Thursday | 11 June 2026 | Reg No- 06
Epaper | English
   
English | Thursday | 11 June 2026 | Epaper
BREAKING: ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট পেশ আজ       হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করলো ইরান      হামের উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১০৩৯      ৫০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল দেশের জিডিপি      দেশে প্রথমবার মাথাপিছু আয় ৩ হাজার ডলার ছাড়াল      কবর থেকে সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের অনুমতি      দ্রুত ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে: সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী      

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট পেশ আজ

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৮:৩৮ এএম   (ভিজিট : ২০)

দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে গতি ফেরানো এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ জাতীয় বাজেট পেশ করতে আজ জাতীয় সংসদে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। 

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত এই মেগা বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসের ৫৫তম এবং বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদের প্রথম বাজেট।

এবারের বাজেটে অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়ার পাশাপাশি অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে এবং দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় কর কাঠামোয় বড় ধরনের ওলটপালট আনা হচ্ছে এই মহাপরিকল্পনায়।

বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এই ঐতিহাসিক বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর এটিই প্রথম বাজেট উপস্থাপন।

বাজেটের আয় ও ব্যয়ের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বরাবরের মতোই বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেখানে আগামী অর্থবছরের জন্য সরকার প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি চূড়ান্ত করেছে। এই উন্নয়ন বাজেটের সিংহভাগ অর্থাৎ ১ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা মেটানো হবে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন বা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এবং বাকি ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা প্রকল্প ঋণ বা বৈদেশিক সহায়তা তহবিল থেকে সংস্থানের পরিকল্পনা করা হয়েছে। 
দীর্ঘমেয়াদি ও মেগা প্রকল্পগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং নতুন অবকাঠামো নির্মাণের গতি ধরে রাখতেই মূলত উন্নয়ন বাজেটে এই বিশাল অঙ্কের বরাদ্দ রাখা হয়েছে। 

অন্যদিকে, উন্নয়ন কার্যক্রম সচল রাখা এবং দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামের ঊর্ধ্বগতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে সৃষ্ট প্রভাব মোকাবিলায় সরকারকে আগামী অর্থবছরে প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার কোটি থেকে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার বিশাল ভর্তুকি ও প্রণোদনা দিতে হচ্ছে, যা মূলত গ্যাস, বিদ্যুৎ, সার ও খাদ্য আমদানিতে ব্যয় হবে।

বিশাল অংকের এই বাজেট ও ভর্তুকির ব্যয় মেটাতে অভ্যন্তরীণখাত থেকে রাজস্ব আদায়ের জন্য ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ও উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকার তুলনায় ৭১ হাজার কোটি টাকা এবং সংশোধিত রাজস্ব আদায়ের হারের চেয়ে অতিরিক্ত ১ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা বেশি। এই বিশাল রাজস্ব লক্ষ্যের মধ্যে প্রধান দায়িত্বটি থাকছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআরের ওপর, যাদের একাই কর হিসেবে আদায় করতে হবে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা।

এছাড়া, বাকি রাজস্বের মধ্যে এনবিআর-বহির্ভূত কর উৎস থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা এবং কর-বহির্ভূত বিভিন্ন খাত বা নন-ট্যাক্স রেভিনিউ থেকে ৬৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের প্রাক্কলন করা হয়েছে। এনবিআরের আওতায় এবার সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট খাতে ২ লাখ ২৮ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা। দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎস হিসেবে আয়কর ও মূলধনী মুনাফার ওপর কর থেকে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। তাছাড়া সম্পূরক শুল্ক থেকে ৮২ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা, আমদানি শুল্ক থেকে ৬১ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা, আবগারি শুল্ক থেকে ৭ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা এবং রপ্তানি শুল্ক থেকে ৯৯ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে।

বিশাল ব্যয়ের এই প্রস্তাবিত বাজেটে আয়ের তুলনায় খরচের পরিমাণ বেশি হওয়ায় দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি থেকে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকার মতো নিট বাজেট ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। এই বিশাল ঘাটতি মেটাতে সরকার বৈদেশিক উৎস থেকে প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা সাজিয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হবে। এই ঋণনির্ভরতা বৃদ্ধির কারণে বাজেটে ঋণের সুদ পরিশোধের পেছনেই চলে যাবে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। 

তবে, এই প্রতিকূলতার মাঝেই আগামী বছরের জন্য দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৬ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার একটি প্রগতিশীল লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।

নতুন বাজেটে কর কাঠামোয় বড় ওলটপালটের কারণে খুচরা বাজারে বেশকিছু পণ্যের দাম বাড়ার ও কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ধূমপান নিরুৎসাহিত করতে সিগারেট ও নিকোটিন পণ্যের দাম ব্যাপক ভাবে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে নিম্নস্তরের ১০ শলাকার সিগারেটের প্যাকেট ৬২ টাকা, মধ্যম স্তর ৯২ টাকা, উচ্চ স্তর ১৬০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরের দাম ২১০ টাকা নির্ধারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, সিগারেট ফিল্টার পেপার আমদানিতে ৩০০ শতাংশ ও আমদানিকৃত ইন্ডাস্ট্রিয়াল নিকোটিনের ওপর রেকর্ড ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের কারণে সব ধরনের সিগারেট ও নিকোটিন পাউচের দাম প্রতি প্যাকেটে অন্তত ৫ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাবে।

দেশীয় অ্যালকোহল উৎপাদনকে নিয়মের মধ্যে আনতে এবং মদজাতীয় পানীয় নিরুৎসাহিত করতে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির মতো দেশীয় মদের ওপর প্রতি লিটারে ৫০০ টাকা নির্দিষ্ট ভ্যাট আরোপের পাশাপাশি বিদেশি মদ আমদানির শুল্ক আরও বাড়ানো হচ্ছে। আমদানি করা হিমায়িত মাছ ও ড্রাইড ফ্রুটস বা কাজুবাদামের ওপর শুল্ক বাড়ানো হচ্ছে, যেখানে কাজুবাদামের আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে একলাফে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে এবং উচ্চ মূল্যের বিদেশি হিমায়িত মাছে ১৫ শতাংশ নতুন ভ্যাট বসানো হচ্ছে। 

নির্মাণখাতের জন্য খারাপ খবর হলো, অবকাঠামোর প্রধান উপাদান এমএস রডের উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট ও কর প্রায় ১০ শতাংশ বাড়ানো হচ্ছে এবং ১০টিরও বেশি ক্যাটাগরির বিদেশি প্রসাধনী ও বিলাসী পণ্যের ওপর আমদানি পর্যায়ে নতুন করে ২০ শতাংশ ভ্যাট আরোপের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, দাম কমার তালিকায় সাধারণ মধ্যবিত্তের জন্য সুখবর নিয়ে এসেছে দেশীয় ইলেকট্রনিকস খাত। দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে ফ্রিজ, রেফ্রিজারেটর এবং এয়ার কন্ডিশনার বা এসির উৎপাদন পর্যায়ের ভ্যাট বর্তমানের ১৫ শতাংশ থেকে একলাফে অর্ধেক কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। স্থানীয় মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ শিল্পের জন্য বিদ্যমান সাড়ে ৭ থেকে ১০ শতাংশ ভ্যাট সুবিধা ২০৩০ সাল পর্যন্ত বহাল রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি মোবাইল হ্যান্ডসেট তৈরির ২২টি কাঁচামাল আমদানির আগাম কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা হচ্ছে। 

লিপস্টিকের মতো কিছু প্রসাধনীর করযোগ্য আমদানি মূল্য প্রতি কেজিতে ৪০ ডলার থেকে কমিয়ে ৩০ ডলার নির্ধারণ করা হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানি সাশ্রয়ী ইলেকট্রিক গাড়ি বা ইভি আমদানিতে বিদ্যমান ৯৩ শতাংশের বিশাল শুল্ক-কর বড় আকারে কমানোর প্রস্তাব আসছে।

সাধারণ মানুষের পাত থেকে বাজারের চাপ কমাতে চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ ও ভোজ্যতেলসহ ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় ও কৃষিপণ্যের সরবরাহে বিদ্যমান ১ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত উৎসে কর কমিয়ে অভিন্ন শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করা হচ্ছে এবং নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করা হতে পারে। 

বিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ খাতকে উৎসাহিত করতে সোলার ইকুইপমেন্ট ও লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির মতো ক্যাপিটাল মেশিনারিজ আমদানিতে শুল্কের হার শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে এবং জীবন রক্ষাকারী বিভিন্ন মেডিকেল ইক্যুইপমেন্ট ও ওষুধের ওপর শুল্ক ছাড় পাওয়ায় চিকিৎসার খরচও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এবারের বাজেটের অন্যতম প্রধান ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হলো দেশে প্রথমবারের মতো ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের জন্য পাঁচ বছরের একটি দীর্ঘমেয়াদি আয়কর রোডম্যাপ ঘোষণা। মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কথা বিবেচনা করে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের জন্য বিদ্যমান করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করা হচ্ছে, যা ২০২৬-২৭ এবং ২০২৭-৮ করবর্ষের জন্য প্রযোজ্য হবে। এই রোডম্যাপ অনুযায়ী পরবর্তী দুই করবর্ষ অর্থাৎ ২০২৮-২৯ এবং ২০২৯-৩০ করবর্ষে করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকায় উন্নীত হবে এবং চূড়ান্ত ধাপে ২০৩০-৩১ করবর্ষে তা ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিশেষ শ্রেণির করদাতাদের মধ্যে নারী করদাতা এবং ৬৫ বছর বা তদ্বূর্ধ্ব বয়সী প্রবীণ নাগরিকদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ করবর্ষে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা, ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ করবর্ষে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ২০৩০-৩১ করবর্ষে ৫ লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। তৃতীয় লিঙ্গের করদাতা ও প্রতিবন্ধী করদাতাদের ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়সীমা ধাপে ধাপে যথাক্রমে ৫ লাখ, ৫ লাখ ২৫ হাজার এবং ৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত উন্নীত করার প্রস্তাব রয়েছে। আর গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং গণঅভ্যুত্থানের গেজেটভুক্ত ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ জন্য করমুক্ত আয়সীমা ২০২৬-২৭ এবং ২০২৭-২৮ করবর্ষে ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা, ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ করবর্ষে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ২০৩০-৩১ করবর্ষে সর্বোচ্চ ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এছাড়া, প্রথমবারের মতো প্রতিবন্ধী সন্তানের প্রত্যেক পিতা-মাতা বা আইনানুগ অভিভাবকদের জন্য অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা আয় করমুক্ত হিসেবে গণ্য করার বিশেষ আর্থিক সুবিধা রাখা হয়েছে।

করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের জন্য আগামী পাঁচ বছরের করহারও আগাম নির্ধারণের প্রস্তাব রাখা হচ্ছে, যেখানে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের করদাতাদের জন্য বিদ্যমান প্রগতিশীল করব্যবস্থা বহাল থাকলেও উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের ওপর তুলনামূলক বেশি কর আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ এবং ২০২৭-৮ করবর্ষে প্রথম ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় সম্পূর্ণ করমুক্ত থাকার পর পরবর্তী ৩ লাখ টাকার ওপর ১০ শতাংশ, পরবর্তী ৪ লাখ টাকার ওপর ১৫ শতাংশ, পরবর্তী ৫ লাখ টাকার ওপর ২০ শতাংশ এবং পরবর্তী ২০ লাখ টাকার ওপর ২৫ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। অর্থাৎ ৩৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয়ের জন্য সর্বোচ্চ করহার ২৫ শতাংশে সীমাবদ্ধ থাকবে এবং এর বেশি আয় হলে অবশিষ্ট অংশের ওপর ৩০ শতাংশ হারে কর আরোপ করা হবে। ২০২৮-২৯ এবং ২০২৯-৩০ করবর্ষে প্রথম ৪ লাখ টাকা করমুক্ত থাকার পর একই ধাপ অনুযায়ী ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কর আরোপের পর ২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা থেকে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত আয়ের ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ হারে এবং বছরে ৩ কোটি টাকার বেশি আয় হলে অতিরিক্ত অংশের ওপর সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ কর আরোপ করা হবে। 

২০৩০-৩১ করবর্ষেও একই ধরনের কাঠামো বহাল থাকবে, তবে করমুক্ত আয়সীমা আরও বাড়িয়ে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা করা হবে। এরপর ২ কোটি ৬৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত আয়ের ক্ষেত্রে করহার থাকবে ৩০ শতাংশ এবং ৩ কোটি টাকার বেশি আয়ের ক্ষেত্রে ৩৫ শতাংশ কর আরোপ করা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি কর রোডম্যাপ ঘোষণার মাধ্যমে করব্যবস্থাকে আরও প্রগতিশীল, পূর্বানুমানযোগ্য ও স্থিতিশীল করা সম্ভব হবে। সবমিলিয়ে, নিত্যপণ্যের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, রেকর্ড রাজস্বের টার্গেট পূরণ করা এবং ব্যাংক খাতের ওপর চাপ না বাড়িয়ে বিপুল এই ঘাটতি বাজেট সফলভাবে বাস্তবায়ন করাই হবে বর্তমান সরকারের জন্য মূল পরীক্ষা।

এমএ




LATEST NEWS
MOST READ
আরও পড়ুন
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000.
Phone: PABX- 41053001-06; Online: 41053014; Advertisement: 41053012.
E-mail: district@dailyobserverbd.com, news©dailyobserverbd.com, advertisement©dailyobserverbd.com, For Online Edition: mailobserverbd©gmail.com
🔝
close