মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম দিনে শক্ত অবস্থানে রয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতে বিপর্যয়ে পড়লেও দিন শেষে ৮৫ ওভারে ৪ উইকেটে ৩০১ রান তুলে বড় সংগ্রহের ভিত গড়েছে টাইগাররা।
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ১৩০ বলে ১০১ রান করে ক্যারিয়ারের নবম টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। অন্যদিকে মুমিনুল হক ২০০ বলে ৯১ রান করে মাত্র ৯ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেন। মুশফিকুর রহিম ৪৮ রান এবং লিটন দাস ৮ রানে অপরাজিত থেকে দ্বিতীয় দিন শুরু করবেন।
দিনের শুরুটা ভালো ছিল না বাংলাদেশের জন্য। মাত্র ৩১ রানেই ফিরে যান দুই ওপেনার। মাহমুদুল হাসান জয় করেন ৮ রান, আর সাদমান ইসলাম করেন ১৩ রান। এতে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। তবে তৃতীয় উইকেটে শান্ত ও মুমিনুল মিলে ১৭০ রানের দুর্দান্ত জুটি গড়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন।
শান্ত ছিলেন আক্রমণাত্মক মেজাজে। ১২৯ বলে ১২টি চার ও ২টি ছক্কায় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। তবে সেঞ্চুরির পরের বলেই এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়কদের মধ্যে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির তালিকায় এখন শীর্ষে শান্ত। তিনি ছাড়িয়ে গেছেন মুশফিকুর রহিমের ৪ সেঞ্চুরির রেকর্ড।
অন্যদিকে মুমিনুল হক খেলেন ধৈর্যশীল ও দায়িত্বশীল ইনিংস। ক্যারিয়ারের ১৪তম টেস্ট সেঞ্চুরির খুব কাছাকাছি গিয়েও তিনি ৯১ রানে নোমান আলীর বলে এলবিডব্লিউ হয়ে আউট হন। এতে বড় আক্ষেপ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় এই অভিজ্ঞ ব্যাটারকে।
দিনের শেষ সেশনে দ্বিতীয় নতুন বল নিয়ে পাকিস্তান কিছুটা চাপ তৈরি করার চেষ্টা করে। তবে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম দৃঢ়তার সঙ্গে ব্যাটিং করেন। ৪৮ রানে অপরাজিত থেকে তিনি দলকে ৩০০ রানের গণ্ডি পার করান। তার সঙ্গে ৮ রানে অপরাজিত আছেন লিটন দাস।
পাকিস্তানের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন মোহাম্মদ আব্বাস। তিনি একটি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া শাহিন আফ্রিদি ও নোমান আলী নেন একটি করে উইকেট। তবে দিনের শেষ ভাগে খুব বেশি সুবিধা করতে পারেননি পাকিস্তানি বোলাররা।
মিরপুরের সবুজ উইকেটে টসে হেরে আগে ব্যাট করা সব সময়ই চ্যালেঞ্জিং। সেই জায়গা থেকে ৩১ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ৩০০-এর বেশি রান তোলা বাংলাদেশের জন্য বড় অর্জন। এখন দ্বিতীয় দিনে মুশফিক ও লিটনের ব্যাটে দল কতদূর যেতে পারে, সেটিই দেখার বিষয়।
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৮৫ ওভারে ৩০১/৪ (শান্ত ১০১, মুমিনুল ৯১; আব্বাস ১/৫১, শাহিন আফ্রিদি ১/৬৭)।
আরএন