মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ জুবাইদা রহমানের ৫৫তম জন্মদিন উপলক্ষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে ফলজ ও ঔষধি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সর্বস্তরের চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডাঃ মো. রফিকুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডাঃ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজের কে-৪৩ ব্যাচের কৃতি শিক্ষার্থী ডাঃ জুবাইদা রহমান এমবিবিএস ডিগ্রি সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করে চিকিৎসা পেশায় তাঁর যাত্রা শুরু করেন। শিক্ষাজীবনে ধারাবাহিক মেধা, নিষ্ঠা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি নিজেকে একজন দক্ষ ও প্রতিশ্রুতিশীল চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। পরবর্তীতে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অংশ হিসেবে চিকিৎসাসেবায় যুক্ত হন।
তিনি আরও বলেন, উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষা ও বিশেষায়িত জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে ডাঃ জুবাইদা রহমান যুক্তরাজ্যের ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন থেকে সর্বোচ্চ নম্বর ও স্বর্ণপদকসহ এমএসসি কার্ডিওলজি ডিগ্রি অর্জন করেন। কার্ডিওলজির মতো জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এ উচ্চতর প্রশিক্ষণ হৃদরোগ নির্ণয় ও ব্যবস্থাপনায় তাঁর দক্ষতাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এই একাডেমিক অভিজ্ঞতা তাঁর পেশাগত সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
অধ্যাপক ডাঃ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ১/১১ সরকার ও বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্মম আচরণের কারণে নিজ পরিবারের পাশে থাকতে গিয়ে ডাঃ জুবাইদা রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসিত জীবনযাপন করেন। তবে তিনি দমে যাননি। বিগত ১৭ বছর ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ছায়াসঙ্গী হিসেবে থেকে তিনি আবারও দেশের মানুষের সেবায় ফিরে এসেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, আপসহীন দেশনেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে ডাঃ জুবাইদা রহমান শুরু থেকেই সম্পৃক্ত ছিলেন। তাঁর স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার সমন্বয় এবং এভারকেয়ার হাসপাতালসহ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক আরও বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দেখানো পথ অনুসরণ করে সবসময় পরিবেশবান্ধব কর্মকাণ্ডে বিশ্বাস করে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান গাছ উপহার দেওয়ার মাধ্যমে সৌদি আরবের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছিলেন। আজও সেই নিমগাছ সৌদি আরবে ‘জিয়া ট্রি’ নামে পরিচিত। সেই ধারাবাহিকতায় জিয়া পরিবারের একজন সদস্যের জন্মদিনে তাঁর প্রিয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে নিমসহ বিভিন্ন ফলজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।
আয়োজকরা বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জাতীয়তাবাদী চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উদ্যোগে আয়োজিত এ বার্ষিক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি দেশের স্বাস্থ্যখাতের পেশাজীবীদের সামাজিক ও পরিবেশগত দায়িত্ববোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। এ ধরনের উদ্যোগ পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
তারা আরও বলেন, চিকিৎসা পেশাজীবীরা শুধু চিকিৎসাসেবার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নন; একটি সুস্থ, সবুজ ও টেকসই সমাজ গঠনে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক দায়িত্ব রয়েছে। এ কর্মসূচি সেই দায়বদ্ধতারই প্রতিফলন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ মো. মাজহারুল শাহীন, অর্থোপেডিক্স বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডাঃ জাকির হোসেন বিপ্লব, নাক-কান-গলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডাঃ আসাদুর রহমান, নেফ্রোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেজবাহ উদ্দিন নোমান, হৃদরোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মাহমুদুর রহমান নোমান, চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ফখরুজ্জামান রনি, শিক্ষক সমিতির সদস্যসচিব সহযোগী অধ্যাপক আহমেদ সামি আল হাসান, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফোরামের আহ্বায়ক সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মির্জা আসাদুজ্জামান রতন, ইউরোলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডাঃ মো. আসাদুজ্জামানসহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।