তিন মাসের প্রবেশ নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে পূর্ব সুন্দরবনে নজিরবিহীন ত্রিমাত্রিক নজরদারি চালাচ্ছে বন বিভাগ। নিষেধাজ্ঞার প্রথম ২৫ দিনেই সংঘবদ্ধ হরিণ শিকারের চারটি প্রচেষ্টা নস্যাৎ করা হয়েছে। আকাশে হাই-ডেফিনিশন ড্রোন, নদী-খালে দ্রুতগামী নৌযানের টহল এবং স্থলভাগে বিশেষ পেট্রোল টিমের সমন্বিত অভিযানে মিলছে ইতিবাচক ফল।
জীববৈচিত্র্যের প্রজনন ও প্রাকৃতিক পুনরুদ্ধারের সুযোগ নিশ্চিত করতে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের আওতাধীন প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার হেক্টর বনাঞ্চলে গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত মাছ ধরা, মধু ও কাঁকড়া আহরণ এবং পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ সময় বনের ৩৩৪ প্রজাতির উদ্ভিদ ও ৪৫৩ প্রজাতির বন্যপ্রাণীর প্রজনন ও স্বাভাবিক বিকাশের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। এ কারণে চলতি বছর নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
শরণখোলা ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সময়টিতে চিত্রা হরিণের বিচরণ এবং মাছের প্রজনন সবচেয়ে বেশি হয়। এই সুযোগে চোরাশিকারি ও অসাধু চক্র বনে প্রবেশের চেষ্টা করে। তাই নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
বন কর্মকর্তারা জানান, পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী নিজেই নিয়মিত মাঠপর্যায়ে টহল ও অভিযান তদারকি করছেন। ফলে বনরক্ষীদের দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের শিথিলতার সুযোগ নেই।
বন বিভাগের তথ্য বলছে, পূর্ব সুন্দরবনে অন্তত ১৫০ জন চিহ্নিত হরিণ শিকারির তালিকা রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার প্রথম ২৫ দিনে শুধু শরণখোলা রেঞ্জেই হরিণ শিকারের চারটি সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে। এ সময় প্রায় সাড়ে ৫ হাজার ফুট হরিণ ধরার ফাঁদ, দুটি ট্রলার এবং হরিণ জবাইয়ের আটটি ছুরি উদ্ধার করা হয়। দুটি মামলায় সাতজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
একই সময়ে চাঁদপাই রেঞ্জে বন অপরাধের উদ্দেশ্যে প্রবেশের অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া বিষ দিয়ে মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত আটটি নৌকা জব্দ করা হয়েছে এবং একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সুন্দরবনসংলগ্ন শরণখোলা উপজেলার বাসিন্দা তুহিন বয়াতী, রুবেল ফরাজী ও কামাল হোসেন বলেন, বন বিভাগের কঠোর নজরদারির কারণে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় থাকা অপরাধী চক্রের তৎপরতা এবার অনেকটাই কমেছে। পাশাপাশি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী কমিটি গঠনের ফলে বন রক্ষায় জনসম্পৃক্ততাও বেড়েছে।
পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘বিষ দিয়ে মাছ শিকারে জেলেদের প্রলুব্ধ করার অভিযোগে সুন্দরবনসংলগ্ন মাছের ডিপোগুলোতে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। বন বিভাগ সর্বোচ্চ সক্ষমতা দিয়ে বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে কাজ করছে। সুন্দরবন রক্ষায় স্থানীয় জনগণসহ সব অংশীজনের সহযোগিতা প্রয়োজন।’
-টিএস