বিশ্ব ফুটবলের মহাযজ্ঞ বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। উত্তর আমেরিকার মাটিতে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপকে ঘিরে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। কে হবে চ্যাম্পিয়ন, কোন দল সবচেয়ে শক্তিশালী, আর কারা চমক দেখাবে—এসব প্রশ্নই এখন ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহের কেন্দ্রে।
বিশ্লেষক, পরিসংখ্যানবিদ ও বিভিন্ন পূর্বাভাসভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী এবারের বিশ্বকাপের শিরোপা দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে স্পেন, ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ইংল্যান্ড ও পর্তুগাল। ক্রীড়া বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল্যায়ন এবং বিভিন্ন বাজির বাজারের হিসাবেও এই ছয় দলকে প্রধান দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবারও অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী দল। কোচ লিওনেল স্কালোনির অধীনে গত কয়েক বছরে অসাধারণ ধারাবাহিকতা দেখিয়েছে দলটি। বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা ও আন্তমহাদেশীয় চ্যাম্পিয়নদের লড়াইয়ের শিরোপা জয়ের অভিজ্ঞতা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। অধিনায়ক লিওনেল মেসির নেতৃত্বে এনজো ফার্নান্দেজ, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, জুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্টিনেজদের নিয়ে গড়া দলটি শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে।
তবে অনেক পূর্বাভাসে সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হচ্ছে স্পেনকে। সদ্য ইউরোপসেরা দলটির খেলোয়াড় তালিকায় রয়েছে তরুণ ও অভিজ্ঞদের দুর্দান্ত সমন্বয়। লামিনে ইয়ামাল, পেদ্রি, গাভি, রদ্রি ও দানি ওলমোদের নিয়ে গড়া দলটিকে ২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দলগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ফ্রান্সও রয়েছে সমান শক্ত অবস্থানে। অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের নেতৃত্বে উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে, অরেলিয়েন চুয়ামেনি ও এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গাদের নিয়ে গড়া দলটি টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছে। সাম্প্রতিক দুই বিশ্বকাপেই ফাইনাল খেলা ফরাসিরা এখনও অনেক বিশ্লেষকের চোখে সবচেয়ে ভয়ংকর প্রতিপক্ষ।
ব্রাজিলকে ঘিরে প্রত্যাশা যেমন আছে, তেমনি রয়েছে কিছু প্রশ্নও। ২৪ বছর ধরে বিশ্বকাপ শিরোপার অপেক্ষায় থাকা সেলেসাওরা এবার খেলবে ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া, ব্রুনো গিমারাইস, আলিসন ও নেইমারকে ঘিরে নতুন স্বপ্ন দেখছে ব্রাজিল। তবে নেইমারের শারীরিক সক্ষমতা এবং দলের ধারাবাহিকতা নিয়ে কিছু সংশয় এখনও রয়ে গেছে।
শিরোপা দৌড়ে পিছিয়ে নেই ইংল্যান্ডও। হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহ্যাম, বুকায়ো সাকা ও ফিল ফোডেনদের নিয়ে গড়া দলটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় আসরে ধারাবাহিকভাবে ভালো করেছে। এবার দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে শিরোপা জয়ের লক্ষ্য তাদের।
অন্যদিকে পর্তুগালকে অনেকেই ‘অঘটন ঘটানোর সামর্থ্য থাকা দল’ হিসেবে দেখলেও দলটির শক্তি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপে ব্রুনো ফার্নান্দেজ, রাফায়েল লেয়াও, জোয়াও নেভেস ও ভিতিনিয়াদের নিয়ে গড়া দলটি যে কোনো প্রতিপক্ষকে হারানোর সামর্থ্য রাখে।
এবারের বিশ্বকাপে বিশেষ নজর থাকবে কয়েকজন মহাতারকার দিকে। মেসি, রোনালদো ও নেইমারের সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ হওয়ায় তাদের ঘিরে আবেগ থাকবে অন্য মাত্রার। একই সঙ্গে এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস, বেলিংহ্যাম, ইয়ামাল, কেইন, লাউতারো মার্টিনেজ ও জুলিয়ান আলভারেজের পারফরম্যান্সও আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে। সর্বোচ্চ গোলদাতার স্বীকৃতি পাওয়ার লড়াইয়েও বারবার উঠে আসছে এমবাপ্পে, কেইন, ইয়ামাল, মেসি ও রোনালদোর নাম।
সব হিসাব-নিকাশের পর একটি বিষয় স্পষ্ট—এবারের বিশ্বকাপে নিরঙ্কুশ কোনো ফেভারিট নেই। স্পেন ও ফ্রান্সকে সামান্য এগিয়ে রাখা হলেও আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ইংল্যান্ড ও পর্তুগালের মতো দলগুলোও সমানভাবে শিরোপা জয়ের সামর্থ্য রাখে। তাই ফুটবলপ্রেমীদের জন্য সামনে অপেক্ষা করছে অনিশ্চয়তা, উত্তেজনা আর রোমাঞ্চে ভরা এক বিশ্বকাপ।
এসআর