে নিজেদের প্রস্তুত করতে পারতাম। কিন্তু সেই ন্যায্য সুযোগ থেকে আমরা বঞ্চিত হয়েছি।”
গ্রুপ 'জি'-তে নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম ও মিসরের বিপক্ষে টানা তিনটি ম্যাচই ড্র করেছে ইরান। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২-২, বেলজিয়ামের সঙ্গে গোলশূন্য এবং মিসরের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে তারা বর্তমানে গ্রুপের তৃতীয় স্থানে রয়েছে। তবে শেষ ৩২-এ ওঠার সম্ভাবনা এখনও টিকে আছে।
সব প্রতিকূলতার মধ্যেও খেলোয়াড়দের প্রশংসা করেছেন ঘালেনি। তিনি বলেন, আমি আমার দলকে নিয়ে গর্বিত। এই তরুণ খেলোয়াড়রা যে লড়াই করেছে, তা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এত সমস্যার মধ্যেও তারা নিজেদের সেরাটা দিয়েছে।
-টিএস