রাজশাহীর পুঠিয়ায় চলতি বোরো মৌসুমকে সামনে রেখে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় কৃষকরা ধানের বীজতলা তৈরির কাজে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন।
দাম ভালো পাওয়ায় তুলনায় চাষিরা এবার অনেক বেশী জমিতে ধান রোপণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
চাষিরা ঠাণ্ডা ও ঘন কুয়াশায় বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করলেও ঝামেলামুক্ত থাকতে অনেকেই শুকনো বীজতলায় আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত সময়ে বোরো ধানের চারা তৈরির একমাত্র ভরসা ছিল কাঁদা মাটির বীজতলা। তাতে মাত্রাতিরিক্ত ঠাণ্ডা ও ঘন কুয়াশার কারণে বেশির ভাগ বীজতলা নষ্ট হয়ে চাষিরা ক্ষতির মুখে পড়তেন। অনেক চাষিদের ক্ষতিগ্রস্থ বীজতলায় দ্বিতীয় দফায় বীজ বপণ করতে হতো।
তবে কৃষি কাজে বর্তমানে চাষিরা আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির যুগে প্রবেশ করেছেন। চারা উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় গত কয়েক বছর ধরে সচেতন চাষিরা স্বল্প পরিসরে আধুনিক ও ঝুঁকিমুক্ত শুকনো বীজতলায় বোরো ধানের চারা উৎপাদন শুরু করেছেন। এতে করে বোরো ধানের বীজতলাগুলো কোল্ড ইনজুরি মুক্ত হয়। অপরদিকে বীজের অঙ্কুরিত ক্ষমতাও অক্ষুন্ন থাকে অনেক বেশি।
স্থানীয় চাষিরা বলছেন, কাঁদাযুক্ত মাটির চেয়ে শুকনো বীজতলা তৈরি করতে অল্প জমির প্রয়োজন হয়। আর স্বল্প সময়ে শুকনো বীজতলা থেকে অনেক উন্নতমানের চারা তৈরির সুফল পাচ্ছেন তারা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিগত বছরের তুলনায় চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলা প্রায় ৭ একর জমিতে শুকনো বীজতলায় বোরো ধানের চারা তৈরির প্রস্তুতি চলছে। গত কয়েক বছরে শুকনো বীজতলার সুফল পেয়ে অনেক চাষিরা এতে আগ্রহ হয়ে উঠছেন। আর এতে করে ঠাণ্ডা ও ঘন কুয়াশার কারণে বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা অনেক কম।
উপ-সহকারী কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, সাধারণত বেলে দো-আঁশ মাটি শুকনো বীজতলা তৈরির জন্য খুবই উপযোগী। মাটিতে চাষের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা সম্পন্ন হিসেবে চারার বেড তৈরি করে নিতে হয়। এরপর সামান্য অঙ্কুরিত বীজগুলো বেডে ছিটিয়ে দিতে হবে। এরপর শুকনো গোবর মিশ্রিত মাটি দিয়ে ধানের বীজগুলো ঢেকে দিতে হবে।
আর্দ্রতা বজায় রাখতে বীজ বপণের সঙ্গে সঙ্গে পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখতে হয়। প্রয়োজনে হালকা স্প্রে মেশিনের মাধ্যমে পানি দেওয়া যেতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় ২০/২৫ দিনের মধ্যে ধানের চারা রোপণ উপযুক্ত হিসেবে তৈরি করা সম্ভব।
কৃষি পরামর্শ নিতে আসা উপজেলার শিলমাড়িয়া এলাকার রহমান আলী ও ভালুকগাছি এলাকার জাকির হোসেন বলেন, বৈরী আবহাওয়া ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে কাঁদা মাটিতে ধানের বীজতলা তৈরি করে আমাদের ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। অনেকের বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানে গত কয়েক বছর যাবৎ শুকনো বীজতলায় চারা উৎপাদনের পদ্ধতি এই এলাকায় এক নতুন সম্ভবনার দুয়ার খুলেছে। এখন অল্প খরচে ও সল্প সময়ে শুকনো বোরো বীজতলায় আশানুরুপ চারা উৎপাদন সম্ভব।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামসুন নাহার ভূঁইয়া বলেন, আগে বৈরী আবহাওয়া ও ঠাণ্ডাজনিত কারণে অনেক বোরো বীজতলা নষ্ট হয়ে যেত। বর্তমানে চাষিরা শুকনো বীজতলায় বেশি আগ্রহী। ইতিমধ্যে উপজেলার অনেক এলাকার কৃষকরা শুকনো বীজতলায় চারা তৈরি শুরু করছেন। এ বিষয়ে কৃষি অফিসের লোকজন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে ব্যাপক প্রচারণা এবং সার্বিক পরামর্শ দিচ্ছেন।
-আরএইচ/এমএ