সিলেট টেস্টে পেসারদের জন্য সহায়ক উইকেটে বাংলাদেশি ব্যাটারদের শুরুটা ছিল বেশ কঠিন। নতুন বলে পাকিস্তানি পেসার খুররাম শেহজাদ ও মোহাম্মদ আব্বাসের সামনে টপ অর্ডার বারবার চাপে পড়ে। বিশেষ করে জয় ও মুমিনুলদের ব্যাটিংয়ে অনভিজ্ঞতা স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।
তবে এক প্রান্তে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকেন লিটন দাস। তার দুর্দান্ত সেঞ্চুরির ওপর ভর করে বাংলাদেশ দল আড়াইশ রানের গণ্ডি পেরিয়ে যায়।
সিলেট টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৭৭ ওভার ব্যাট করে সবকটি উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ সংগ্রহ করে ২৭৮ রান। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১২৬ রান করেন লিটন দাস।
ইনিংসের শুরুটা ছিল হতাশাজনক। মোহাম্মদ আব্বাসের করা প্রথম বলেই লাইন মিস করেন জয়, তবে বলটি লেগ স্টাম্পের বাইরে থাকায় এলবিডব্লিউর হাত থেকে বেঁচে যান। পরের বলেই স্লিপে ক্যাচ দিয়ে শূন্য রানে ফিরে যান তিনি।
শুরুর ধাক্কা সামলে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন মুমিনুল হক ও তানজিদ। কিছুটা আশাব্যঞ্জক ব্যাটিংয়ের আভাস দিলেও ৩৪ বলে ২৬ রান করে আউট হন তানজিদ। এতে ভেঙে যায় ৪৪ রানের দ্বিতীয় উইকেট জুটি।
এরপর দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার মুমিনুল-শান্ত’র জুটি বেশিক্ষণ টিকেনি। খুররম শাহজাদের দারুণ এক ডেলিভারি মুমিনুলের ব্যাট ফাঁকি দিয়ে অফ স্টাম্প ভেঙে দেয়। ৬৩ রানে ৩ উইকেট হারালেও বাংলাদেশকে শক্ত ভিত গড়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন শান্ত-মুশফিক। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা শান্ত উইকেটে থিতু হয়েও ফিরেছেন শট খেলতে গিয়ে দুটানায় পড়ে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে। তার ব্যাট থেকে আসে ২৯ রান।
এরপর মুশফিকও আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি। ৬৪ বলে ২৩ রান করে শাহজাদের বলে লেগ বিফোরের শিকার হয়েছেন তিনি। সাতে নেমে পুরোপুরি ব্যর্থ মেহেদি হাসান মিরাজ। ৪ রান করে তিনি ফিরলে ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারায় দল।
দলের এমন বিপদে হাল ধরেন লিটন। তাকে বেশ কিছুক্ষণ সঙ্গ দিয়েছেন তাইজুল ইসলাম। মাত্র ১৬ রান করলেও তিনি বল খেলেছেন ৪০টি। যা সাহায্য করেছে আরেক প্রান্তে থাকা লিটনকে। তাইজুলের পর তাসকিনকে নিয়ে এগোনোর চেষ্টা করেন লিটন। তবে তাসকিন ১৩ বলের বেশি খেলতে পারেননি।
এমন ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়েও একাই লড়াই করছেন তিনি। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে তুলে নিয়েছেন ব্যক্তিগত সেঞ্চুরি। তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে লিটন খেলেছেন ১৩৫ বল। লাল বলে এটি তার ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত ১২৬ রানে ফিরেছেন লিটন।
এসআর