পাবনার চাটমোহর উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের নটাবাড়িয়া গ্রামে হাশেম প্রামাণিক হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) নটাবাড়িয়া বাজারে আয়োজিত এ মানববন্ধনে নিহত হাশেম প্রামাণিকের স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, কৃষকদলের বহিষ্কৃত নেতা আব্দুল মমিনের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি গ্রামবাসীর ওপর হামলা চালায়। ওই হামলায় হাশেম প্রামাণিকসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
বক্তাদের দাবি, ভেজাল দুধ উৎপাদনের তথ্য গোয়েন্দা সংস্থাকে দেওয়ার অভিযোগে এ হামলার ঘটনা ঘটে। তারা আরও অভিযোগ করেন, হামলার পর ভুক্তভোগীরা থানায় মামলা করতে গেলে প্রথমে পুলিশ মামলা নিতে অনীহা দেখায়। পরবর্তীতে আহত হাশেম প্রামাণিক গত ৫ জুন রাতে মারা গেলে হত্যা মামলা গ্রহণ করা হয়। তবে মামলার প্রধান আসামি আব্দুল মমিন এখনও গ্রেপ্তার হয়নি।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুলিশ কয়েকবার এলাকায় গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এ কারণে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নিহত হাশেম প্রামাণিকের ছেলে সজিব প্রামাণিক, ভাই সাইজুদ্দিন প্রামাণিক, সাইদুর প্রামাণিক, মহরম প্রামাণিক, আলহাজ প্রামাণিক ও রবিউল প্রামাণিক, বোন সেলিনা খাতুন, স্ত্রী জহুরা খাতুন, ছেলে সিদ্দিক, মেয়ে তৈয়্যবা খাতুন, জাহাঙ্গীর সরকার, লালন প্রামাণিক, নাঈম খলিফা, আন্না খাতুনসহ আরও অনেকে।
এ বিষয়ে চাটমোহর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. অলিউর রহমান বলেন, “হাশেম প্রামাণিক হত্যা মামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ বিভিন্নভাবে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।”
উল্লেখ্য, এর আগে পাবনা জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ অভিযানে আব্দুল মমিনের দুধ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা থেকে প্রায় ৬০০ লিটার ভেজাল দুধ জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল।
আরআরটি/ এসআর