সাত বছর পর আবারও ভারতের কাছে পরাজয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে গ্রুপসেরা হওয়ার লড়াইয়ে স্বাগতিক ভারতের কাছে ৩-০ গোলে হেরে ‘বি’ গ্রুপের রানার্সআপ হিসেবে সেমিফাইনালে উঠেছে পিটার বাটলারের শিষ্যরা।
রোববার গোয়ার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে গোল করেন পেয়ারি সাসা, লিন্ডা কম ও মালবিকা। এর ফলে ২০১৯ সালের পর আবারও বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় পেল ভারত।
মালদ্বীপকে হারিয়ে আগেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছিল দুই দল। তবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণের ম্যাচে বাংলাদেশকে স্পষ্ট ব্যবধানে হারিয়ে শীর্ষস্থান দখল করে ভারত। আগামী ৩ জুন সেমিফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ নেপাল। অন্য সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ভারত ও ভুটান।
ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। খেলার দ্বিতীয় মিনিটের আগেই ভারতীয় ডিফেন্ডারের ভুলে বল পেয়ে এককভাবে গোলরক্ষকের সামনে চলে যান আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী। তবে তার নেওয়া শট সরাসরি গোলরক্ষকের হাতে চলে গেলে সুযোগটি নষ্ট হয়।
প্রথমার্ধে বাংলাদেশ বেশ কয়েকটি আক্রমণ গড়ে তুললেও গোলের দেখা পায়নি। উল্টো ৩৬তম মিনিটে রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে ভারত এগিয়ে যায়। ডিফেন্ডার কোহাতি কিসকুর ক্লিয়ারেন্স থেকে পাওয়া বলে পেয়ারি সাসা কোনাকুনি শটে গোল করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন।
গোল হজমের পর সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায় বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুটি গোল হজম করে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে তারা। ৭৮তম মিনিটে বক্সের মধ্যে মালবিকাকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় ভারত। বদলি খেলোয়াড় লিন্ডা কম স্পট কিক থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।
যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ডান দিক থেকে আসা ক্রসে ফাঁকায় বল পেয়ে মালবিকা সহজেই জালে পাঠালে ৩-০ গোলের জয় নিশ্চিত করে ভারত।
ম্যাচে বাংলাদেশের আক্রমণভাগ বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করলেও ফিনিশিংয়ে দুর্বলতা ছিল স্পষ্ট। একই সঙ্গে রক্ষণভাগের একাধিক ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্বাগতিকরা জয় তুলে নেয়। মারিয়া মান্দা, ঋতুপর্ণা চাকমা ও শামসুন্নাহার জুনিয়ররা উইং দিয়ে আক্রমণ গড়লেও গোলমুখে কার্যকর উপস্থিতির অভাব ছিল বাংলাদেশের।
টুর্নামেন্টের শুরুতে মালদ্বীপকে ৪-২ গোলে হারিয়ে শুভ সূচনা করলেও ভারতের বিপক্ষে রক্ষণভাগের দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সেমিফাইনালে শক্তিশালী নেপালের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে সেই দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠাই এখন বাংলাদেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
এসআর