পাবনা সদর উপজেলায় ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী রিয়া খাতুনকে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের জেরে আসামিদের বাড়ি-ঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা স্থানীয় বাসিন্দা।
মঙ্গলবার সকালে ঢাকা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজনের মৃত্যু হয়। এর আগে গত সোমবার বিকেলে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের তজির উদ্দিন শেখের ছেলে সুমন শেখ, পার্শ্ববর্তী নতুনপাড়া গ্রামের শুকুর হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম সাব্বির এবং একই এলাকার মৃত ইউসুফের ছেলে সাপু।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৩ জুন) বিকেলে পাবনার ভাড়ারা এলাকার পদ্মা নদীতে রিয়া খাতুন (১৫) এর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন বৃহস্পতিবার (৪ জুন) তার মরদেহ দাফন করা হয়। দাফন শেষে উত্তজিত জনতা অভিযুক্ত নাইমের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে বাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে আশপাশের বেশ কয়েকজন দগ্ধ হন।
তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অগ্নিকাণ্ডের সময় অভিযুক্ত পক্ষের কেউ বাড়িতে ছিলেন না। দগ্ধরা সবাই প্রতিবেশী ও আশপাশের মানুষ এবং উৎসুক জনতা।
এ বিষয়ে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল একজন এবং আজকে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
উল্লেখ, পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের পীরপুরে পদ্মা নদীতে রিয়া খাতুন (১৫) নামের এক স্কুলছাত্রীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই খালিদ হাসান বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) তিনজনকে আসামি করে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
পরে পুলিশ রিয়ার কথিত প্রেমিক নাইমসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। অভিযুক্তরা রিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহত রিয়া সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের আজিজল প্রামাণিকের মেয়ে।
আর ধর্ষণ ও হত্যায় অভিযুক্তরা হলেন- মৃত কাশেম প্রামানিকের ছেলে নাইম প্রামানিক (২২), শফিক শেখের ছেলে ইয়াছিন শেখ (২১) ও শিমুল প্রামানিকের ছেলে তুহিন প্রামানিক (২০)।
পি/ এএম